বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মাইলসে ভাঙন অবশ্য নতুন কোনো ঘটনা নয়, আগেও তিনবার ঘটেছে এই ঘটনা। আগেরবারের ভাঙনের সময় সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছিলেন ব্যান্ড সদস্যরা। এবার সংবাদ সম্মেলন না করলেও সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ফেব্রুয়ারিতে মাইলসে চিড় ধরা শুরু করে, আর এখন বিষয়টা দৃশ্যমান হয়েছে।

default-image

মাইলসে ভাঙন নিয়ে প্রতিবারই ভক্ত-শ্রোতাদের মধ্যে একটা কনফিউশন তৈরি হয়। কারণ, সরাসরি কিছু না বলে নিজেদের মতো করে তাঁরা আলাদাভাবে স্টেজ শো করেন, টেলিভিশন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। বারবার কেন এমনটা ঘটছে? এমন প্রশ্নে শাফিন আহমেদ গতকাল বুধবার বললেন, ‘আমি তো কোনো কনফিউশন তৈরির কিছু দেখছি না। মাইলস নিয়ে রসাল করে যারা কথা বলতে চায়, তারা বলবেই—কিছু হলেও বলবে, না হলেও বলবে। এ নিয়ে মাথা ঘামানো তো আর যায় না।’

আপনার কাছে একদম সরাসরি জানতে চাই, মাইলস ব্যান্ড আগের মতো আছে, নাকি নেই? ‘এই মুহূর্তে এটা নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করব না। নো কমেন্টস,’ বললেন শাফিন আহমেদ। ভক্তদের উদ্দেশে কী বলতে চান? শাফিন বললেন, ‘দর্শকেরা শোতে যাবে, গান শুনবে, আনন্দ করবে।’ তাহলে মাইলসের সব সদস্যকে কি এক মঞ্চে দেখা যাবে? ‘এ ব্যাপারে তো কোনো কিছু বলতে পারব না।’

default-image

শাফিন আহমেদের কাছ থেকে বারবার ‘নো কমেন্টস’ শোনার পর হামিন আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বললেন, ‘এই ব্যক্তি (শাফিন আহমেদ) বারবার একই ধরনের কাজ করছে। এখন হায়ারড (ভাড়াটে) মিউজিশিয়ান নিয়ে মাইলসের অনুমতি ছাড়া মাইলসের গান গাইছে! এর মাধ্যমে দর্শককে যেভাবে বঞ্চিত করা হচ্ছে, এটা অনেকটা প্রতারণার মতো। কোন অধিকারে মিউজিশিয়ান হায়ার করে মাইলসের সুনামটাকে নষ্ট করছে—এটার উত্তর তো তাকে দিতে হবে। চারবার এই ব্যক্তি ব্যান্ড ছেড়েছে, কোনোবারই ব্যান্ড কিন্তু তাকে বলেনি, চলে যাও।’

প্রথমবার মাইলস থেকে বের হয়ে ‘রিদম অব লাইফ’ নামের একটি ব্যান্ড করেন শাফিন আহমেদ। পাশাপাশি একক গানের শিল্পী হিসেবেও কাজ করতে থাকেন। শাফিন আহমেদের একক ক্যারিয়ারে কি ব্যান্ডের কোনো বিধিনিষেধ ছিল?

default-image

এমন প্রশ্নে হামিন আহমেদ বললেন, ‘১৯৯৬ সালে আমরা সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, সবকিছুর আগে আমাদের সবাইকে ব্যান্ডকেই প্রাধান্য দিতে হবে। কিন্তু সে (শাফিন আহমেদ) বরাবরই যা খুশি তা করছে, সে তার একক ক্যারিয়ার গড়েছে। সে এত পারফরম্যান্স করার প্রয়োজন মনে করলে তার নিজের গান দিয়েই করুক, মাইলসের গান কেন! আমাদের ঘোর আপত্তি ছিল, ব্যান্ডের কোনো গান এককভাবে পারফর্ম করতে পারবে না। এটাতে সে–ও সমর্থন জানিয়েছিল।’

মাইলস বারবার ভাঙছে, আবার এক হচ্ছে, এমনটা কেন হচ্ছে জানতে চাইলে হামিন আহমেদ বললেন, ‘হায়ারড মিউজিশিয়ান নিয়ে শ্রোতাদের প্রতারিত করছে, কোন অধিকারে করছে, সবার এই প্রশ্ন তাকে করা উচিত। আমি তো মনে করি, এসব করে ওই মিউজিশিয়ানদেরও বিপদে ফেলছে। ওই সব মিউজিশিয়ানের জেনেশুনে শুধু টাকার জন্য এ রকম একটা ব্যান্ডের দ্বন্দ্বের মধ্যে ঢোকার দরকার ছিল না। আমি মনে করি, তাদেরও বলার দরকার ছিল, “আমরা অপারগ। কারণ, আমরা আপনাদের সবাইকে শ্রদ্ধা করি।” ওরা মানাম আহমেদের মিউজিক পিচ বাজাচ্ছে নকল করে! আমার গিটার বাজাচ্ছে ভুল করে!’

default-image

চার দশক পার করে এসেছে মাইলস। দেশের প্রথম সারির অন্য ব্যান্ডগুলো একজনের কৃতিত্বে চললেও মাইলস সে ধারায় পুরোপুরি ব্যতিক্রম। বলা হয়ে থাকে, দলটির প্রত্যেক সদস্য স্বমহিমায় আলোকিত। বারবার সেই ব্যান্ডের ভাঙনের খবর ভক্ত-শ্রোতাদের কষ্ট দেয়।

গান থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন