সেই সব সকাল
গ্রামের ঈদের সকালটি এখনো মোশাররফের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। তাঁদের বাড়ির পাশেই ছিল আড়িয়াল খাঁ নদী। সেই নদীতে সাবান মেখে গোসল করা ছিল তাঁর দীর্ঘদিনের নিয়ম। ঈদের দিন অনেক সকালে নদীতে গিয়ে গায়ে সাবান মেখে গোসল করতেন। ঢাকায় ঈদের দিন সকালে গোসল করার সময় এখনো তাঁর সেই সব দিনের কথাই মনে পড়ে।

দর্শকদের পছন্দের অভিনেতা হওয়ার পর গ্রামে ঈদের সময়গুলো কেমন ছিল?
প্রশ্নের উত্তরে এবার গ্রামের মানুষের নিখাদ ভালোবাসা উন্মোচন করলেন মোশাররফ করিম, ‘ঈদের আগে শুটিংয়ের এমন চাপ থাকত যে ছুটির অবকাশে বাড়িতে গেলে এমনিতেই ক্লান্তি লাগত। তবু এই সময়েও তেমন একটা অবসর মিলত না। গ্রামের মানুষ তো আছেনই, দূরদূরান্তের জেলা থেকে দল বেঁধে মানুষ আসতেন দেখা করার জন্য।

তাঁদের আবদারগুলো অনেক ছোট—কেউ একটি ছবিত তুলতে চায়, কেউ দুই মিনিট কথা বলতে চায়। অনেকেই পছন্দের খাবার রান্না করে নিয়ে আসেন। এ জন্য কষ্ট হলেও তাঁদের সময় দিতাম। এই যে আমি গত চার বছরের মতো ঈদে বাড়ি যাই না। তবু আমার গ্রামের বাড়িতে মানুষ আমাকে দেখার জন্য আসেন। কিন্তু যখন তাঁরা শোনেন যে তাঁদের ছেলে এবার গ্রামে আসেনি, তাঁরা হতাশ হয়ে ফিরে যান। এই ভালোবাসার মানুষদের হতাশ করতে ইচ্ছা করে না।’

নিজেকে খুঁজে পাওয়া
পিঙ্গলকাঠিতে মোশাররফ করিমের বাড়িটি বলতে গেলে এখন খালিই পড়ে থাকে। কিন্তু এই অভিনেতার স্মৃতিগুলো তো জীবন্ত। কোনো একটা বয়সী গাছ দেখলে তাঁর মনে পড়ে, আহারে কত দিন এই গাছের নিচে খেলেছি! নদীকে খুব আপন মনে হয়। মনে হয়, আড়িয়াল খাঁ কত কতবার ধরে রেখেছে আমার সাঁতারের চিহ্ন!

এসব কথা বলতে বলতেই শেষবেলায় মোশাররফ করিম বললেন, ‘নাগরিক ব্যস্ততায় গ্রামে এখন সেভাবে ফিরতে পারি না। তবু উৎসবের দিনগুলো পিঙ্গলকাঠিতেই কাটাতে ইচ্ছা করে আমার। কারণ, এখানেই আমি পুরোপুরি নিজেকে খুঁজে পাই। এখানেই আমি শামীমকে ফিরে পাই।’