আমরা কি জানতে পারছি, সারা দেশের চিত্রটা

বিজ্ঞাপন
default-image

অনেক দিন ধরে ঘরে বসে অফিসের কাজ করছি। মাঝেমধ্যে কিছুক্ষণের জন্য বের হতে হয়। তিন দিন আগে গুলশানের রাস্তায় বের হওয়ার পর হঠাৎ একজন ভ্যানচালককে দেখে গাড়ির গ্লাস নামাই। জিজ্ঞেস করলাম, কোনো সমস্যা, ভাই? তাঁর ভাষায় বললেন, ‘এটা কী কথা জিজ্ঞেস করলেন! সমস্যা মানে! ৬ দিন ধরে কোনো কাজ নাই। কেউ ডাকছে না। পকেটে কোনো টাকা নাই। কী খাব, পরিবারের মানুষকে কী খাওয়াব কিছুই জানি না!’ মানুষটার চেহারাটাও কেমন যেন হয়ে গেছে। আমি তাঁর হাতে কিছু টাকা দিলাম। হয়তো কয়েক দিন চলে যাবে। কিন্তু আগামী এক মাস ধরে যদি এই অবস্থা চলে, তাহলে কীভাবে চলবে?

রাস্তায় একটা গাড়ি থামলে, স্বল্প আয়ের মানুষ, রিকশাচালকেরা দৌড় দিয়ে আসেন। বলতে থাকেন, ‘মামা কিছু দেন, মামা কিছু দেন!’ কী যে অবস্থা। টেলিভিশন চ্যানেলের খবরেও হরহামেশা এমন চিত্র দেখছি। করোনা মহামারিতে বিভিন্ন পেশার শ্রমজীবী, স্বল্প আয়ের মানুষেরা ভীষণ বিপদের মধ্যে আছেন। আমাদের দেশে কয়েক কোটি মানুষ এখন এই অবস্থায় দিন পার করছেন। অনেকে সাহায্য–সহযোগিতা করছেন। কিন্তু এসবের একটা সার্বিক সমন্বয় দরকার। একটা সঠিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এই সহযোগিতা করা উচিত। আমাদের দেশের বেশির ভাগ মানুষ পেটের দায়ে করোনাকে উপেক্ষা করে রাস্তায় নামছেন। দেশের মানুষকে লকডাউন পরিস্থিতিতে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খাদ্যের নিশ্চয়তাও দিতে হবে।

default-image

আমাদের দেশে অনেক সামর্থ্যবান মানুষ যেমন আছেন, তেমনি বড় বড় দেশীয় ও বিদেশি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান আছে। সরকারের উচিত সবাইকে ডেকে একটা জায়গায় করা। প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের নিয়ে একটা কমিটি করা। সরকারি পর্যায় থেকে তাদেরকে একেকটা অঞ্চল ভাগ করে দিয়ে বলতে হবে, এই অঞ্চলের দায়িত্ব আপনার কিংবা আপনাদের। করোনাকালীন সঠিক উপায়ে এই খাদ্যসংকট মোকাবিলা করতে হবে। পাশাপাশি চিকিৎসক ও পুলিশ, যারা এখনও মাঠে কাজ করছে তাঁদের সুরক্ষার ব্যাপারটি নিশ্চিত করতে হবে।

default-image

করোনাভাইরাস কিংবা কোভিড–১৯ এমন একটা রোগ, এটার জন্য বেশি বেশি পরীক্ষা দরকার। এখন কয়েকটি ল্যাব এই রোগের পরীক্ষা করে। এটাকে আরও সম্প্রসারণ করতে হবে। শহরের পাশাপাশি গ্রামের দিকেও নজর দিতে হবে। গত মঙ্গলবারও বাংলাদেশের একটা বড় ল্যাব মালিকের সঙ্গে কথা বলেছি, তাঁদের বলেছি, আপনারা যদি করোনা টেস্টে না আসেন, তাহলে কেমনে কী হবে! তখন বললেন, ‘এসব তো আমাদের হাতে নেই। চাইলেই তো পারব না।’ আমি মনে করি, কেন্দ্রীয়ভাবে এটা না করে ছড়িয়ে দিতে হবে। আমরা লকডাউন করেছি। এখন বেশি বেশি টেস্ট করার পাশাপাশি সচেতনতা তৈরি করতে হবে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের দিকেও তাকাতে হবে। সারা দেশে যেভাবে কাজ হচ্ছে, তারপরও আরেকটু গোছানো হলে ভালো হতো। বাস্তবতা হচ্ছে, ঢাকায় বসে আমরা কি জানতে পারছি, সারা দেশের চিত্রটা কী?

করোনা নিয়ে নানা জন নানা মত দিচ্ছেন। কেউ বায়োলজিক্যাল ওয়ার বলছে, কেউ প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলছে। আমি মনে করছি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যেখানে এখনো কিছুই বলতে পারছে না, সেখানে এসব নিয়ে কথা বলা উচিত নয়। এটা একটা মহামারি, যা বিশ্বে এর আগে কেউ কখনো দেখেনি। করোনা ভবিষ্যতের জন্য একটা শিক্ষা। কীভাবে আমরা নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে পারি, এ ধরনের কোনো মহামারি হলে কীভাবে খাদ্য মজুত রাখতে পারি। জনগণকে নিরাপদ রাখা যায়—এসব নিয়েও ভাবতে হবে। ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিশ্বের উন্নত দেশগুলো তা নিয়ে ভাবছে।

লেখক: মডেল ও অভিনয়শিল্পী

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন