default-image

গানে ফিরলেন কণ্ঠশিল্পী কোনাল। সম্প্রতি ‘গাঙচিল’ ছবির টাইটেল গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। গত শুক্রবার ইস্কাটনের একটি স্টুডিওতে তাঁর কণ্ঠ ধারণ করা হয়। সেপ্টেম্বর মাসের ১০ তারিখ করোনায় আক্রান্ত বাবাকে হারিয়েছেন এই শিল্পী। বাবার মৃত্যুতে ভীষণভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। প্রায় দুই মাস বিরতি দিয়ে কাজে ফিরলেন তিনি।

বাবাকে হারানো পর গানে ফেরা কোনালের জন্য খুবই কঠিন ছিল। তিনি জানান, গানটি গাওয়ার আগেও বাবার এক বন্ধু তাঁকে ফোন করেছিলেন। তাঁর সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন কোনাল। গানটির করার জন্য আগেই কথা দেওয়া ছিল, তাই বাবা হারানোর কষ্ট বুকে নিয়েই গানটি গাইলেন তিনি। কোনাল বলেন, ‘আমি খুবই ইমোশনাল। গান করার জন্য আমি এখনো প্রস্তুত না। বাবাকে হারানোর ক্ষত এখনো আমাকে কাঁদায়। জানি না কত দিন বা কত বছর লাগবে এই ক্ষত শুকাতে। গানটি গাওয়ার সময় আমি ভেঙে পড়েছিলাম। সে সময় সবার সহযোগিতা না পেলে হয়তো গানটি গাওয়া আমার জন্য সম্ভব হতো না।’

বিজ্ঞাপন
default-image

‘গাঙচিল’ ছবির ‘আজকে সবার দিল, একসঙ্গে শামিল’ শিরোনামের এই গানের কথা আনন্দের কিছু মুহূর্ত ঘিরে। এর গায়কি কোনালের বর্তমান জীবনের একদম উল্টো। বাস্তবে তিনি এখনো শোকের আবহে। গানটির রেকর্ডিংয়ের সময় কোনালের মানসিক অবস্থা দেখে তাঁকে সহযোগিতা করেছেন গানের সুরকার ও সংগীত পরিচালক শওকত আলী ইমন। কোনাল বলেন, ‘জীবন কোনো কিছুতেই থেমে থাকে না। কান্নাকাটি করে আনন্দের গান গাওয়া একজন শিল্পীর জন্য খুবই কঠিন এবং কষ্টের। এই শোক বুকে নিয়েই একজন শিল্পী হিসেবে গানের কথাগুলো গায়কিতে ফুটিয়ে তোলার জন্য ইমন ভাই বারবার আমাকে সময় নিয়ে গাইতে বলেছেন। তাঁর উৎসাহ এবং অনুপ্রেরণায় হয়তো গাইতে পেরেছি।’

সম্প্রতি এই শিল্পীর গাওয়া ‘বীর’ ছবির আইটেম গান ‘মিস বুবলি’ এক কোটিবার দেখা হয়েছে। গানটির কোটি ভিউ পার হওয়ার খবর তিনি ভক্তদের কাছেই শুনেছেন। শোকের মধ্যে তাঁকে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছেন তাঁর ভক্তরা। এ প্রসঙ্গে কোনাল বলেন, ‘ভক্তরা আমাকে ফোন, ফেসবুকে মেসেজ পাঠিয়ে সান্ত্বনা দিয়েছেন। আমি তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ।’

default-image

গত আগস্টে সর্বশেষ ‘ব্যাকুল বিহঙ্গ’ ছবিতে গান করেছিলেন কোনাল। তারপর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান কোনালের বাবা মনির হোসেন। এর প্রায় ৫০ দিন পর গানে ফিরলেন কোনাল। গত দুই মাসে চলচ্চিত্র, টিভি এবং বেতার, তথ্যচিত্রের একাধিক গানের প্রস্তাব পেলেও তিনি সেসবে সাড়া দেননি। এ সময় সবাই তাঁর জন্য অপেক্ষা করেছেন বলে তাঁদের কাছেও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন কোনাল।

সোমনুর মনির কোনাল ২০০৯ সালে চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হন। ধীরে ধীরে সংগীত অঙ্গনে নিজের জায়গা করে নেন তিনি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0