default-image

দেশে সংগীতের প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে বছর দশেক আগে শুরু হয়েছিল সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড। এবার ছিল এর ১১তম আয়োজন। দশম আসর পর্যন্ত এ আয়োজনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিল সিটিসেল। ১১তম আয়োজনে এসে যুক্ত হয়েছে সিম্ফনি। ২৭ মে ঢাকার গুলশানের একটি পাঁচতারা হোটেলে সিম্ফনি-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও সনদ তুলে দেওয়া হয়। পুরস্কার গ্রহণের পর তাঁরা প্রথম আলোকে জানালেন তাঁদের অনুভূতি। পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরেছেন মনজুর কাদের

সমালোচক পুরস্কার 

আলাউদ্দীন আলী (সংগীত পরিচালক) : শুধু গান নিয়ে চ্যানেল আই যে উদ্যোগ ধরে রেখেছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে তারা আমাদের শিল্পীসমাজকে সম্মানিত করে। এটা ভালো লাগে। 
কনকচাঁপা (আধুনিক) : ‘আড়ালে’ অ্যালবামের জন্য সেরা গায়িকার যে পুরস্কার পেলাম, তাতে আমি খুবই খুশি। তবে আমার সব আনন্দ শ্রোতাদের ভালোবাসাতে নিহিত। 
মমতাজ (লোকগান) : পুরস্কার সব সময়ই অনুপ্রেরণার। এর আগে আরও কয়েকবার তা পেয়েছি। পেয়ে যখন গেলাম, তখন তো ভালো লাগছে। তবে সামনে থেকে আর পেতে চাই না। আমি চাইব, নতুনেরা যেন সামনে থেকে এই পুরস্কার পায়। 

অদিতি মহসিন (রবীন্দ্রসংগীত) : আট বছর পর আবারও এই পুরস্কার পেলাম। পুরস্কারের এই সংস্কৃতিটা মানুষকে আরও দায়িত্ববান করে তোলে। আগের চেয়ে আরও ভালো কাজ করার তাগিদ দেয়।
প্রিয়াঙ্কা গোপ (উচ্চাঙ্গসংগীত) : শাস্ত্রীয় সংগীতে পাওয়া আমার এই পুরস্কারটি যেমন অনেক আনন্দের, তেমনি মন খারাপেরও। শুনেছি, এবার নাকি মাত্র দুটি সিডি জমা পড়েছে। এ বিষয়টি শোনার পর মোটেও ভালো লাগেনি।
ইয়াসমিন মুশতারী (নজরুলসংগীত) : সিম্ফনি-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডে সেরা নজরুলসংগীতশিল্পীর মর্যাদা পেলাম। আমি কৃতজ্ঞ। এই পুরস্কার আমাকে আগের চেয়ে আরও ভালো কাজ করার দায়িত্ব বাড়িয়ে দিল।
শিরোনামহীন (সেরা ব্যান্ড) : ব্যান্ডের অন্যতম সদস্য তুহিন বললেন, ‘আমাদের ব্যান্ড শিরোনামহীনের এবারই প্রথম এই অর্জন, তা-ও আবার সমালোচকদের রায়ে। সংগীতের সফল ও গুণী মানুষদের বিচার-বিশ্লেষণে সেরা হওয়ার আনন্দটা আমাদের অনেক বেশি আনন্দ দিয়েছে।’
কোনাল (ছায়াছবির গান) : চলচ্চিত্রে আমি গান গাইছি খুব বেশি দিন হয়নি। অল্প দিনে বেশ কয়েকজন গুণী সংগীত পরিচালকের সঙ্গে গান গাওয়ার সুযোগ হয়েছে। অল্প দিনের ক্যারিয়ারে এরই মধ্যে সিনেমার গান গেয়ে সিম্ফনি-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডে সেরা গায়িকার পুরস্কার অর্জন করার ব্যাপারটি বিশাল ব্যাপার।
বেলাল খান (ছায়াছবির গান) : ভালো লাগা তো আছেই, মনে হচ্ছে এ বছরটাই আমার সংগীতজীবনের অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এ বছর আমি ঘরে তুলেছি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও। কৃতজ্ঞতা সবার প্রতি, যাঁরা আমার কাজের প্রতি আস্থা রেখেছেন।
রবিউল ইসলাম (গীতিকার) : এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এই পুরস্কারটি অর্জন করার সুযোগ হয়েছে। সবচেয়ে আনন্দের আর গর্বের ব্যাপার হচ্ছে, তিনবারের মধ্যে দুবারই পুরস্কার গ্রহণ করার সৌভাগ্য হয়েছে কিংবদন্তি দুই গীতিকবি গাজী মাজহারুল আনোয়ার ও মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান স্যারের হাত থেকে।
নির্বাচিতা (সেরা নবাগত) : চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে পেশাদারভাবে আমার সংগীতজীবন শুরু হয়েছে। শুরুতেই এমন একটি পুরস্কার আমাকে সামনের দিকে পথ চলতে অনেক বেশি অনুপ্রেরণা জোগাবে।
তানিম রহমান (মিউজিক ভিডিও নির্মাতা) : ‘হারিয়ে ফেলা ভালোবাসা’ গানটির ভিডিও নির্মাণের শুরু থেকেই আমরা ভেবেছিলাম, এই গানটি একটা নতুনত্ব আনতে যাচ্ছে। সে হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার পর কিছুটা আশাবাদীও ছিলাম বলতে পারেন।
আজম বাবু (সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার) : পুরস্কার পেতে তো ভালোই লাগে, আমারও তেমনটাই লাগছে। এই পুরস্কার আমার পরবর্তী কাজের ক্ষেত্রে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা জোগাবে।
প্ল্যান বি (কাভার ডিজাইন) : ‘ক্ষমা করো’ অ্যালবামের প্রচ্ছদ ডিজাইনের জন্য এই পুরস্কার পেয়েছে প্ল্যান বি। এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান পরিচলন কর্মকর্তা জাহান বলেন, ‘ভালোবাসা থেকে প্রচ্ছদ ডিজাইনের কাজটি করা। এখন বছরে প্রায় শতাধিক অ্যালবামের প্রচ্ছদ করতে হয়। আমাদের এই পেশাকে এভাবে সম্মানিত করা হয় না। চ্যানেল আইয়ের মতো একটি প্রতিষ্ঠান এ কাজটি করে আসছে।’


পপুলার চয়েস পুরস্কার
ফাহমিদা নবী (আধুনিক গান) : ‘সিম্ফনি-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড’-এ আধুনিক গান বিভাগে সেরা গায়িকার পুরস্কার পেয়ে সত্যি অনেক ভালো লাগছে। পুরস্কার পাওয়ায় সামনের দিনগুলোতে আরও ভালো গান গাওয়ার দায়িত্ব বেড়ে গেল।
অবসকিওর (সেরা ব্যান্ড) : অবসকিওর ব্যান্ডের প্রধান ভোকাল টিপু বলেন, বাংলাদেশে শুধু সংগীতের পুরস্কার নিয়ে একটাই আয়োজন হয়, আর তা করে থাকে চ্যানেল আই। আমাদের প্রাপ্তিটা একটু দেরিতে হলো। ৩০ বছরের সংগীতজীবনে এটি আমাদের দ্বিতীয় কোনো সম্মাননা। ব্যান্ডের সবাই পুরো ব্যাপারটাই উপভোগ করেছি।
সামিনা চৌধুরী (ছায়াছবির গান): ‘সুতপার ঠিকানা’ সিনেমার গানের জন্য পুরস্কার পেলাম। ‘গুনে গুনে এক দুই তিন চার’ গানটি আমি শুধু গেয়ে দিয়েছি। তবে এই গানের ক্রেডিট আমি দিতে চাইব সংগীত পরিচালক কুমার বিশ্বজিৎ ও পরিচালক প্রসূন রহমানকে।
লুইপা (নবাগত শিল্পী) : ভাবতেই পারিনি পুরস্কার পাব। তাই কী বলব বুঝতেও পারছি না। তবে এটা ঠিক যে এই পুরস্কার আমার সামনের পথচলায় অনেক বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।
ঐশী (নবাগত শিল্পী) : পুরস্কারটি অনেক ভারী। আমি এর ভার বয়ে নিয়ে যেতে পারব কি না জানি না। সেই হিসেবে এ প্রাপ্তির অনুভূতি ব্যক্ত করাটাও অনেক কঠিন। সবার ভালোবাসা ও সহযোগিতায় যে সম্মান আমি পেয়েছি, তার জন্য সবার কাছে কৃতজ্ঞ।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0