default-image

আগের ১০ বছরে ফিরে যাই। যে দশ বছরে বাংলাদেশের ছোট পর্দায় অর্থাৎ টেলিভিশনে অন্যতম ব্যস্ত অভিনেতা ছিলেন মোশাররফ করিম। ঈদের দিনও শুটিং করতে হয়েছে মোশাররফ করিমকে। এমন ঈদও গেছে, তিন ডজন নাটক প্রচারিত হয়েছে তাঁর। কিন্তু গত চার মাস সেই ব্যস্ততার ছিটেফোঁটাও নেই। ঘরবন্দী জীবন কাটছে। এটা ভালোও লাগছে তাঁর। একাকিত্ব এমনিতেই মোশাররফ করিমের প্রিয়। এবারে সবচেয়ে ভালো কেটেছে ছেলে রায়ানের সঙ্গ।

তিন দশক অভিনয় করছেন মোশাররফ করিম। শেষ এক দশক তাঁর ব্যস্ততা তুঙ্গস্পর্শী। পরিবার তো দূরের কথা, নিজেকেও সময় দিতে পারতেন না তিনি। ‘দেশের বাইরে গেলেই কেবল ছেলেকে সময় দিতে পারতাম। এ ছাড়া খুব একটা সুযোগ হতো না। এখন ছেলের সঙ্গে খেলছি। নানা রকম প্রশ্ন করছি পরস্পরকে। সেটা অন্য রকম আনন্দ দিচ্ছে’, বলেন মোশাররফ।

default-image

ঘরে বসে মোশাররফ পড়াশোনায় মনোযোগী হয়েছেন। শরীরচর্চা করছেন। তবে আনন্দ পাচ্ছেন না। কারণ সবার মধ্যে অস্বস্তি। তাঁর মতে, মুক্ত সময়ের আনন্দ তো অন্য রকম। অনেক বছর হলো নিজের দিকে নজর দিতে পারেন না মোশাররফ। এ যেন তাঁর অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তাই নিজের কোন দিকে নজর দেওয়া উচিত, তা ভাবতে ভাবতেই চার মাস কেটে গেছে। তিনি বলেন, ‘কত বছর এভাবে সময় কাটাই না, সেই হিসাব নেই। অন্য বছরগুলোয় এই সময়ে শুটিং হাউসে পড়ে থাকতাম। চলত মাসজুড়ে ঈদের নাটকের কাজ। এই সব ব্যস্ততা আনন্দ দিত।’

default-image

এই ঈদেও সেই চাপ ছিল। লকডাউন শিথিল হলে অনুরোধ ও অঙ্গীকার রাখতে কয়েকটি নাটকে অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই কাজ করছিলেন। ‘উইশ’ নাটকের শুটিং করেছেন উত্তরায় নিজের বাসাতেই। তিনি বলেন, ‘চেয়েছিলাম “নতুন স্বাভাবিক” অবস্থায় কাজ করব, একটু বিরতি দিয়ে, সময় নিয়ে। কিন্তু শুটিংয়ে গিয়ে দেখি, আমার চিরচেনা কাজের ক্ষেত্র বিস্তর বদলে গেছে। একটি ইউনিটে বিভিন্ন জায়গার মানুষ এসে শুটিং সেটে এক হয়। এই যে স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয়, মেকআপ রুমে নিজেকে একটু সময় দেওয়া, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে, এসব মন থেকে হয়ে উঠছিল না। একটি ইউনিটে সবাই মাস্ক পরে আছে, হাতে গ্লাভস, প্রোডাকশন বয় ছেলেটার হাতে স্যানিটাইজারের বোতল, একটি দৃশ্য ধারণ শেষ করে অন্য একটি রুমে একা বসে থাকা, বদলে যাওয়া এই পরিবেশ আমার মনে ভীষণ প্রভাব ফেলছে। শুটিংয়ে গিয়ে মন ভালো থাকে না, আতঙ্ক বোধ করি। মানসিক চাপে বুক ভারী হয়ে থাকে। একেকটি দৃশ্য করে শান্তি পাচ্ছি না। যে কাজ আমাকে বাঁচিয়ে রাখে, আনন্দ দেয়, আমাকে বাঁচার স্বপ্ন দেখায়, সেখানেই আমি আনন্দ পাচ্ছি না। এ রকম নানা কারণে কাজ করতে পারছিলাম না। পরে বাধ্য হয়ে সব কাজ বাতিল করতে হয়েছে।’

মোশাররফ বলেন, ‘আমাদের হাতে খুব বেশি কিছু নাই। সত্যি বলতে কিছুই নাই। এমনিতে আমার বিশ্বাস, সবই সৃষ্টিকর্তার খেয়াল। করোনায় একটা জিনিস পাওয়া গেল, আমি-তুমি। আমাকে ভালোবাসা মানেই তোমাকে ভালোবাসা। আমাকে নিরাপদে রাখা মানেই তোমাকে নিরাপদে রাখা। আমি-তুমি মিশে একাকার।’

বিজ্ঞাপন
টেলিভিশন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন