ছোটবেলায় দেবশ্রীকে কেউ ডাকত চুমকি, কেউবা রুমকি। সেই শিশু বয়সে দেবশ্রীকে ‘বালিকা বধূ’ ছবিতে অভিনয় করিয়েছিলেন তরুণ মজুমদার। তারপর নাম পাল্টে রেখেছিলেন দেবশ্রী রায়।

আজ তরুণ মজুমদারের দক্ষিণ কলকাতার কালীমন্দিরে এসে তরুণ মজুমদারের পারলৌকিক ক্রিয়া সম্পন্ন করেন অভিনেত্রী দেবশ্রী রায়। তিনি বলেন, ‘একসময় আমি ছিলাম একটি মাটির ঢেলা। তরুণ মজুমদার সেই মাটির ঢেলা দিয়ে দেবশ্রী রায়কে তৈরি করেছেন। তাঁর কন্যার আসনে বসিয়েছেন। কন্যা হিসেবে বাবার পারলৌকিক ক্রিয়া সম্পন্ন করলাম।’

মৃত্যুর আগে তরুণ মজুমদার জানিয়ে গিয়েছিলেন তাঁর মৃত্যুর পর যেন কোনো সরকারি বা বেসরকারি অনুষ্ঠান না হয়। তাঁর দেহও সৎকার না করে গবেষণার জন্য দান করা হয়। তাঁর ইচ্ছানুযায়ী পিজি হাসপাতালে মৃত্যুর কোনো অনুষ্ঠান হয়নি। রাখা হয়নি রবীন্দ্র সদনে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্যও। মরদেহের বুকের ওপর রাখা ছিল কবিগুরুর ‘গীতাঞ্জলী’, ঢাকা ছিল বাম দলের লাল পতাকায়। শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী পরিচালকের দেহ শুধু নিয়ে যাওয়া হয় তাঁর প্রিয় এনটি-ওয়ান বা ন্যাশনাল থিয়েটার-ওয়ান স্টুডিওর দপ্তরে।

default-image

তরুণ মজুমদার বরাবরই ছিলেন বাম ঘরানার বুদ্ধিজীবী। জীবিত অবস্থায় তিনি দেহ দান নিয়ে কথা বলে গেছেন গণদর্পণ সংস্থার সঙ্গে। যারা সাধারণত দান করা দেহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানোর উদ্যোগ নেয়। তবে গণদর্পণের সঙ্গে এ নিয়ে চুক্তিপত্র সম্পাদনের আগেই তিনি চলে গেলেন পরপারে। তবে তাঁর পরিবার জানায়, পরিচালকের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তাঁর দেহ দান করা হয়।

মৃত্যুর আগে তরুণ মজুমদার জীবনের শেষ ছবি করার আশা ব্যক্ত করেছিলেন। সেই ছবির পাণ্ডুলিপিও তৈরি করেছেন। ছবি করার জন্য বেলপাহাড়ি, বাঁশপাহাড়ি ও ঝাড়গ্রামে সাত দিন একটানা রেকিও করেছিলেন। কিন্তু তাঁর সেই স্বপ্ন আর বাস্তবায়িত হলো না।

গত ১৪ জুন গুরুতর অসুস্থ হয়ে কলকাতার পিজি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার তরুণ মজুমদার। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে রাখা হয়। কিন্তু শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। সেখান থেকে আর ফিরে আসতে পারেননি তিনি।

টালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন