default-image

অভিনেতা আজিজুল হাকিমকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়ার খবরে তাঁর ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মন ভেঙে যায়। বিনোদন অঙ্গনের একজন প্রিয় সহকর্মী কোভিড-১৯ আক্রান্ত হওয়ায় মনঃকষ্টে আছেন এ অঙ্গনের শিল্পীরাও। তাঁর আরোগ্য কামনা করে প্রার্থনা করে যাচ্ছেন সবাই। প্রতিমুহূর্তে শিল্পীর শারীরিক অবস্থা জানার চেষ্টা করছেন। আজ শনিবার দুপুরে আজিজুল হাকিমের ছোট ভাই সোহেল হাকিম প্রথম আলোকে জানান, শিল্পীর শারীরিক অবস্থা এখন কিছুটা ভালো।

সকালে চাচা ও স্বামীকে নিয়ে আজিজুল হাকিমের মেয়ে নাযাহ রাইদাহ হাকিম বাবাকে দেখতে গিয়েছিলেন হাসপাতালে। বাবার পাশে কিছুটা সময় কাটিয়ে চিকিৎসকদের কাছ থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থার তথ্য নিয়ে বাড়ি ফেরেন তাঁরা।

বিজ্ঞাপন
default-image

আজিজুল হাকিমের ছোট ভাই সোহেল হাকিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভাইয়ের অক্সিজেনের চাহিদা শুরুতে ছিল ৯০ মিলিলিটার। গতকাল তা ৭০-এ নেমেছে। এরপর ধীরে ধীরে ৫৫ ও এখন ৪০। ডাক্তাররা আগেই জানিয়েছিলেন, ৪০-এ নামলে বুঝতে হবে অবস্থা ভালো। এই অবস্থায় থাকলে তাঁকে অচেতন রাখার ওষুধও বন্ধ করে দেবেন ডাক্তাররা। তাঁদের আশা, বিকেল বা সন্ধ্যা নাগাদ তাঁর সেন্স ফিরবে। সেন্স ফিরলে, মুখ দিয়ে অক্সিজেন দেওয়া শুরু হবে হয়তো।’ আজিজুল হাকিমের কিডনি ও হৃদ্‌যন্ত্রের অবস্থা মোটামুটি ভালো। অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা নেই। ডায়াবেটিস ধরা পড়লেও নিয়ম মেনে জীবনযাপনের কারণে সেটা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দেশবাসী, ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষী ও বন্ধুবান্ধবসহ সবার কাছে আজিজুল হাকিমের রোগমুক্তির জন্য দোয়া চেয়েছে তাঁর পরিবার।

default-image

অসুস্থ আজিজুল হাকিম শুরুতে বাসাতেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। চিকিৎসক–স্বজনদের পরামর্শে ওষুধ-পথ্য খাচ্ছিলেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার সকালে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। তিনি ছাড়া পরিবারের অন্য সদস্য, স্ত্রী জিনাত হাকিম ও ছেলে রেদওয়ান হাকিমও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। গত সপ্তাহের শুরুতে হঠাৎ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়েন আজিজুল হাকিম। শুরুতে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি তিনি। প্রাথমিক চিকিৎসায় কিছুটা ভালো বোধ করলেও শারীরিকভাবে ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন তিনি।
প্রায় ৪০ বছর ধরে টিভি নাটকে অভিনয় করছেন আজিজুল হাকিম। এর আগে তিনি আরণ্যক নাট্যদলে কাজ করেছেন। আজিজুল হাকিম ১৯৮১ সালে বিটিভিতে তালিকাভুক্ত হন। ‘এখানে নোঙর’ নাটকে ছোট একটি চরিত্র দিয়ে টিভি নাটকে অভিনয় শুরু করেছিলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন
default-image

তারপর বিটিভির জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক ‘কোন কাননের ফুল’-এ অভিনয় করেন অলি চরিত্রে। তাঁর বিপরীতে ছিলেন শমী কায়সার। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন ‘কোন কাননের ফুল’ আমার অভিনয়জীবন বদলে দেয়। নাটকটি আমার জীবনে সুখের স্মৃতি হয়ে আছে। মঞ্চে তিনি ‘ওরা কদম আলী’, ‘ইবলিস’, ‘গিনিপিগ’, ‘আগুনমুখা’, ‘খেলা খেলা’, ‘মানুষ’সহ বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করেছেন বছরের পর বছর। ‘পদ্মানদীর মাঝি’র মতো আলোচিত সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। একসময় বাংলাদেশ বেতারের নিয়মিত শিল্পী ছিলেন তিনি।
লকডাউনের পর গত জুন মাস থেকে সীমিত পরিসরে ঘরের বাইরে বের হতে শুরু করেছিলেন হাকিম দম্পতি। তখন থেকেই খুব সাবধানে চলাফেরা করতেন তাঁরা। কীভাবে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেন, তা এখনো বুঝে উঠতে পারছেন না এই দম্পতি। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় চলমান সব নাটকের শুটিং বাদ দিতে হয়েছে আজিজুল হাকিমকে। একটি নাটকের কাজে ঢাকার বাইরে যাওয়ার কথা থাকলেও সেই শুটিংও বাতিল করেছেন জিনাত হাকিম।

default-image
মন্তব্য পড়ুন 0