ন্যান্‌সির মামলায় জামিন, পাল্টা মামলার কথা ভাবছেন গায়ক আসিফ
ন্যান্‌সির মামলায় জামিন, পাল্টা মামলার কথা ভাবছেন গায়ক আসিফকোলাজ ছবি

সংগীতশিল্পী ন্যান্‌সির দায়ের করা মামলায় স্থায়ী জামিন পেয়েছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। আজ রোববার দুপুরে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আব্দুল হাই এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ৮ এপ্রিল তাঁকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশও দেন। জামিন শেষে ঢাকায় ফেরার পথে প্রথম আলোকে খবরটি জানান আসিফ।
কথা প্রসঙ্গে আসিফ জানিয়ে রাখলেন, মামলার মাধ্যমে তাঁর ভোগান্তি তৈরি ও মানহানির ঘটনায় তিনিও মামলার কথা ভাবছেন। আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে কয়েক দিনের মধ্যে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান।

default-image

ঢাকায় ফেরার পথে আসিফ প্রথম আলোকে বলেন, ‘২০১৮ সালে আমি যখন জেলে যাই, তার আগপর্যন্ত ন্যান্‌সির সঙ্গে আমার কোনো সমস্যা ছিল না। আমি যখন জেলে ঢুকলাম, তখন জানতে পারলাম, ন্যান্‌সি টানা কয়েক দিন আমার নামে বিষোদ্‌গার করল। তখনো কিন্তু আমার কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়নি। জেল থেকে বের হলে পরিবারের সবাই এবং আমার আইনজীবী বললেন, ন্যান্‌সির বিরুদ্ধে আমার মামলায় যাওয়া উচিত। আমি সবাইকে বললাম, ওর বিরুদ্ধে আমার মামলায় যাওয়াটা ঠিক হবে না মনে হয়। তা ছাড়া মামলা বিষয়টাই আমার ভালোও লাগে না। কারাগার থেকে বের হওয়ার পর ২০১৮ সালে আমি একাধিক অনুষ্ঠানে কিছু কথা বলি। ওই কথাগুলো ন্যান্‌সির মামলার দুই বছর আগের। দুই বছর আগের একটা ঘটনাকে ঘিরে দুই বছর পর ২০২০ সালে মামলা করল কেন? এই বিষয়টা আমি বিজ্ঞ আদালতকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। আদালত আমার কথা আমলে নিয়েছেন। ১ হাজার টাকায় মুচলেকায় জামিন দিয়েছেন।’

বিজ্ঞাপন
default-image

আদালতের রায়ে সন্তুষ্ট আসিফ আকবর। তিনি বলেন, ‘আদালতকে আমি বোঝাতে পেরেছি। বিজ্ঞ আদালতও আমার কথায় সন্তুষ্ট। শুধু শুধু আমার মানহানি করা হলো এবং আমাকে হয়রানি করল। আমি তো বলব, ন্যান্‌সি যে অভিযোগগুলো করছে, ৫০০ বছরেও তা প্রমাণ করতে পারবে না।’
কথায় কথায় আসিফ জানালেন, তাঁর বিরুদ্ধে যাঁরাই এত দিন মামলা করেছেন, তাঁদের সবার বিরুদ্ধে পাল্টা মামলার কথা ভাবছেন তিনি। সব তথ্যপ্রমাণ জোগাড় করছেন। আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে বাকিটা ঠিক করবেন।

default-image

এদিকে আসিফের আইনজীবী রেজাউল কবির বলেন, আসিফ আকবর আদালতে হাজির হলে বিচারক বিশেষ বিবেচনায় তাঁর জামিনের আদেশ দেন। এর আগে গত বছরের ১০ জুলাই ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানায় আসিফের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন ন্যান্‌সি। পরে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়ায় ময়মনসিংহের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রসিকিউশন জমা দেয় পুলিশ। সেই পরিপ্রেক্ষিতে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল আদালতের বিচারক আব্দুল হাই ১৪ ফেব্রুয়ারি গায়ক আসিফকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।

default-image

ন্যান্‌সি তাঁর অভিযোগে লিখেছেন, তাঁর কণ্ঠ সফলতায় হিংসাত্মক মনোভাব পোষণ করে আসিফ আকবর বিভিন্ন সময়ে ইউটিউব, রেডিও ও টিভি চ্যানেলে তাঁর বিরুদ্ধে মানহানিকর, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করেছেন। এতে তাঁর মানহানি ও সংগীতজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া আসিফ তাঁর গাওয়া ১২টি গান অনুমতি না নিয়ে স্বত্ব বিক্রি করে দেন। ১২টি গানের স্বত্ব দাবি করলে রোষানলে পড়তে হয়েছিল। যার পরিপ্রেক্ষিতে আসিফ বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ইউটিউব ও টিভি চ্যানেলে বিভ্রান্তিকর তথ্যসহ কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন বলে দাবি ন্যান্‌সির।

বিজ্ঞাপন
গান থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন