অভিনেতা যখন গল্পকার

অভিনয়শিল্পীদের অনেকেই এখন নাটকের জন্য গল্প লিখছেন

নিজের বা অন্যের গল্প পর্দায় সত্য করে তোলাই তাঁদের কাজ। সেই অভিনয়শিল্পীদের অনেকেই এখন নাটকের জন্য গল্প লিখছেন। এই যেমন অপূর্বর কথাই ধরুন। ২০০৭ সালে শখ করে  স্বপ্নের নীল পরী নামের একটা নাটকের গল্প লেখেন এই অভিনেতা। গল্পটিকে পরে নাটকে পরিণত করেন চয়নিকা চৌধুরী। প্রচারের পর নাটকটি প্রশংসিতও হয়। এরপর অভিনয়ের ফাঁকে এক টুকরো নীল, হঠাৎ এল বৃষ্টি, ফার্স্ট লাভ, ড্রিম গার্ল, রাজকুমারসহ আরও বেশ কিছু নাটকের গল্প লিখেছেন এই অভিনেতা।

ছোট পর্দার অভিনয়শিল্পী জিয়াউল ফারুক অপূর্ব
ফেসবুক থেকে সংগূহীত

অভিনয় থেকে হঠাৎ লেখালেখিতে এলেন কেন জিজ্ঞেস করতেই তিনি জানান, এত গল্পে, এত চরিত্রে কাজ করেছেন যে নানা রকম গল্প মাথায় উঁকি দেয়। অনেক চিত্রনাট্য পড়ার সুযোগ হয়েছে, যা নাটকের গল্প লেখার সময় কাজে এসেছে।

অপূর্ব বলেন, ‘শুটিংয়ে যাওয়ার সময় কখনো গাড়িতে বসে বা শুটিংস্পটের গ্রিনরুমে হুটহাট গল্প মাথায় আসে। লিখে রাখি। শুটিংয়ের আগে প্রয়োজনে চিত্রনাট্য সংশোধন করি। কাজটি একটি টিমওয়ার্কের মাধ্যমে হয়।’

মোশাররফ করিম
ছবি : প্রথম আলো

অভিনেতা থেকে নাটকের গল্প লেখক বনে যাওয়াদের তালিকায় আরও আছেন মোশাররফ করিম, আফরান নিশো, রওনক হাসান, মেহ্‌জাবীন, সাফা কবির প্রমুখ। তাঁদের মধ্যে আফরান নিশোর লেখা নাটকের গল্পের সংখ্যা নেহাত কম নয়। তাঁর গল্পে প্রথম নাটক এই প্রতীক্ষায়। এরপর মরীচিকা, মুঠোফোন, মেরুন, ভিউ, মেমোরিজ, কুয়াশা উল্লেখযোগ্য। নিশো বলেন, ‘প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো নাটকে অভিনয় করছি আমরা। বেশির ভাগ সময়ই আমাদের ভাবনাগুলো থাকে এসব নাটকের গল্প, চরিত্র ঘিরে। এমন পরিবেশে নতুন সব গল্পভাবনা মাথায় আসে। মনে হয়, এসব গল্পেও নাটক হতে পারে।’

তবে তিনি এ–ও স্বীকার করেছেন, গল্প সবার মাথায় আসে না। এটি একটি সৃজনশীল প্রক্রিয়া।

আফরান নিশোর লেখা নাটকের গল্পের সংখ্যা নেহাত কম নয়

মেহ্‌জাবীন নাটকের গল্পকার হয়েছেন অবশ্য নিজের একটা শখ মেটানোর তাগিদ থেকে। কাজের মেয়ের চরিত্র করার তাঁর খুব শখ। নিজের পছন্দের চরিত্র করার আগ্রহ থেকে নাটকের গল্প লেখা শুরু করেন। এভাবেই জন্ম নিল নাট্যকার মেহ্‌জাবীনের প্রথম নাটক স্বপ্ন দেখি আবারও। বলা বাহুল্য, নাটকে কাজের মেয়ের চরিত্রটি তিনিই করেছেন। থার্ড আই-এর ক্ষেত্রেও তাই। গল্প লেখার আগে মনে হয়েছিল, চরিত্রগুলো যদি পর্দায় আসে, তাহলে একটা সচেতনতা তৈরি হতে পারে।’এ পর্যন্ত তিনটি নাটকের গল্প লিখেছেন তিনি। সামনের ঈদে প্রচারের কথা রয়েছে হৃদয় ভাঙা ঢেউ নামের আরেকটি নাটক। গল্প লেখা প্রসঙ্গে মেহ্‌জাবীন বলেন, ‘আমরা প্রতিদিনই বের হচ্ছি। নানা রকম মানুষ, নানা ধরনের জিনিস দেখতে পাচ্ছি। চারপাশের দেখা থেকেই গল্প মাথায় আসে। প্রথম দুটি নাটকে বিশেষ দুটি চরিত্র ধরে গল্প লিখেছি।’

লেখালেখির দিক থেকে অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে রওনক হাসান। গল্প ও চিত্রনাট্য—দুটোই লেখেন। ২০০৪ সালে লেখেন প্রথম চিত্রনাট্য বয়স যখন একুশ। এ পর্যন্ত শতাধিক নাটকের গল্প ও চিত্রনাট্য লিখেছেন তিনি। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো চৌকিদার, একুশের পর, কথা ছিল অন্যরকম, আমার বউ সব জানে, ভোরের প্রসূতি, ধুলো উড়া দিন, ধুলো মেঘের জোছনা ভ্রমণ।

লেখালেখির দিক থেকে অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে রওনক হাসান। ছবি: সংগৃহীত

১৯৯৭ সালে থিয়েটারের কর্মশালা করতে গিয়েই নাটকের গল্প, চিত্রনাট্য লেখার আগ্রহ জন্মে। রওনক বলেন, ‘কর্মশালায় নানা রকম বিষয়বস্তু নিয়ে লিখতে বলা হতো। ছোট ছোট গল্প লিখতাম। তখনই আগ্রহটা তৈরি হয়।’ অন্যরা শখের বশে লিখলেও অভিনয়ের পাশাপাশি কিছুটা পেশাদারত্ব নিয়েই নাটকের গল্প ও চিত্রনাট্য লেখেন রওনক। তিনি বলেন, ‘গল্প ও চিত্রনাট্য লেখার জন্য পারিশ্রমিকও পাই। যদিও অভিনয়ই আমার মূল পেশা।’