নিয়মিত অনেক শিল্পীই সচেতনতায় শুটিং বাতিল করেছেন
নিয়মিত অনেক শিল্পীই সচেতনতায় শুটিং বাতিল করেছেনকোলাজ

এ বছরের মার্চে শুরু হয়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। প্রথম ঢেউয়ের চেয়ে এবার সংক্রমণ বেশি তীব্র। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে টিভি নাটকের শুটিংয়ে। গত দুই সপ্তাহে অনেক অভিনয়শিল্পী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। নিয়মিত অনেক শিল্পীই সচেতনতায় শুটিং বাতিল করেছেন। কেউ কেউ নতুন করে নাটকের শিডিউল দেওয়া থেকে বিরত রয়েছেন। গতকাল থেকে শুরু হয়েছে লকডাউন। এমন অবস্থায় শঙ্কা তৈরি হয়েছে শুটিং নিয়ে। নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী, প্রযোজক ও টেলিভিশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদের নাটক নিয়ে এবারও তাঁরা অনিশ্চয়তার মধ্যে আছেন।

default-image

প্রতি ঈদে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও টেলিভিশনে ছয় শ থেকে সাত শ নাটকের চাহিদা থাকে। সারা বছর ধরে নাটকগুলো তৈরি হলেও ৮০ শতাংশ নাটক নির্মাণ করা হয় ঈদের ঠিক আগের তিন মাসে। এ জন্য পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকারি স্বাস্থ্যবিধির পাশাপাশি সংগঠন থেকে কঠোর নিয়ম মানার নোটিশ দেওয়া আছে।

default-image
বিজ্ঞাপন

প্রাথমিকভাবে লকডাউনে প্রতিদিন সকাল ছয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত শুটিংয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ জন্য নাটক লেখা থেকে শুরু করে কলাকুশলী নির্বাচন, শুটিং লোকেশনে যাওয়া, শুটিং শুরু হওয়ার আগে–পরে সবাইকে মাস্ক পরা, স্যানিটাইজ করা এবং শরীরের তাপমাত্রা মাপতে হবে। সম্ভব হলে শুটিংয়ে শিশু ও বয়স্ক অভিনয়শিল্পীদের কাস্টিং না করা এবং চিত্রনাট্যবিহীন শুটিং করা যাবে না। সামাজিক দূরত্বসহ আরও বেশ কিছু নিয়ম মেনে শুটিং করতে হবে।

default-image

খবর নিয়ে জানা যায়, অভিনয়শিল্পী জাহিদ হাসান, ফজলুর রহমান বাবু, মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, আফরান নিশো, অপূর্ব, সজল, নাদিয়া, তিশাসহ অনেকেই শুটিং নিয়ে এখনো দোটানায় আছেন। তাঁদের কেউ কেউ কাজ অর্ধেক কমিয়ে দিয়েছেন। কেউ পরিস্থিতি বুঝে ধীরে ধীরে শুটিং চালিয়ে যাচ্ছেন। অভিনেতা জাহিদ হাসান বলেন, ‘সহশিল্পীদের সঙ্গে কথা বলে প্রতিনিয়তই ভাবছি, কীভাবে নিরাপদে শুটিং করা যায়। এখন ঈদের নাটকের পিক টাইম। আবার করোনাও বাড়ছে। অনেকেই শিডিউল চাইছেন, এমন অবস্থায় শিডিউল নিয়ে কী হবে, বুঝতে পারছি না। করোনার প্রকোপ বাড়লে হয়তো কাজ করা যাবে না।’

বেশির ভাগ নির্মাতা ঈদের কাজ শুরুই করতে পারেননি। তবে গত বছরের করোনার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েছেন নির্মাতা সকাল আহমেদ। এ বছর ঈদের জন্য আগেই নাটকের শুটিং শুরু করেছেন তিনি। বললেন, ‘অনেক অভিনয়শিল্পী এখন বুঝেশুনে শিডিউল দিচ্ছেন। অনেকেই শুটিংই করছেন না। সব মিলিয়ে একটা অনিশ্চয়তা, ভয় তো আছেই।’

default-image

শুটিংয়ে বেশির ভাগ কলাকুশলীর বয়স ৪০–এর নিচে। যে কারণে তাঁরা টিকা নিতে পারছেন না। করোনাভাইরাসের টিকা নিতে পারলে হয়তো খুব সতর্কতা নিয়ে কিছু কাজ করা যেত বলে মনে করেন অভিনয়শিল্পী মেহ্‌জাবীন চৌধুরী। তিনি জানান, পরিচালক, ক্যামেরাম্যান, লাইটম্যানসহ তাঁরা সবাই শুটিং নিয়ে ঝুঁকির মধ্যে আছেন। শুটিংয়ে দূরত্ব বজায় রাখা অনেক সময় সম্ভব হয় না। তিনি বলেন, ‘এখন যে অবস্থা, তাতে কয়টা কাজ ঈদের জন্য করতে পারব, বা করব কি না বুঝতে পারছি না।’
এনটিভির অনুষ্ঠান বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আলফ্রেড খোকন বলেন, ‘ঈদের নাটক নিয়ে একদম ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গেছি।

বিজ্ঞাপন

নির্মাতারা নিশ্চিত করেছিলেন, অভিনয়শিল্পীদের শিডিউল পাওয়া যাবে। এখন করোনা পরিস্থিতি বাড়ায় তাঁরা সবাই শিডিউল নিয়ে চুপ হয়ে গেছেন। অপূর্বকে নিয়ে একজন নির্মাতার শুটিং শুরু করার কথা ছিল, নির্মাতা নিজেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এভাবে চললে এবারও নাটক প্রচার নিয়ে জটিলতায় পড়ব।’

সরকারি প্রজ্ঞাপনে স্বাস্থ্যবিধি মানার নিমিত্তে শিল্পকারখানা, ব্যাংক–বিমা, সীমিত পরিসরে অফিস, জরুরি কিছু সেবা চালু থাকবে। চাইলে কেউ শুটিং করতে পারেন। তবে অবশ্যই আমরা কোনো শিল্পীকে শুটিং করতে উৎসাহিত করছি না। জীবনের প্রয়োজনে আমাদের ঘরে থাকা উচিত।
শহীদুজ্জামান সেলিম
default-image

পরিস্থিতির উন্নতি না হলে নাটক নির্মাণ কমবে বলে মনে করেন শিল্পীসংঘের সভাপতি শহীদুজ্জামান সেলিম। তিনি বলেন, ‘সরকারি প্রজ্ঞাপনে স্বাস্থ্যবিধি মানার নিমিত্তে শিল্পকারখানা, ব্যাংক–বিমা, সীমিত পরিসরে অফিস, জরুরি কিছু সেবা চালু থাকবে। চাইলে কেউ শুটিং করতে পারেন। তবে অবশ্যই আমরা কোনো শিল্পীকে শুটিং করতে উৎসাহিত করছি না। জীবনের প্রয়োজনে আমাদের ঘরে থাকা উচিত। কেউ চাইলে সরকারি স্বাস্থ্যবিধি ও আমাদের সংগঠনের নীতিমালা মেনে নিজ দায়িত্বে শুটিং করতে পারবেন।’

টেলিভিশন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন