বাসায় ফিরেছেন বুলবুল, বললেন ভালো আছেন

বিজ্ঞাপন
default-image

হৃদ্‌যন্ত্রে রিং (স্টেন্ট) পরানো শেষে আজ মঙ্গলবার দুপুর দুইটার পর ঢাকার আফতাবনগরের বাসায় ফিরেছেন দেশ বাসায় ফিরেছেন দেশ বরেণ্য সংগীত পরিচালক আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। এক মাস পর তাঁকে পুনরায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে। আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ তথ্য এভাবেই প্রথম আলোকে জানালেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মহিবুল হাসান সুমন।

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের হৃদ্‌যন্ত্রে আটটা ব্লক ধরা পড়ার পর শুরুতে বলা হয়েছিল, বাইপাস করাতে হবে। দেশের গুণী এই সংগীত ব্যক্তিত্বের শারীরিক অবস্থার খবর জানতে পেরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর কার্যালয়ের পরিচালক চিকিৎসক জুলফিকার লেনিনকে দায়িত্ব দেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার। এরপর প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পরিচালকের নেতৃত্বে একটি চিকিৎসক দল আবারও পরীক্ষা শেষে সিদ্ধান্ত নেয়, বাইপাস নয়, আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের হৃদ্‌যন্ত্রের ব্লকগুলোতে রিং (স্টেন্ট) পরাতে হবে।
গত শনিবার রাজধানীর জাতীয় হৃদ্‌রোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালক আফজালুর রহমানের তত্ত্বাবধানে আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের হৃদ্‌যন্ত্রে দুটি স্টেন্ট পরানো হয়। দুদিন হাসপাতালে থাকার পর আজ মঙ্গলবার দুপুরে তাঁকে বাসায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে জানান একমাত্র ছেলে সামির আহমেদ।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মহিবুল হাসান বলেন, ‘আজ সকালে তাঁকে (আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল) হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিয়েছে। এক মাস পর আবার তাঁকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আসতে হবে। তবে এর মধ্যে জরুরি কোনো কিছু হলেও চিকিৎসককে দেখিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। এখন তিনি বেশ ভালো আছেন। লেখালেখিসহ স্বাভাবিক সব কাজ করতে পারবেন। তাঁকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণে থাকতে হবে।’
মুক্তিযোদ্ধা, গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল তাঁর সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার কথা গত ১৬ মে ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে তুলে ধরেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমি এখন ২৪ ঘণ্টা পুলিশ পাহারায় গৃহবন্দী থাকি, একমাত্র সন্তানকে নিয়ে। এ এক অভূতপূর্ব করুণ অধ্যায়। একটি ঘরে ৬ বছর গৃহবন্দী থাকতে থাকতে আমি উল্লেখযোগ্যভাবে অসুস্থ। আমার হার্টে ৮টা ব্লক ধরা পড়েছে, বাইপাস ছাড়া চিকিৎসা সম্ভব না।’ আবেগঘন এই পোস্ট নজরে আসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। এরপর প্রধানমন্ত্রী গুণী মানুষটির চিকিৎসার যাবতীয় দায়িত্বভার নেওয়ার ঘোষণা দেন।
সংগীতজগতে অবদানের জন্য আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা একুশে পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং রাষ্ট্রপতির পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হন। মুক্তিযুদ্ধে যখন অংশ নেন, তখন তাঁর বয়স মাত্র ১৫ বছর। সত্তরের দশকের শেষ দিকে ‘মেঘ বিজলি বাদল’ ছবিতে সংগীত পরিচালনার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। তিনি গানের অ্যালবাম করেছেন এবং অসংখ্য চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনা করেছেন। তাঁর সুরে ও সংগীতে বাংলাদেশের প্রথিতযশা শিল্পীদের পাশাপাশি এ প্রজন্মের অনেকে গান গেয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন