মেহ্‌জাবীন চৌধুরী
মেহ্‌জাবীন চৌধুরী
স্বল্প সময়ে কোটিবার দেখা হয়েছে মেহ্‌জাবীন চৌধুরী অভিনীত শিল্পী নাটকটি। ভালোবাসা দিবসে প্রচারিত হয়েছে তাঁর ১২টি নাটক। অভিনয়, ভিউ, ট্রল আর ব্যক্তিগত সব বিষয় নিয়ে কথা বললেন এই অভিনেত্রী।

ভালোবাসা দিবসে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে আপনার ১২টি নাটক প্রচারিত হয়েছে। আপনি নিজেও ইনস্টাগ্রামে সেই তালিকা পোস্ট করেছেন। এক দিনে একজন শিল্পীর এতগুলো নাটক দর্শকের জন্য বিভক্তির কারণ হতে পারে?

এক দিনে সব নাটক সব দর্শকের দেখার সুযোগ নেই। এখন নাটকগুলো টেলিভিশনে প্রচারের পরই ইউটিউবে আপ হয়ে যায়। যে দর্শকেরা টেলিভিশনে সেসব দেখার সুযোগ পাননি, তাঁরা সময় করে নাটকগুলো ইউটিউবে দেখে নিতে পারবেন। আমার মনে হয়, নাটকের বিভিন্ন ধরনের দর্শক আছেন। তাঁরা বিভিন্ন ধরনের কাজ পছন্দ করেন। আমার ১২টি নাটকের মধ্যে চারটি রোমান্টিক, চারটি কমেডি ও চারটি সিরিয়াস ধরনের। তারপরও বিরক্ত হওয়ার ব্যাপারটি একদমই দর্শকের ওপর নির্ভর করে। কারণ, তাঁদের মনোভাব তো আমার জানা নেই।

default-image
বিজ্ঞাপন
পরিস্থিতির কারণে হয়তো অনেক পরিচালক শিডিউল নিতে আসেন। যেসব চিত্রনাট্য আমরা পাই, কাজ ভালো হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, সেই কাজগুলোই করি। আমি তো বুঝেশুনে খারাপ কাজ করব না। আমি ওই কাজই করব, সেখানে সব সেরারা থাকবেন
মেহ্‌জাবীন চৌধুরী
default-image

নাটকে আপনাকে প্রায়ই ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে দেখা যায়। কিন্তু আপনার কি মনে হয় চরিত্রগুলো বেঁচে থাকছে? কেউ কি ওই চরিত্রগুলোর নামে আপনাকে ডাকছে?

এই প্রশ্নটা আমাকে করা একেবারেই ঠিক হবে না। এটা দর্শকই ভালো বলতে পারবে। দর্শকই এসব কাজের বিচারক। তাঁরাই ভালো বলতে পারবেন যে তাঁরা আমাকে কোন চোখে দেখেন, তাঁরা আমাকে ভালোবাসেন কি না, তাঁরা আমার চরিত্রগুলো পছন্দ করছেন কি না। তবে আমি দর্শকের সামনে আমার কাজ শতভাগ দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি। আর আমি মনে হয়, নাটকের ওই জায়গায় যাওয়ার মতো বয়স এখনো আমার হয়নি। হয়তো সামনে কখনো ও রকম কোনো চরিত্রে দর্শক আমাকে মনে রাখবেন।

default-image

শুনেছি, চাহিদার কারণে মাসের ২৫ দিনই আপনি শুটিং করেন। একটি নাটকের কাজ শেষ করতে না করতেই আরেকটির শুটিং শুরু করতে হয়। এভাবে কাজ করে নাটকের গল্প ও চরিত্র বুঝে নেওয়ার সুযোগ পান কীভাবে? এর প্রভাব তো নাটকের মানের ওপরেও পড়ে, তাই না?

গল্প ও চরিত্র বুঝে নিতে কিছু মানুষের সময় লাগে, কিছু মানুষের লাগে না। যাঁদের অভিজ্ঞতা বেশি, তাঁরা দ্রুত গল্প–চরিত্র বুঝে নেন। আমার ক্ষেত্রে যেটা হয়, আমি পরিস্থিতি বুঝেই কাজ করি। তবে এটি ঠিক যে একটি নাটকের শুটিং চার দিন করলে কাজ এক রকম হবে, আবার দুই দিন করলে আরেক রকম হবে। আবার মাঝে বিরতি নিয়ে কাজ করলে হবে আরেক রকম। এ ছাড়া নাটকের মান ঠিক রাখা একজন শিল্পীর একার নয়, টিমের সবার কাজ। দেখা গেল, আমি চরিত্রটি ভালোভাবে অনুশীলন করে এলাম, কিন্তু ভালো কস্টিউম, ভালো লোকেশন, ভালো ক্যামেরার কাজ পেলাম না। তাহলে তো আর নাটকের মান ভালো হবে না। কাজ তখনই ভালো হবে, যখন নাটকের বাজেট ভালো হবে, টিমের সদস্যরা নিজের সেরা কাজটা করবেন। পরিস্থিতির কারণে হয়তো সেই কাজটি হচ্ছে না এখন। এ কারণে নাটকের মান উত্তীর্ণ হচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

আপনার অভিনীত ‘শিল্পী’ নাটকটির দর্শক ভিউ কোটি ছুঁয়েছে। ‘বড় ছেলে’র পর এত কম সময়ের মধ্যে আপনার আরেকটি নাটক দর্শকপ্রীতির মাইলফলক স্পর্শ করল। কেমন লাগছে?

এত অল্প সময়ের মধ্যে নাটকটির কোটি ভিউ আমার ক্যারিয়ারে আরেকটি মাত্রা যোগ করল। তবে এ ঘটনা আমার একার জন্য আনন্দের তা নয়, পুরো টিমের জন্য, এমনকি ইন্ডাস্ট্রির জন্যও। নাটক যত দর্শক দেখবেন, কাজের চাহিদা তত বাড়বে। কাজের চাহিদা বাড়লে সবার কাজ বাড়বে। ইন্ডাস্ট্রি গ্রো করবে।

default-image

কিন্তু নাটকেরই কেউ কেউ বলছেন ‘ভিউ’ ‘ভিউ’ করে নাটককে ধ্বংসের পাঁয়তারা চলছে। এ ব্যাপারে আপনার মত কী?

যাঁরা এটি বলছেন, বিষয়টি নিয়ে তাঁরাই ভালো বলতে পারবেন। আমি বলতে পারব না। আমার বলার ক্ষমতাও নেই। ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে কথা বলার মতো এত বড় মানুষ আমি এখনো হইনি। বিশ্বাস করেন, আমি আমার কাজ নিয়ে ভাবি। দর্শকের জন্য বিভিন্ন ধরনের কাজ করি। বিভিন্ন কাজ দিয়ে দর্শকদের বিনোদন দেওয়ার চেষ্টা করি। তবে একটি কথা বলতে পারি, একটি ইন্ডাস্ট্রিতে ভালো কাজ হবে, মধ্যম মানের কাজ হবে, আবার খারাপ কাজও হবে। দর্শক কোনোটিকে এগিয়ে নেবেন, কোনোটিকে নেবেন না। সেসব নির্ভর করবে তাঁদের রুচির ওপর।

অনেক সময় নানা বিষয়ে তারকাদের ট্রল হতে হয়। আপনাকেও হয়েছে। কীভাবে মোকাবিলা করেন এসব?

ট্রল এক রকম সাইবার ক্রাইম। এসব মোকাবিলার কিছু নেই। এসব দেখার দায়িত্বে যাঁরা আছেন, তাঁদের অনুরোধ করব, যারা ট্রল করছে তাদের ধরে সাজা দিন। ট্রল নারী শিল্পীদের ওপর এবং তাঁদের পরিবারের ওপর প্রভাব ফেলে। যাঁরা ট্রলের শিকার হন, তাঁরা কষ্ট পান, তাঁদের সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়।

default-image

আপনিসহ বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পীর ব্যাপারে শোনা গেছে, আপনারা চিত্রনাট্য হাতে পেয়ে অনেক সময় সংলাপ ও দৃশ্য নিজেরাই সংযোজন–বিয়োজন করেন। এমনকি শুটিংয়ে কোনো দৃশ্য বা সংলাপ পরির্বতন করতে পরিচালককে চাপ দেন। এটা কি সত্য?

সংলাপ ও চিত্রনাট্যের কোনো অংশ যদি ভালো না হয়, তাহলে নাটকের টিম মিলে সেটা পরিবর্তন করতেই পারে। কাজের ভালোর জন্যই এটি করা হয়। এমন না যে কোনো শিল্পী তাঁর নিজের ক্ষতির জন্য সংলাপ বা দৃশ্যের পরিবর্তন করবেন। এটি তো সংলাপকার বা পরিচালকের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয় না। এটি টিমওয়ার্ক। যাঁরা এসব নিয়ে কথা বলেন, তাঁদের ধারণা ভুল। নাটকে ‘আমার ভালো’ মানে ‘পরিচালকের ভালো’, পরিচালকের ভালো মানে, পুরো নাটকের জন্য ভালো।

শুটিং সেটে নাকি আপনার শিডিউল নিতে পরিচালকের লাইন লেগে থাকে? যারা যায়, সবাইকে শিডিউল দেন?

পরিস্থিতির কারণে হয়তো অনেক পরিচালক শিডিউল নিতে আসেন। যেসব চিত্রনাট্য আমরা পাই, কাজ ভালো হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, সেই কাজগুলোই করি। আমি তো বুঝেশুনে খারাপ কাজ করব না। আমি ওই কাজই করব, সেখানে সব সেরারা থাকবেন। আমি চাইব ভালো চিত্রনাট্য, নাম্বার ওয়ান পরিচালক, নাম্বার ওয়ান চিত্রগ্রাহক, নাম্বার ওয়ান অভিনেতা থাকবে এমন কাজে যুক্ত হতে।

আমাদের বিনোদন অঙ্গনের তারকারা, বিশেষ করে অনেক নায়িকাই প্রেম, বিয়ে গোপন রাখেন, রাখতে চান। ভয় কোথায়?

আমি বিয়েও করিনি, গোপনও রাখিনি। এর উত্তর আমি দিতে পারব না। এ নিয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। কেন ঠিক হবে না, বিয়ে গোপন রাখার ব্যাপারটা আমাদের অনেকের মধ্যেই আছে। তাঁদের কেউ কেউ আমার সহশিল্পী হবেন। আমি এ নিয়ে মন্তব্য করলে তাঁরা দুঃখ পেতে পারেন। যদি কেউ দর্শকের কথা মাথায় রেখে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত হবে ভুল। কারণ, আমাদের অঙ্গনে অনেকেই আছেন, যাঁরা বিয়ের পরও কাজ দিয়ে আরও বেশি সংখ্যাক দর্শকের কাছে পৌঁছে গেছেন।

default-image
বিজ্ঞাপন
টেলিভিশন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন