বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নিজের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বেশ কয়েকবার ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন এ আর রাহমান। বিশ্ব চলচ্চিত্রের সম্মানজনক পুরস্কার অস্কারও পেয়েছেন তিনি। এমনকি বিশ্বসংগীতের সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডও রয়েছে তাঁর সাফল্যের মুকুটে। এত বড় সুরস্রষ্টা এ আর রাহমান, তাঁর কি শৈশব থেকেই সংগীতের প্রতি খুব টান ছিল? শৈশবে তাঁর টান ছিল কম্পিউটারের প্রতি। সুরের মানুষ না হলে হয়তো প্রকৌশলীই হতেন তিনি।

default-image

‘রোজা’ ছবির গানগুলো জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর পরিচিতি পেয়ে যান রাহমান। তবু তাঁর জড়তা কাটে না। কারণ, হিন্দি ভাষাটা ভালো বুঝতেন না তিনি। পরে পরিচালক রামগোপাল ভার্মা তাঁকে দেন ‘রঙ্গিলা’ ছবির সংগীত পরিচালনার কাজ। জীবনের প্রথম ছবির জন্য রাহমান পান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। মনি রত্নমের পরের ছবি ‘বোম্বে’র জন্যও পুরস্কার পান। ১৫ মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছিল ‘বোম্বে’র অডিও ক্যাসেট। ১৯৯৫ সালে এ ছবিও সুপারহিট হলো, জনপ্রিয়তা পেল ছবির গানগুলো, রাহমান আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠলেন। তাঁর কাজের তালিকায় যুক্ত হতে থাকে অনেক অনেক সিনেমা। ‘দিল সে’, ‘তাল’, ‘লগান’, ‘স্বদেশ’, ‘রং দে বাসন্তী’সহ আরও অনেক ছবির সংগীত পরিচালনা করেন রাহমান।

default-image

রাহমানের জন্ম ১৯৬৭ সালে। ঠিক ১৯৭৬ সালে তিনি বাবাকে হারান। বাবা আর কে শেখর ছিলেন তামিল সংগীত পরিচালক। সংসারের হাল ধরতে শুরুতে বাবার কি–বোর্ড ভাড়া দিতেন রাহমান। পরে বিভিন্ন অর্কেস্ট্রায় নিজেই কি–বোর্ড বাজাতে শুরু করেন। একপর্যায়ে সিনেমার গানে বাজাতে শুরু করেন। মা কস্তুরী দেবী বলেছিলেন, গানের সঙ্গেই থাকো। এটাই তোমাকে সফল করবে। রাহমান মায়ের কথামতো গানের সঙ্গেই রইলেন। তাঁকে ভর্তি করা হয় চেন্নাইয়ের পদ্ম শেষাদ্রি বালা ভবনে। সেখানে বেশি দিন পড়া হয়নি। পরে তাঁকে ভর্তি করা হয় মাদ্রাজ ক্রিশ্চিয়ান কলেজ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলে। এখানে পড়াকালীন সহপাঠীদের নিয়ে তিনি গড়ে তোলেন রুটস নামের একটি ব্যান্ড। রাহমান ছিলেন ব্যান্ডের কি–বোর্ডিস্ট। ব্যান্ডটি অবশ্য বেশি দিন টেকেনি। রাহমান পরে কাজ শুরু করেন অর্কেস্ট্রায়। তাঁর ভেতরে সম্ভাবনা দেখে অর্কেস্ট্রার কর্তারা রাহমানকে লন্ডনের ট্রিনিট্রি কলেজ অব মিউজিকে পড়তে পাঠান। সেখান থেকে পশ্চিমা ধ্রুপদি সংগীতে স্নাতক ডিগ্রি নেন রাহমান।

default-image

২০১৪ সালে কনসার্ট করতে বাংলাদেশে এসেছিলেন এ আর রাহমান। এটি ছিল তাঁর জীবনের ব্যস্ততম বছর। বিভিন্ন ভাষার বেশ কয়েকটি ছবির সংগীত পরিচালনা করেছেন তিনি। সেগুলোর মধ্যে আছে ‘মিলিয়ন ডলার আর্ম’, ‘ওয়ান হানড্রেড ফুট জার্নি’র মতো ছবি। ২০১৫ সালে খ্যাতিমান ইরানি পরিচালক মাজিদ মাজেদি পরিচালিত ‘মুহাম্মদ দ্য মেসেঞ্জার অব গড’ ছবির সংগীত পরিচালনা করেছিলেন তিনি। বাংলাদেশের সঙ্গে নানা কাজে যুক্ত হয়েছিলেন রাহমান। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে ‘মুজিব চিরন্তন’ অনুষ্ঠানে শোনা যায় তাঁর সুরে ‘এক দোস্ত মুজিব’ গানটি। এ ছাড়া বাংলাদেশের চলচ্চিত্র পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘নো ল্যান্ডস ম্যান’ ছবির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন তিনি।

গান থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন