default-image

বাবার চাকরিসূত্রে ঢাকাতেই থাকতেন ফারুক আহমেদরা। তবে ঈদ এলে যেতে হতো গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জে। কখনো দাদাবাড়ি, কখনো নানা বাড়ি ঈদ উদ্‌যাপন করতে হতো। সেসব দিনের স্মৃতি স্মরণ করে এই অভিনেতা বলেন, ‘দাদাবাড়ি ও নানাবাড়ি—দুই বাড়িতেই ঈদ করতাম। আমার দাদার পরিবার ছিলেন অর্থনৈতিকভাবে একটু দুর্বল। অন্যদিকে নানাবাড়ির পরিবার ছিল ধনী। দুই পরিবার এদিক থেকে একেবারেই রিভার্স। দেখা যেত নানাবাড়িতে ধুমধামে কোরবানি হতো কিন্তু সেই সময়ে দাদাবাড়িতে কখনোই তেমন একটা কোরবানি করতে দেখিনি। বাবা ছিলেন সরকারি স্কুলের শিক্ষক। তিনি সেই সময় ৫০০–৭০০ টাকা বেতন পেতেন। এই টাকা দিয়েই আমাদের চার ভাই–বোনের পড়াশোনাসহ যাবতীয় খরচ চলত। অনেক সংগ্রাম করে আমাদের বড় হতে হয়েছে। বাবা কষ্ট করে চাইতেন আমরা যেন মানুষের মতো মানুষ হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারি। সেখানে হয়তো আমরা ভাই–বোনেরা সফল হয়েছি। এখন সবার ভালো সামর্থ্য। সন্তান পরিবার নিয়ে সবাই ভালো আছি।’

default-image

ঈদের সময় নানা খেলায় মেতে উঠতেন কিশোর ফারুক। দাঁড়িয়াবান্দা, হাডুডু, ফুটবলসহ নানা খেলা। তার মধ্যে ঈদের দিন কলসের মুখের গরুর বিশেষ চামড়া দিয়ে ঢোল বানানো ছিল অন্যতম। কখনো আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে বেড়াতে যেতেন। ভালো–মন্দ মিলিয়েই কেটেছে ঈদের দিনগুলো। এই অভিনেতা সেবস অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করে বলেন, ‘পরে আব্বা কোরবানি দিয়েছেন। তখন অদ্ভুদ এক রীতি ছিল। আমরা ছিলাম মোল্লা বংশের। যে কারণে তখন গ্রামের নিয়ম ছিল যে কোরবানি দিবে সে গরুর মাথা পাবে। আমরা তখন বাড়িতে মাথা এনে খেতাম।’

default-image

সাদা মনের মানুষ ফারুক আহমেদের কথায় আরও উঠে আসে নানা কথা। শৈশবে ঈদের সময় কখনো নতুন পোশাক নিতেন, কখনো আবার কেনা হতো না। সেই সময়ের সঙ্গে বর্তমান সময়ের তুলনা করে করে ফারুক আহমেদ ফেসবুক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘এখন আমরা অনেকেই সন্তানদের নিয়ে কত ঐশ্বর্যের সঙ্গে জীবন যাপন করি। বাংলাদেশের মানুষ আগের চেয়ে বহুগুণ ভালো আছে। তবে এবার সিলেটসহ দেশের বেশ জায়গায় বন্যা হয়েছে। আমি ধনীদের বলব, আপনাদের যাদের সামর্থ্য আছে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ান। তারা খুশি এই সময়ে অনেক কষ্টে রয়েছে। সবশেষে সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা।’

টেলিভিশন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন