default-image

হাসপাতালের বেড থেকেই করোনা রিপোর্ট হাতে পেয়েছিলেন আবুল হায়াত। সেই রিপোর্টে আবারও করোনা পজিটিভ এসেছে প্রবীণ এই অভিনেতার। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী আবারও তাঁকে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। তবে তাঁকে আর হাসপাতালে থাকতে হচ্ছে না। শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তিনি এখন আগের চেয়ে অনেকটাই সুস্থ। এখন বাসায় নিয়মিত চিকিৎসা নেবেন।

default-image

অভিনেতা আবুল হায়াতের সঙ্গে কথা হলে তিনি প্রথম আলোকে জানান বাসাতেই করোনা চিকিৎসার কথা। করোনা পজিটিভ হলেও তাঁর শরীরে এখন সে রকম কোনো উপসর্গ নেই। এখন তিনি আগের চেয়েও সুস্থ। এ ছাড়া অন্য কোনো শারীরিক জটিলতাও তাঁর নেই। তিনি বলেন, ‘আজ সন্ধ্যার দিকে বাসায় ফিরেছি। নিয়মিত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে। নিয়মিত ওষুধ খেতে হবে। এখন সুস্থ আছি। ঘরেই সময় কাটছে। সবার কাছে দোয়া চাই, আবার যেন শিগগির করোনামুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারি।’

বিজ্ঞাপন
default-image

আবুল হায়াত গত বছর করোনার শুরুতেই নাটকের শুটিং থেকে দূরে ছিলেন তিনি। তিনি সতর্কতা মেনে হাতে গোনা কিছু নাটকে অভিনয় করেছেন। সেগুলোর মধ্যে নিয়মিত চ্যানেল আইয়ের একটি ধারাবাহিকের শুটিং করতেন। সেই শুটিংয়েও তাঁর জন্য বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতেন শুটিং ইউনিট। নাটকটির রচনা ও পরিচালনা করেছেন তৌকীর আহমেদ। ধারাবাহিকটির নাম রূপালী জ্যোৎস্নায়। এ ছাড়া গত এক বছরে হাতে গোনা কিছু একক নাটক ও টেলিছবিতে অভিনয় করেছেন। শুটিং না থাকায় বেশির ভাগ সময় তিনি বাসাতেই কাটাতেন। পরিবারকে সময় দেওয়ার পাশাপাশি বই পড়ে ও বই লিখে তাঁর সময় কাটত। চলতি বইমেলায় এই অভিনেতার লেখা দুটি বই প্রকাশিত হয়েছে। গল্পের বইটির নাম স্বপ্নের বৃষ্টি এবং নাটকের বইয়ের নাম দুটি মঞ্চ নাটক।

default-image

বাড়িতে ফেরার পরের ১০ দিন তাঁর কী কী খেতে হবে, তা ঠিক করে দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। এমনকি কী কী করতে হবে, সেসব নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। বাসায় ফিরেই সবার আগে চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলছেন তিনি।

গত সোমবার এই অভিনেতা প্রথম আলোকে চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানিয়েছিলেন, এখন যতগুলো পারি, ডিমের সাদা অংশ খেতে হবে। পারলে দিনে সাত-আটটা। প্রচুর প্রোটিন খেতে বলেছেন তাঁরা। মাছ যদি স্বাভাবিক সময়ে এক টুকরা খাই, তাহলে এখন যেন দুই টুকরা খাই। মুরগি যদি আগে দুই টুকরা খেতাম, এখন যেন চার টুকরা খাই।’

default-image

গত ৩১ মার্চ করোনা পজিটিভ রিপোর্ট পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। হার্টে স্ট্যান্ট পরানো বলে চিকিৎসকেরা এই অভিনেতাকে নিয়ে অনেকটাই সাবধান ছিলেন। তা ছাড়া হাসপাতালে ভর্তির সময় তাঁর শারীরিক অবস্থা কিছুটা গুরুতর ছিল। একসময় তাঁর জন্য প্লাজমার প্রয়োজন দেখা দেয়। সেটা স্বল্প সময়ের মধ্যেই পাওয়া যায়। এসব কারণে শুরু থেকেই চিকিৎসকেরা খুব গুরুত্বের সঙ্গে তাঁর সেবা করেছেন। এ জন্য চিকিৎসকদের কৃতজ্ঞতা জানালেন আবুল হায়াত। তিনি জানান, শুরু থেকে তাঁর একদম অক্সিজেন সাপোর্ট লাগেনি। শ্বাসপ্রশ্বাস ও খাওয়াদাওয়াও ছিল খুব স্বাভাবিক। প্রথম দিকে একদমই খেতে পারতেন না। কিন্তু অসুস্থ হওয়ার পর থেকে ডাক্তাররা বলে দিয়েছেন, প্রচুর খেতে হবে। আবুল হায়াত বলেন, ‘আগে থেকেই খেতে পারতাম না। তা ছাড়া আমার যে বয়স ও শারীরিক কন্ডিশন, সেই বিচারে যে ভালোভাবে ফিরেছি, এতে ডাক্তাররা বিস্মিত।’

বিজ্ঞাপন
টেলিভিশন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন