গানের প্রযোজকদের নজর এখন নাটকের দিকে
গানের প্রযোজকদের নজর এখন নাটকের দিকেকোলাজ

‘ভালোবাসা দিবসে প্রকাশিত অনেক নাটকই আলোচনায় আছে। কিন্তু মিউজিক ভিডিওর কোনো আলোচনা নাই, ঘটনা কী?’ ফেসবুকে ‘বাংলা নাটক’ নামের একটি গ্রুপে এটি লিখেছেন জনি মিয়া নামের এক ব্যক্তি। এ পোস্টে মন্তব্য করে কে এম শরীফ নামের আরেক ব্যক্তি লিখেছেন, ‘আগে একটি গানের ভিডিও বের হলে যে মেকিং, গানের যে কথা থাকত, তা মানুষকে বাধ্য করত গানটি বারবার শুনতে। এখনকার মিউজিক ভিডিওতে সেগুলো নেই বললেই চলে। তাই সবাই মিউজিক ভিডিওগুলো ভুলতে বসেছে।’ এম ডি হিমেল মন্তব্য করেছেন, ‘বাংলা সিনেমার মতো বাংলা গানের বেহাল দশা এখন।’ শরিফ মাহমুদ লিখেছেন, ‘ভালো গান হয় না, তাই আলোচনা–সমালোচনা নেই। এককথায় ভরাডুবি।’ ভালোবাসা দিবসের গান নিয়ে এটা ছিল একটি ফেসবুকভিত্তিক গ্রুপের প্রতিক্রিয়া।

এ বছর ভালোবাসা দিবসে বেরিয়েছে বেশ কিছু লিরিক্যাল ভিডিও আর সংগীতচিত্র। সেসব নিয়ে তেমন আলোচনা নেই। হাতে গোনা দু–একটি বাদে অন্য গানগুলো নিয়ে তেমন উচ্ছ্বসিত প্রশংসা দেখা যায়নি কোথাও। ভালো গান শ্রোতারা ফেসবুকে ভাগাভাগি করেন, টিকটকে সেসব নিয়ে ভিডিও তৈরি করেন। এবারের গানগুলো নিয়ে সে রকম কিছু দেখা যায়নি বললেই চলে।

বিজ্ঞাপন

এককথায় এ বছরের ভালোবাসার গান যেন ছিল অনেকটাই নিস্তরঙ্গ। সংগীত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, গানের ভিডিওর নির্মাণের প্রতি অডিও-ভিডিও প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহ কমে গেছে। এবার ভালোবাসা দিবসের প্রকাশিত গানের সংখ্যা কম। যেগুলো তৈরি হয়েছে, সেগুলোর বাজেট ছিল কম। এ কারণে সংগীতচিত্রের মান ঠিক থাকছে না। ফলে আলোচনাও কম।

default-image

অডিও–ভিডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এমআইবি) হিসাব বলছে, এ বছর ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে ইউটিউবে মুক্তি পেয়েছে দেড় শতাধিক গান। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও অডিও–ভিডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সিএমভির কর্ণধার সাহেদ আলী জানান, এবার গানের সংখ্যা কম। তাই হয়তো আলোচনাও কম হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘অনেক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের নতুন গানে বিনিয়োগের আগ্রহ কমে গেছে। এ কারণে আলাদা করে গানের ভিডিও কম তৈরি হচ্ছে। এখন তো কেবল অডিও করলেই চলে না।’ কেন? সাহেদ আলী বলেন, ‘গানের প্রধান আয় ছিল মোবাইল কোম্পানির বিভিন্ন সেবা থেকে। এখন সেই আয় বন্ধের পথে।’ কিন্তু এই কম সংখ্যার মধ্যেও মানসম্পন্ন গান কি ছিল? এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আলোচনায় আসতে হলে অবশ্যই শ্রোতা–দর্শকের কাছে গান পৌঁছাতে হবে। সেই পথও বন্ধের উপক্রম হয়েছে।

নানা কারণে মোবাইল কোম্পানির অ্যাপসগুলো বন্ধের পথে। আগে অ্যাপসের মাধ্যমে নতুন গানগুলোর যে প্রমোশন হতো, এখন তা আর হচ্ছে না। ফলে গানগুলো শ্রোতাদের কাছে পৌঁছানোর আরেকটি পথ বন্ধ হয়ে গেল।’

default-image

এখন অনেকেই আলাদা করে সংগীতচিত্রের বদলে নাটক নির্মাণের দিকে ঝুঁকেছেন। নাটকের মধ্যে রাখা হচ্ছে ‘কম খরচের একটি গান’। নাটকের ফুটেজ ব্যবহৃত হচ্ছে সংগীতচিত্র হিসেবে। কেবল সংগীতচিত্র নির্মাণের তাগিদে ভিন্ন কোনো আয়োজন কমে যাচ্ছে ক্রমশ। ফলে গানের প্রতি আলাদা যে মনোযোগ থাকা দরকার, সেখানেও ঘাটতি রয়ে যাচ্ছে। সংগীত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এই নাটক ও গানকে আলাদা বিষয়বস্তু হিসেবে প্রকাশ করে সেখান থেকে আয় করছে। এ প্রসঙ্গে জ্যেষ্ঠ শিল্পী কুমার বিশ্বজিৎ বলেন, ‘আমরা শুরু থেকে বাজেট বাড়িয়ে গানে এত সব অর্নামেন্ট ব্যবহার করেছি যে এখন সেই খরচ আর করছেন না প্রযোজকেরা। এক গানের বাজেটে এখন দুটি নাটক নির্মাণ করা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে, গানের প্রযোজকদের নজর এখন নাটকের দিকে। এখন কনটেন্ট হয়ে গেছে প্রোডাক্ট। এতে করে সম্মানের জায়গা কমেছে। কিন্তু সৃষ্টিশীল কোনো কিছুই প্রোডাক্ট হতে পারে না।’

বিজ্ঞাপন

ভালোবাসা দিবসে প্রকাশিত বেশ কিছু গান অনুসরণ করে দেখা গেছে, প্রকাশের সপ্তাহখানেকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দর্শক সেসব দেখেছেন এবং প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। অনুপম মিউজিক থেকে প্রকাশিত কনা ও ইমরানের দ্বৈতকণ্ঠে ‘হদয় একটি আয়না’ গানটি গত রোববার বিকেল পর্যন্ত দেখা হয়েছে সাড়ে ১৩ লাখ বার। এরপরই আছে নোবেলের ‘অসহায়’ গানটি । সাউন্ডটেকের ইউটিউবে প্রকাশিত এই গান দেখা হয়েছে সাড়ে ১১ লাখের বেশি।

default-image

হাবিব ওয়াহিদ ও সিঁথি সাহার দ্বৈত কণ্ঠে ‘উড়ে যায় মুনিয়া’ গানটি হাবিবের ইউটিউব চ্যানেল থেকে দেখা হয়েছে ৪ লাখ বার, ধ্রুব মিউজিক স্টেশনের ইউটিউব চ্যানেলে সাড়ে ৩ লাখ। তামান্না প্রমি ও ভারতের পাপনের গাওয়া ‘হৃদয়ে তোমার ঠিকানা’, আসিফ ও দিঠি আনোয়ারের ‘বলোনা বলোনা’, মাহতিম শাকিব ও প্রত্যয় হিরনের ‘মনটা অবাধ্য’ গানগুলো ছাড়াও বেশ কয়েকজন শিল্পীর গানে দর্শক ভিউ লাখ পেরিয়েছে। এ ছাড়া ভালোবাসা দিবসে ইউটিউবে আসা প্রিতম হাসান ও দোলা রহমানের গাওয়া ‘মিশন এক্সট্রিম’ ছবির গান ‘জানি তুমি ছিলে’ দর্শক ভিউ দুই লাখের ওপরে।

গান থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন