default-image

বাইরে তখন সন্ধ্যা। গুলশান ২ নম্বরের চারপাশ রংবেরঙের হালকা আলো আর রাস্তার নিয়নবাতিতে আলোকিত। টুপটাপ বৃষ্টি পড়ছে। ক্যাফেতে বসে কথা হচ্ছে শূন্যর ভোকাল এমিল আর ব্যবস্থাপক নাফিসের সঙ্গে। শুরুতেই প্রশ্ন, ব্যান্ডের নাম ‘শূন্য’ কেন? এমিল বললেন, ‘আমরা এমন একটি নাম রাখতে চেয়েছিলাম, যে নামটি বাংলায় হবে, উচ্চারণ সহজ এবং নামটি শোনার পর যেন সবার মনে থাকে। সেভাবেই শূন্য নামটির কথা প্রথম মাথায় আসে। আর আমাদের সবার যাত্রা তো শূন্য থেকেই শুরু।’
শূন্য ব্যান্ডের সদস্যরা হলেন এমিল (ভোকাল), শাকের (গিটারিস্ট, শব্দ প্রকৌশলী), লাবিব (ড্রামার) ও মাইকেল (বেজিস্ট)।
শূন্যর শুরুটা হয়েছিল ২০০৭ সালে। একসঙ্গে আড্ডা দিতে গিয়ে পরিচয়, বন্ধুত্ব, এরপর ব্যান্ড। পপ আর রক ঘরানার গান করে শূন্য। প্রথম গান ‘প্রত্যাশা’ ছিল ফুয়াদ আল মুক্তাদিরের মিক্সড অ্যালবাম বন্যতে। শূন্যর প্রথম একক অ্যালবাম নতুন স্রোত আসে ২০০৮ সালে।
এমিল বললেন, ‘পুরো অ্যালবাম তৈরি করে আমরা বিভিন্ন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের কাছে যাই। কিন্তু নতুন একটি ব্যান্ডের অ্যালবাম বের করার ঝুঁকি নিতে চায়নি কোনো প্রতিষ্ঠান। এরপর নিজেরাই একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান গড়ার সিদ্ধান্ত নিই। নাম দিই মেরুন মিউজিক। এখান থেকে বের হয় নতুন স্রোত। পরে ফাহিম মিউজিক অ্যালবামটি বের করে।’
প্রথম অ্যালবামেই সাফল্য। এরপর শূন্যকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। একে একে বের হয় আরও তিনটি অ্যালবাম, শত আশা (২০০৯), গড়ব বাংলাদেশ (২০১১) এবং ভাগো (২০১৪)। পঞ্চম অ্যালবামের কাজ শুরু হবে আগামী বছর। এমিল জানান, ভাগো অ্যালবামের ‘শোনো মহাজন’ গানটির মিউজিক ভিডিও এই বছরই তৈরি করা হবে।
আড্ডায় যুক্ত হলেন লাবিব। শূন্য ব্যান্ডের বিচিত্র অভিজ্ঞতার কথা জানালেন তিনি। বললেন, ‘শুরুর দিকে কুমিল্লায় একটি শোতে গিয়েছিলাম আমরা। ফেরার পথে রাতে আমাদের গাড়ির সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। আমাদের ড্রাইভার দক্ষ হওয়ায় গাড়িটি বাইরে পড়ে যায়নি, কিন্তু গাড়ির দুটি চাকাই কালভার্টের বাইরে চলে যায়। পরে সাবধানে আমরা অন্য দিক দিয়ে গাড়ি থেকে নেমে আসি। রাতটা সেখানে কাটিয়ে পরদিন ট্রেনে দাঁড়িয়ে ঢাকা ফিরেছিলাম।’
আবার গানের কথা। প্রথম অ্যালবাম দিয়েই ২০০৮ সালে ‘মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার’ আয়োজনে সেরা ব্যান্ড বিভাগের মনোনয়ন পায় শূন্য। এরপর ২০০৯ ও ২০১১ সালে দুবার ‘সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড’ আয়োজনে সেরা ব্যান্ডের পুরস্কার পায় শূন্য।
এমিল বলেন, ‘গত বছর পাকিস্তানি ব্যান্ড ফিউশন একটি কনসার্টে ঢাকায় এসেছিল। আমাদের “শত আশা” গানটি তাদের মুখস্থ ছিল। তা আমাদের জন্য ছিল বড় পাওয়া।’
শূন্যর প্রিয় ব্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের পপ ও রক ব্যান্ড ম্যারুন ফাইভ। এমিল জানান, সম্প্রতি তাঁরা মাছরাঙা টিভিতে শুধু ম্যারুন ফাইভের গান নিয়ে একটি অনুষ্ঠান করেছেন।
বাংলাদেশের গানকে বিশ্বের বিভিন্ন ভাষার শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার স্বপ্ন দেখে শূন্য। এখন দেশের বাইরে কনসার্ট করছে শূন্য। এরই মধ্যে শূন্য গান করেছে লন্ডনে দুটি কনসার্টে।
ততক্ষণে বৃষ্টি থেমেছে। শ্রোতাদের জন্য লাবিব বললেন, ‘একটাই কথা, গান শুনুন। পাইরেসি এড়াতে সবাইকে সচেতন হতে হবে।’
শেষে ফেসবুকে নিজেদের ঠিকানা জানালেন এমিল। https://fb.com/SHUNNO.LIVE।

বিজ্ঞাপন
গান থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন