করোনার সঙ্গে বালাসুব্রামানিয়ামের লড়াইটা ছিল বেশ দীর্ঘ
করোনার সঙ্গে বালাসুব্রামানিয়ামের লড়াইটা ছিল বেশ দীর্ঘকোলাজ: আমিনুল ইসলাম

করোনার সঙ্গে বালাসুব্রামানিয়ামের লড়াইটা ছিল বেশ দীর্ঘ। একপর্যায়ে কোমায় চলে গিয়েছিলেন তিনি। ফিরেছেনও, তবে দুদিন ধরে ক্রমে তাঁর অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। অবশেষে শুক্রবার সকালে মারা যান তিনি। গত ৫ আগস্ট বালাসুব্রামানিয়ামের কোভিড-১৯ ধরা পড়ে। বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি। সে সময় ফেসবুকে একটি ভিডিও শেয়ার করেন তিনি। সেখানে জানান, কয়েক দিন ধরে শরীর একটু খারাপ। বুকেও সামান্য ব্যথা, সেই সঙ্গে ঠান্ডা, কাশি। হাসপাতালে গিয়ে কোভিড-১৯ পরীক্ষার পর রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তারপর বাসায় শুরু হয় তাঁর আইসোলেশন পর্ব। কিন্তু দিন দিন অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। ১৩ আগস্ট রাত থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। শুরু হয় শ্বাসকষ্ট। অক্সিজেন লেভেল কমতে থাকলে তাঁকে হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয়। হাসপাতালের একটা বিশেষ মেডিকেল টিম তাঁর চিকিৎসা করছিল। একপর্যায়ে তিনি কিছুটা সুস্থ হন।

default-image
বিজ্ঞাপন

তাঁর কণ্ঠ এ দেশের মানুষের অনেক চেনা। নব্বইয়ের দশকে সালমান খানের ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’, ‘হাম আপকে হ্যায় কৌন’সহ অনেক সিনেমায় তাঁর কণ্ঠ শোনা গেছে। গেয়েছেন ‘দিল দিওয়ানা বিন সাজনা’, ‘তুমসে মিলনে কি তামান্না হে’, ‘সাথিয়া তুনে ক্যায়া’, ‘বহুম প্যায়ার কারতেহে তুম কো সানাম’, ‘দেখা হে পেহিলিবার’সহ অসংখ্য গান। আজ শুক্রবার প্রয়াত হয়েছেন খ্যাতিমান গায়ক এস পি বালাসুব্রামানিয়াম। অসুস্থ হয়ে দেড় মাসের বেশি সময় ধরে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। ৪০ হাজারের বেশি গান গেয়েছিলেন তিনি।

default-image
বিজ্ঞাপন

২২ সেপ্টেম্বর বালাসুব্রামানিয়ামের ছেলে এস পি চরণ টুইটে জানিয়েছিলেন, তাঁর বাবার অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। অক্সিজেন ও ফিজিও থেরাপি চলছে। মুখে পানিও খেতে পারছেন। হাসপাতাল ছেড়ে দ্রুত বাড়ি ফিরতে চান তিনি। কিন্তু ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে আবার তাঁর অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। আজ বাবার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তিনি। টুইটে তিনি লেখেন, বেলা ১টা ৪ মিনিটে বাবা শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। নিজের গাওয়া গানগুলোর মধ্যে তিনি অমর হয়ে থাকবেন।

তাঁর মৃত্যুর শোকে স্তব্ধ ভারতীয় চলচ্চিত্র ও সংগীতের জগৎ। পাঁচ দশকের ক্যারিয়ারে শ্রেষ্ঠ গায়ক হিসেবে ছয়বার ভারতের জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। প্রায় ৪০ হাজার গান গেয়ে বহু পুরস্কারে ভূষিত বালাসুব্রামানিয়াম গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম তুলেছিলেন। তামিল, তেলেগু, কন্নড়, মালয়ালম, হিন্দিসহ ১৬টি ভাষায় গান গেয়েছেন তিনি। সালমান খানের কণ্ঠশিল্পী হিসেবেই বলিউডে বেশি পরিচিতি তাঁর। সালমান খান ঠোঁট মিলিয়েছেন সুব্রামানিয়ামের গাওয়া বহু গানে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘তুমসে মিলনে কি তামান্না হে’, ‘মেরে রাঙমে রাঙ্গেনেওয়ালি’, ‘মেরে জীবন সাথী’, ‘হাম আপকে হ্যায় কৌন’, ‘দিদি তেরা দেবার দিওয়ানা’, ‘রূপ সুহানা লাগতা হ্যায়’, ‘পেহলা পেহলা পেয়ার হ্যায়’, ‘হাম বানে তুম বানে এক দুজে কে লিয়ে’র মতো গানগুলো। ২০০১ সালে সংগীতে অবদানের জন্য ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী এবং ২০১১ সালে পদ্মভূষণে ভূষিত করে।

default-image
মন্তব্য পড়ুন 0