সাজিয়া সুলতানা পুতুল
সাজিয়া সুলতানা পুতুল
‘ক্লোজআপ ওয়ান: তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় আসরের সেরা ১০ প্রতিযোগীর অন্যতম সাজিয়া সুলতানা পুতুল। কঠোর লকডাউন ও বাংলা নতুন বছরের সন্ধিক্ষণে বিয়ে করে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছায় ভাসছেন তিনি। বিচ্ছেদকালের দুঃসময়, আকস্মিক বিয়ে, ভবিষ্যৎ ভাবনা নিয়ে কথা বললেন এই কণ্ঠশিল্পী।

অভিনন্দন, সবাই শীতে বিয়ে করে, আপনি করলেন বসন্তে!

ধন্যবাদ। আসলে অনেক পরিকল্পনা করে জীবনের সবকিছু করা যায় না।

বিয়ের পরের প্রশ্ন, হানিমুন কবে, কোথায়?

বাপের বাড়ি-শ্বশুরবাড়ি দুটোই ধানমন্ডিতে। লকডাউনের কারণে এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়ি যাওয়া কঠিন হয়ে গেছে, হানিমুনে কী করে যাব?

default-image

পরিকল্পনা করেননি, সেটা তো হতে পারে না। পরিকল্পনাটুকুই জানতে চাই।

দেশের বাইরে যাওয়ার ইচ্ছা আছে। ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে কখনো যাওয়া হয়নি। সেখানে যেতে পারি। আর একটু দূরে যদি যাই, ইউরোপে একটা লম্বা ট্যুর দিতে পারি। দেখি, পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হোক।

default-image

আপনার স্বামী সৈয়দ রেজা আলী অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী। সেখানকার কোনো একটি ব্যাংকে চাকরি করেন বলে জেনেছি। আপনি কি তাহলে প্রবাসী হতে যাচ্ছেন?

তিনি লকডাউনের কিছুদিন আগে দেশে চলে এসেছেন। এই মুহূর্তে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। যখন যাবেন, তখন হয়তো আমিও যাব, যাওয়া-আসার মধ্যে থাকব। তবে বাংলাদেশেই আমার সব। আমরা বেশির ভাগ সময় এখানেই থাকব। তিনিও সংগীতে মনোনিবেশ করেছেন, এটা তাঁর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল। দেশের বাইরে ছিলেন বলে সংগীতের মূলধারায় কাজ করা হয়ে ওঠেনি।

বিজ্ঞাপন

বিয়ের আগে তাঁর সংগীতায়োজনে বেশ কিছু গান করেছিলেন। সংসারের আয়োজন তিনি কেমন করবেন বলে মনে করেন?

‘স্বপ্ন’, ‘প্রশ্ন’, ‘সুখেরও নিজের একটা গল্প থাকে’, ‘ফুলের বাসর’ গানগুলোর সংগীতায়োজন করেছিলেন তিনি। এ রকম সংগীতায়োজন যিনি করতে পারেন, সংসারের আয়োজনে তিনি ভালো করবেন বলেই আমার বিশ্বাস।

default-image

গান নিয়ে কী ভাবনা? নতুন কোনো কাজ করছেন?

নতুন বেশ কিছু গান করছি, যেগুলো আমার ব্যক্তিগত ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হবে। এগুলো মহামারির সময়ের নানা ভাবনা, প্রিয়জন হারানোর বেদনা নিয়েই তৈরি হচ্ছে। এসবের মধ্যে আমার নিজের লেখা, সুর ও সংগীতায়োজনেও গান আছে। বাসার স্টুডিওতে বসেই কাজগুলো করছি।

বইমেলায় গিয়েছিলেন? আপনার উপন্যাস ‘জ্যোৎস্নারাতে বনে যেভাবে আমাদের যাওয়া হয়ে ওঠে না’ থেকে কেমন প্রতিক্রিয়া পেলেন?

মেলায় দুই দিন গিয়েছিলাম। এক দিন বইটির মোড়ক উন্মোচন করতে, আরেক দিন আমার পরিচিত কজন মানুষের সঙ্গে দেখা করতে। এবারই প্রথম এত কম সময়ের জন্য মেলায় যাওয়া। এটা আমার ষষ্ঠ বই, বইয়ে আমার সংগীতজীবনের নানা ঘটনা, অভিজ্ঞতা, চড়াই-উতরাইয়ের বর্ণনা রয়েছে। এটা অনেকটাই আত্মজৈবনিক ও পরাবাস্তবিক। বইটা বেশি বিক্রি হয়েছে অনলাইনে। সবাই খুব ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

default-image

দ্বিতীয়বার বিয়ে করলে নানা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। আপনার ক্ষেত্রে সে রকম হয়নি। তবু কি মন খারাপ করার মতো কিছু ঘটেছে?

বিচ্ছেদ হলেই মেয়েদের দিকে আগে আঙুল তোলার প্রবণতা রয়েছে এখানে। অথচ দুই দিন ধরে লক্ষ্য করছি, আমার ব্যাপারটিকে বেশির ভাগ মানুষ ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন। সেটা আমার ভাবমূর্তির কারণেও হতে পারে কিংবা আমাকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন বা জানেন বলেও হতে পারে। আমার আগের সম্পর্কের বৃত্তান্ত যাদের জানা, তারা নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন যে কী হয়েছে আমার সঙ্গে। তবে ব্যথিত করেছে কিছু কিছু পোর্টালের খবর লেখার ভঙ্গি। ‘বিচ্ছেদের এক মাস পর পুতুলের দ্বিতীয় বিয়ে’, এ রকম শিরোনাম আমাকে ও আমার পরিবারকে কষ্ট দিয়েছে। এ রকম কুরুচিপূর্ণ শিরোনাম দিয়ে হয়তো সংবাদ বিক্রি করা যায়, কিন্তু যাকে নিয়ে লেখা হয়, তার জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এসব কারণে আমি ফেসবুকে একটা পোস্ট দিতে বাধ্য হয়েছি। আসলে এক মাস আগে প্রকাশ করেছি, কিন্তু বিচ্ছেদ হয়েছে এক বছর আগে।

বিজ্ঞাপন

বিচ্ছেদ ও নতুন সম্পর্কের মধ্যবর্তী বেদনাদায়ক সময়টা কীভাবে পাড়ি দিলেন?

বিচ্ছেদের পর একক জীবনে ফিরলেই আত্মসম্মানবোধটা তীব্র হয়ে ওঠে। মনটা অস্থির হয়ে যায়। মনে হয়, দোষটা কি আসলে আমারই ছিল? ভয় হয়, সামাজিকভাবে আমাকে এখন ‘ডিভোর্সি’ হিসেবে দেখা হবে! এ রকম সময়ে আত্মবিশ্বাস কমতে দেওয়া যাবে না। তাহলে সামনে এগিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে যায়। অনেককে এ সময় ভুল করতে দেখেছি, নিঃসঙ্গতা কাটাতে ভুল সম্পর্কে জড়িয়ে পড়তে দেখেছি। এ সময়ে আসলে নিজেকেই ঘুরে দাঁড়াতে হয়, তাহলে আর মনে হবে না যে আমার জীবন বিফলে গেল বা আমার সঙ্গেই কেন এমন হয় বা এগুলো কি আমার প্রাপ্য ছিল! একটা সময় পর্যন্ত এসব ভাবনা আসে। কিন্তু এসবের মধ্যে ডুবে গেলে চলবে না। পরিত্রাণের পথ নিজেকেই খুঁজে নিতে হয়।

default-image

সংসার ভাঙার পর অনেকে নানা রকম ভয়ে থাকেন।

আমি ফেসবুকে বিস্তারিত লিখেছি, যেন মেয়েরা বুঝতে পারে যে বিচ্ছেদ হওয়ার পর সেটাকে গোপন রেখে নিজের ভেতরের ক্ষতটাকে আরও বড় করার চেয়ে সত্যকে সামনে আনা ভালো। জীবনকে এগিয়ে নিতে যদি যথাযথ সঙ্গীর দেখা পাওয়া যায়, সেখানে জীবনকে দ্বিতীয় সুযোগটাও দেওয়া উচিত। আমি একটা সময় পর্যন্ত বিভীষিকার মধ্য দিয়ে গেছি—এই বুঝি লোকে জেনে ফেলল। আমি সব সময় ভেবেছি, আমাকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে।

গান ও লেখালেখিটা চালিয়ে যাবেন তো?

গান ও লেখালেখিই আমার শিল্পীসত্তা। শিল্পীসত্তাকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে গান ও লেখা চালিয়ে যাব।

default-image
গান থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন