default-image

: আচ্ছা, আপনার ওজন কত?
: সাড়ে তিন মণ! কী, অবাক হচ্ছেন? সত্যিই তা-ই!
বলেই হাসলেন মোশাররফ করিম। কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর বললেন, ‘আমার নতুন ছবির নাম সাড়ে তিন মণ। নামটা একটু অন্য রকম, তাই না? গল্পটাও সে রকমই। খুব মজার। আমার চরিত্রটিও দারুণ। অভিনয়ের অনেক সুযোগ আছে। তাই তো রাজি হয়েছি।’
নভেম্বরে সাড়ে তিন মণ ছবির কাজ হবে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে। পরিচালক ইফতেখার চৌধুরী। ছবিতে মোশাররফ করিমের সঙ্গে অভিনয় করবেন ভারতের রিয়া সেন।
সাড়ে তিন মণ হবে মোশাররফ করিমের সাত নম্বর চলচ্চিত্র। তাঁর অন্য ছবিগুলো হলো জয়যাত্রা, দারুচিনি দ্বীপ, রূপকথার গল্প, প্রজাপতি, থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার আর টেলিভিশন।
শনিবার বিকেলে মুঠোফোনে কথা হলো মোশাররফ করিমের সঙ্গে। জানালেন, তখন তিনি চট্টগ্রামে। ঢাকায় ফিরছেন। উড়োজাহাজে উঠবেন। বুধবার গিয়েছিলেন সেন্ট মার্টিনে। সেখানে ছিলেন তিন দিন। বিমানবন্দরে নেমেই যাবেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীতে। সেখানে জাতীয় নাট্যশালায় তাঁর দল নাট্যকেন্দ্রের দুই যুগ পূর্তি উৎসব হচ্ছে।
রোববার সকালে মোশাররফ করিমের সঙ্গে কথা হবে পূর্ব রামপুরার কুঞ্জবনে তাঁর বাসায়। নির্ধারিত সময়ের কিছুক্ষণ পর ঘুম থেকে উঠলেন তিনি। দেরি হওয়ার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বললেন, ‘উৎসব শেষে কাল একটু রাত করে বাসায় ফিরেছি। অনেক দিন পর দলের সবার সঙ্গে চমৎকার সময় কেটেছে। আমার শুরুটা তো মঞ্চ থেকেই। নাট্যকেন্দ্রের শুরু থেকেই ছিলাম আমি। সর্বশেষ কাজ করেছি প্রতিসরণ নাটকে। টিভির কাজের চাপে এখন আর মঞ্চে সেভাবে সময় দিতে পারি না। দলের মানুষগুলোকে মিস করি, চর্চাটা মিস করি। দল তো একটা পরিবার। সবাই মিলে চলা, ভাগ করে চা পান করা। পুরোটা সময় শিল্পের একটা আবহে বাস করেছি। যখন দলে নিয়মিত ছিলাম, তখন ভালো নাটক, বই কিংবা সিনেমা নিয়ে দীর্ঘসময় আলোচনা হতো। এগুলো আসলে দলেই হয়।’
সেন্ট মার্টিনে মোশাররফ করিম প্রথম গিয়েছিলেন তৌকীর আহমেদের দারুচিনি দ্বীপ ছবির কাজ করতে। তা প্রায় বছর সাতেক আগের কথা। ২০০৭ সালে ছবিটি সাতটি বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিল। এবার মোশাররফ করিম সেন্ট মার্টিন গিয়েছেন স্ত্রী জুঁই আর ছেলে রায়ানকে নিয়ে। তাই তাঁর এবারের সফরটি একটু অন্য রকম হয়েছে। বললেন, ‘ঈদের পর, তাই ভিড় তো ছিলই, কিন্তু আমরা আমাদের মতো করে সময় কাটিয়েছি। খুব ভালো লেগেছে জোছনা রাত, চাঁদ আর সাগরের নীল পানি। এ এক অদ্ভুত অনুভূতি! বলে বোঝানো যাবে না।’
আরও বললেন, ‘আমার মুগ্ধ হওয়ার পালা শুরু হয়েছিল টেকনাফ থেকে। ঈদের পরদিন ছিল পূর্ণিমা। রাতে আমরা জেটিতে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম। ঠান্ডা বাতাস। জোছনার আলোয় নাফ নদী চিকচিক করছে। মাছগুলো লাফাচ্ছে। এ দৃশ্য ভাবা যায়!’
সেন্ট মার্টিনের চমৎকার অনুভূতিগুলো একনিমেষে কালো মেঘের ছায়ায় ঢেকে যায়। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘হুদহুদ’ ধেয়ে আসছে ভূমির দিকে। সাগর উত্তাল হতে শুরু করেছে। আর দেরি নয়, স্ত্রী আর সন্তানকে নিয়ে টেকনাফে আসার জাহাজে উঠলেন মোশাররফ করিম।
মোশাররফ করিম বললেন, ‘আমাদের ছোট্ট একটা দেশ। কিন্তু প্রকৃতি আমাদের অনেক দিয়েছে। আমাদের পাহাড় আছে, নদী আছে, সমুদ্র আছে, সমতল ভূমির মজা আছে, সুন্দরবন আছে, বান্দরবান আছে, কক্সবাজর সমুদ্রসৈকত আছে; নেই শুধূ মরুভূমি। কিন্তু আমরা কি প্রকৃতির এই দান সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারছি। যদি তা-ই সম্ভব হতো, তাহলে শুধু পর্যটন খাত থেকেই বিরাট অঙ্কের রাজস্ব আয় হতো। এই দিকটাতে সবার এখনই নজর দেওয়া উচিত।’
এবার নাটক প্রসঙ্গ। ঈদের কোনো নাটকই দেখা হয়নি মোশাররফ করিমের। বললেন, ‘নিজের কাজ দেখি না। নিজের নাটক দেখতে ভয় লাগে। দেখে আফসোস করার দরকার নেই। বরং শুটিং যখন করি, তখন ভালোভাবে করি। কাজের জায়গায় সৎ থাকার চেষ্টা করি। কিন্তু এখন যে পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে, আপনি চাইলেও সৎ থাকতে পারবেন না। পরিস্থিতিই আপনাকে কাজের সঙ্গে আপস করতে বাধ্য করবে। এর বড় কারণ বাজেট সংকট।’
আরও বললেন, ‘অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এখন দারুণ দারুণ কিছু কাজ হচ্ছে। নতুনেরা এসে নিরীক্ষা করছে। কোনো ইনস্টিটিউট নেই, কোনো প্রশিক্ষণ নেই; এর পরও আমাদের ভালো নাট্যকার, পরিচালক, ক্যামেরাম্যান, এডিটর আছেন। তাঁরা কিন্তু নিজেরাই নিজেদের তৈরি করেছেন। কাজের প্রতি প্রেম আর ভালোবাসা তাঁদের সফল হতে সাহায্য করেছে। শুধু বাজেট কমে যাওয়ার কারণে পুরো ব্যাপারটি আজ ভেস্তে যেতে বসেছে।’
এবার ছবি তোলার পালা। মোশাররফ করিম বললেন, ‘চলুন, আফতাবনগরের ভেতরে চলে যাই। ওখানে চমৎকার কাশবন আছে। সঙ্গে পুকুর। দারুণ জায়গা।’
সেন্ট মার্টিন থেকে ফেরার পর মোশাররফ করিম এখনো প্রকৃতির প্রেমে পড়ে আছেন। হেসে বললেন, ‘প্রকৃতিই সব। প্রকৃতিকে আদর করুন, প্রকৃতি আপনাকে উজাড় করে দেবে। আর উল্টোটি হলে..., প্রকৃতির প্রতিশোধ বড় ভয়ংকর।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0