এলাকার নামকরা শিক্ষকের মেয়ে ইয়াসমিন। সেই শিক্ষকেরই প্রিয় ছাত্র আসিফ। আসিফ এতিম, এই সংসারে তাঁর কেউ নেই বললেই চলে। মেধাবী ছাত্র আসিফের সঙ্গে ইয়াসমিনের প্রেম। কিন্তু ইয়াসমিনের বাবা সেই প্রেম মেনে নেননি। জোর করে বিয়ে দেওয়া হয় ইয়াসমিনকে। কিন্তু ইয়াসমিনের সেই সংসার সুখের হয় না। স্বামীর নির্যাতনে এক পা পঙ্গু হয়ে যায় তাঁর। একসময় স্বামীও মারা যান। এভাবেই কেটে যায় এক যুগ। তারপর আবার একদিন আসিফের সঙ্গে দেখা হয়ে যায় ইয়াসমিনের। তারপর? এভাবেই এগিয়েছে ‘স্যারের মেয়ে’ নাটকের গল্প।  

default-image

নাটকে ইয়াসমিন চরিত্রে অভিনয় করলেন মৌসুমী মৌ। এখানে তাঁর বাবার ভূমিকায় দেখা যাবে দেশের গুণী অভিনেতা আবুল হায়াতকে। আর আসিফের চরিত্রটি  করেছেন মনোজ প্রামাণিক।  

বিজ্ঞাপন

আবুল হায়াতের সঙ্গে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা ভাগ করে মৌ বলেন, ‘উনি তো কিংবদন্তিতুল্য। আমি ভয়ে ভয়ে ছিলাম। অথচ শুরুতেই উনি আমাকে সহজ করে নিলেন। গল্পটল্প করে আমার ভয় দূর করে দিয়েছেন। শুটিং সেটে একজন বাবা পেয়েছি আমি। তাঁর সঙ্গে করা প্রতিটি দৃশ্য, সংলাপ তিনি রিহার্সাল করে করে আমাকে শিখিয়েছেন। আর অভিনয়ের জন্য দারুণ কিছু টিপসও দিয়েছেন।’ আর মনোজ প্রামাণিকের সঙ্গে? মৌ জানালেন ‘মনোজ দা’ও ভীষণ সাবলীল। বলেন, ‘রোমান্টিক চরিত্রে অভিনয় করা খুবই কঠিন। তবে মনোজ দার জন্য সহজে উতরে গেছি।’

default-image

উপস্থাপক হিসেবে পরিচিত মৌসুমী মৌ এর আগেও অভিনেত্রী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন ক্যামেরার সামনে। ২০২০ সালের মার্চে অভিনয় করেছিলেন সালাউদ্দিন জাকীর টেলিফিল্ম ‘অগ্নিফসল’–এ। সেখানে আফজাল হোসেনের সঙ্গে দেখা দিয়েছিলেন পর্দায়। এক বছর পর আবার দাঁড়ালেন ক্যামেরার সামনে। উপস্থাপক হিসেবে যখন ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান আর যখন অভিনেত্রী হিসেবে দাঁড়ান—এই দুয়ের পার্থক্য কী? ‘বিস্তর পার্থক্য। যখন আমি উপস্থাপক, তখন আমিই রাজা। আমি নিয়ন্ত্রণ করি, কী বলব, কীভাবে বলব। আর অভিনেত্রী হিসেবে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালে নার্ভাস হয়ে যাই।’  

default-image

মৌ ২০১৪ থেকে ‘ঢাকা ইউনিভার্সিটি মাইম অ্যাকশন’ সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইম অ্যাকশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। এখন উপদেষ্টা হিসেবে আছেন। নিয়মিত মাইম করেন। ২০১৬ সালে মূকাভিনয় নিয়ে শো করতে গিয়েছিলেন ভারতের দিল্লীতে। চীনে আর ভারতের কলকাতাতেও একাধিক শো করেছেন। এই মাসেও শো আছে। ‘স্যারের মেয়ে’ নাটকে অভিনয় করা মৌ ব্যক্তিজীবনেও ‘স্যারে’র মেয়ে। তাঁর বাবা–মা দুজনই শিক্ষক। বাবা প্রধান শিক্ষক হওয়ায় স্কুলের বড় ভাই–বোন কিংবা এলাকার লোক তাঁকে ‘স্যারের মেয়ে’ বলেই ডাকত।

default-image

বড় পর্দায় ‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’ ছবি দিয়ে খাতা খোলার কথা ছিল মৌয়ের। অনুশীলনও করেছিলেন। কিন্তু সে সময় মাস্টার্স দ্বিতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষা শুরু হওয়ায় ছবিটা আর করা হয়নি। তবে সেই ফল পেয়েছেন। স্নতকোত্তরে হয়েছেন প্রথম শ্রেণিতে প্রথম। জানালেন, মনের মতো চরিত্র পেলে অভিনয়ও চলবে সমানতালে। চয়নিকা চৌধুরী পরিচালিত নাটকটি প্রচারিত হবে ঈদে, একটি বেসরকারি টেলিভিশনে।

বিজ্ঞাপন
টেলিভিশন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন