বাড়ি ফিরছেন আলাউদ্দীন আলী

বিজ্ঞাপন
default-image

পুরো ঘটনাই অবিশ্বাস্য। গত ২২ জানুয়ারি রাতে বরেণ্য গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর বাড্ডার বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়েন আলাউদ্দীন আলী। তাঁর খুব শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে পারছিলেন না। পাশাপাশি তাঁর উচ্চমাত্রায় জ্বর ছিল। কাশ হচ্ছিল। সবকিছু মিলিয়ে অবস্থা জটিল আকার ধারণ করে। তাঁকে দ্রুত রাজধানীর মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) তাঁকে ভর্তি করা হয়। তাঁর শারীরিক অবস্থা ক্রমেই খারাপ হতে থাকে। তিন দিন পর দেখা যায়, তাঁর রক্তে কার্বন ডাই–অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যায়। পাশাপাশি রক্তচাপ ও জ্ঞানের মাত্রা একেবারেই কমে যায়। একই সময়ে হঠাৎ তাঁর হৃৎস্পন্দন বন্ধ হয়ে যায়। দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার পর কিছু সময়ের মধ্যেই তাঁর হৃৎস্পন্দন ফিরে আসে।

ওই সময় হাসপাতাল থেকে জানানো হয়, মেকানিক্যাল ভেন্টিলেটর মেশিন যুক্ত করার পর আলাউদ্দীন আলীর শারীরিক অবস্থা কিছুটা স্থির আছে। এরপর তিনি জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করেছেন অনেক দিন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে কয়েকবার মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।

বরেণ্য গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক ও বাদ্যযন্ত্রশিল্পী আলাউদ্দীন আলী এখন অনেকটাই সুস্থ। ৭৭ দিন পর আজ সোমবার সকালে তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। শিগগিরই তিনি বাসায় ফিরতে পারবেন।

আলাউদ্দীন আলীর বাসায় ফিরে যাওয়ার খবর জানানোর জন্য আজ সকালে ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এখানে তাঁর চিকিৎসার বিভিন্ন দিক এবং বাসায় ফিরে যাওয়ার কথা জানান হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী। তিনি জানান, আলাউদ্দীন আলী ফুসফুসের প্রদাহ আর রক্তের সংক্রমণে ভুগছিলেন। এখন এই সমস্যাগুলো আর নেই। তাঁকে ফিজিওথেরাপি নেওয়ার জন্য মিরপুরে সিআরপিতে পাঠানো হচ্ছে। সেখানে কয়েক দিন তাঁকে থাকতে হবে। এরপর তিনি বাসায় ফিরে যাবেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের চিকিৎসক, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আলাউদ্দীন আলীর স্ত্রী ফারজানা আলাউদ্দীন মিমি এবং তাঁর শিশুকন্যা আদ্রিতা আলাউদ্দীন রাজকন্যা।

এদিকে আলাউদ্দীন আলীর দীর্ঘ চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে তাঁর পাশে দাঁড়ান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আলাউদ্দীন আলীর চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি তাঁর পরিবারকে সহযোগিতা করার জন্য আর্থিক অনুদান হিসেবে ২৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র দিয়েছেন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী গণভবনে আলাউদ্দীন আলীর স্ত্রী ফারজানা মিমি ও তাঁর ছোট মেয়ে আদ্রিতা আলাউদ্দীন রাজকন্যাকে ডেকে নিয়ে এই অনুদান দেন। পাশাপাশি হাসপাতাল থেকেও সহায়তা করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন