বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

‘মহানগর’
গল্প, অভিনয়, চিত্রগ্রহণ, নির্মাণ—সবদিক থেকে চলতি বছরের আলোচিত বাংলা ওয়েব সিরিজ ছিল মহানগর। আশফাক নিপুণের রচনা ও পরিচালনায় এতে অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম, মোস্তাফিজুর নূর ইমরান, শ্যামল মাওলা, শাহেদ আলী, জাকিয়া বারী মম প্রমুখ। ২৫ জুন হইচইয়ে মুক্তি পায় এটি। পুলিশের হাতে আটক হয় রাজধানীর ধনাঢ্য এক পরিবারের বখাটে ছেলে। প্রভাবশালী বাবার তাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা ও ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এগিয়ে যায় সিরিজটি। উঠে আসে মহানগর ঢাকার অপরাধজগতের একটি খণ্ডচিত্র। বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের দর্শক, সমালোচক ও বিনোদন অঙ্গনের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা সিরিজটির নির্মাণ ও শিল্পীদের অভিনয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এ সিরিজের মাধ্যমে নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছে গেছেন নির্মাতা নিপুণ।

default-image

‘মুম্বাই ডায়েরিজ ২৬/১১’
সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশের যেভাবে সন্ত্রাসীদের মোকাবিলা করা উচিত, তার একটা যথাযথ নমুনা দেখা যাবে হিন্দি ভাষার ওয়েব সিরিজ মুম্বাই ডায়েরিজ ২৬/১১-এ। ৯ সেপ্টেম্বর এটি মুক্তি পায় আমাজন প্রাইম ভিডিও ইন্ডিয়াতে। পুলিশসহ এতে দেখা গেছে চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ড বয়, বিএমসি–কর্মীদের; যারা প্রকৃত অর্থে সমাজের একেকজন নায়ক। একটি সংকটময় সময়ে দায়িত্বের বোধ থেকে শহরকে সচল রাখেন তারা। সিরিজটি দেখে সাত শতাধিক ব্যক্তি রিভিউ দিয়েছেন অনলাইনে। সেখানে একজন লিখেছেন, গল্প বলার চেষ্টা না করেও টান টান উত্তেজনায় দর্শককে আটকে রেখে বিনোদন দিয়েছে সিরিজটি। অপেক্ষা করিয়েছে পরের পর্বের জন্য। নিখিল আদভানি পরিচালিত এ সিরিজে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন কঙ্কণা সেনশর্মা, মোহিত রায়না, প্রকাশ বেলাওয়াদি, টিনা দেশাই, শ্রেয়া ধন্বন্তরী পুষ্করঞ্জি প্রমুখ।

প্রশংসা কুড়ানো অন্য সিরিজগুলো:
মরীচিকা,বলি, মেয়ার অব ইস্টটাউন, বোম্বে বেগমস, রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনো খেতে আসেননি, মানি হাইস্ট (শেষ মৌসুম), ফ্যামিলি ম্যান (দ্বিতীয় মৌসুম), আরিয়া (দ্বিতীয় মৌসুম), দ্য উইচার (দ্বিতীয় মৌসুম), সাকসেশন (তৃতীয় মৌসুম), ইনসাইড এজ (তৃতীয় মৌসুম)।
default-image

‘মন্দার’
শেক্‌সপিয়ারের ম্যাকবেথ থেকে মন্দার নির্মাণ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্য। অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্রে ইতিমধ্যে মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশি দর্শকের হৃদয়ে। এবারে সিরিজ পরিচালনা করে রীতিমতো একটা ধাক্কা দিয়ে বসলেন। ১৯ নভেম্বর এটি মুক্তি পেয়েছে হইচইয়ে। এখানে যেন ডাইনিরূপে দেখা গেছে মা, ছেলে ও বাড়ির বিড়াল কালাকে। তাদের সংলাপ, অভিব্যক্তি রীতিমতো অস্বস্তিকর এক অনুভূতি জাগাবে দর্শকের মনে। সিরিজটি যেভাবে যে বার্তা দিয়েছে, সেটাও দর্শককে ভাবনার খোরাক জোগাবে। এতে অভিনয় করেছেন সোহিনি সরকার, দেবাশীষ মণ্ডল, দেবেশ রায় চৌধুরী এবং অনির্বাণ ভট্টাচার্য নিজে।

বলি

বছরের আলোচিত ওয়েব সিরিজের আরেকটি ‘বলি’। এ ওয়েব সিরিজে জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীকে নতুন রূপে দেখা গেছে। ওয়েব প্ল্যাটফর্ম হইচইতে মুক্তি পাওয়া সিরিজটি বেশ সাড়া ফেলেছিল। বিশেষ করে চঞ্চল চৌধুরীর খল চরিত্রে অভিনয়, সংলাপ দর্শকের আগ্রহ তৈরি করেছে সিরিজটি দেখতে। শঙ্খ দাসগুপ্তের পরিচালনায় নির্মিত সিরিজটিতে আরও অভিনয় করেছেন সালাহউদ্দিন লাভলু, ইরেশ যাকের, মৌসুমি মৌ, সোহেল মণ্ডল, সোহানা সাবা, সাফা কবির, লুৎফর রহমান জর্জ, জিয়াউল হক পলাশ, কাজী রোকসানা রুমা, নাসির উদ্দিন খান প্রমুখ। বলির গল্পটি ছেঁড়াদিয়া বঙ্গোপসাগরের বিচ্ছিন্ন এক দ্বীপ নিয়ে। এই দ্বীপের দখল যার হাতে, তারই রাজত্ব সেখানে। কারণ, এই দ্বীপ চিংড়ি আর লবণের বাণিজ্যকেন্দ্র। টাকা আর জমি দখলের কারবার যেখানে, সেখানে প্রভাব বিস্তারের রাজনীতি থাকবেই। ছেঁড়াদিয়াতেও আছে। এখানে টক্কর চলে দুই পরিবারের মধ্যে। বংশপরম্পরায় সেই পরিবারের যে হাল ধরে তার নাম হয় কোম্পানি। আর কোম্পানিদের প্রভাব বজায় রাখে বলি; বল প্রয়োগে জমি দখলে রাখাই যাদের কাজ। এই কাজে তাদের বাধা দেওয়ার কেউ নেই। ছেঁড়াদিয়ায় নেই কোনও আইনের শাসন। ওখানে বন্দুকের নল থেকেই বের হয় ক্ষমতা। সেই ক্ষমতার টক্করে কে বাঁচে, কে মরে যায় সেটা নিয়েই এ ওয়েব সিরিজের কাহিনি আবর্তিত।

টেলিভিশন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন