করোনা থেকে ফিরে ৫০০ মানুষের পাশে আজিজুল হাকিম
চরাঞ্চলের নিম্ন আয়ের অসহায় মানুষের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন অভিনেতা আজিজুল হাকিম ও তাঁর স্ত্রী জিনাত হাকিম। আজ সোমবার সকালে তাঁদের পাঠানো খাদ্যদ্রব্য বিতরণ করা হয় রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ থানার উজানচরের ৫০০ পরিবারের মধ্যে।
বন্যায় প্রতিবছর ক্ষতিগ্রস্ত হয় ওই অঞ্চলের মানুষ। এর মধ্যে অনগ্রসর এই অঞ্চলের মানুষের দুর্বিষহ জীবনকে থামিয়ে দিয়েছে করোনা মহামারি। মানবেতর জীবন যাপন করছে সেখানকার ৫০০ পরিবার। করোনা মহামারির শুরুতেই হাকিম দম্পতি চেয়েছিলেন অসহায় ওই সব মানুষের পাশে দাঁড়াতে। করোনার প্রকোপে লকডাউন শুরু হলে সেটা সম্ভব হয়নি। তবে কিছু মানুষকে আর্থিক সাহায্য দিয়েছিলেন তাঁরা। পরে জেনেছেন, চরাঞ্চলের অনেক মানুষ কাজ হারিয়ে বেকার বসে আছে। তার ওপর বাড়ছে শীত।
আজিজুল হাকিম জানান, বন্যা ও ঈদে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও নানা কারণে এসব মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারেননি তাঁরা। সপরিবার করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় পিছিয়ে যায় সাহায্যের তৎপরতা। করোনামুক্ত হয়ে যখন বাসায় বিশ্রাম নিচ্ছেন, তখন আবার ওই সব মানুষকে নিয়ে ভেবেছেন এই শিল্পীদম্পতি। আজিজুল হাকিম বলেন, ‘গ্রামের অনেক মানুষ এখন আরও অসহায় হয়ে পড়েছে। এদিকে আবার শীত বাড়ছে। তাদের কষ্টে আমরা সামর্থ্যমতো সহযোগিতা করছি। আমরা চাই, আমাদের দেখে আরও অনেকে এসব মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসুক। ’উজানচর জিনাত হাকিমের দাদাবাড়ি। তিনি জানান, বেশ কয়েকবার পরিকল্পনা করেও সম্প্রতি সেখানে যাওয়া হয়নি তাঁদের। বোন–ভগ্নিপতিকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। তাঁরা করোনায় আক্রান্ত হলে সেই পরিকল্পনা বাতিল করা হয়। পরে তাঁরা নিজেরাই আক্রান্ত হন।
জিনাত হাকিম বলেন, ‘আমাদের গ্রামের সাহাজউদ্দিন মণ্ডল ইনস্টিটিউটের প্রধান শিক্ষক আরিফা বেগম আপার সঙ্গে পরামর্শ করে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ঈদে যা দিতে চেয়েছিলাম, সেগুলোই দিচ্ছি। যে যাঁর সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলে এ রকম উদ্যোগে অন্যরাও উৎসাহিত হবেন।’ তিনি জানালেন, তাঁদের সাহায্যের তৎপরতা দেখে তাঁর খালাতো বোন তানজিলা আফরোজ চরাঞ্চলের মানুষের জন্য ৫০০ শীতবস্ত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
হাকিম দম্পতির পক্ষে খাদ্যদ্রব্য বিতরণের এই কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন গ্রামে বসবাসরত তাঁদের আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় প্রশাসনের ব্যক্তিরা। ৫০০ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় ৫০০ কম্বল এবং ৫০০ প্যাকেট খাদ্যসামগ্রী, যাতে ছিল ১০ কেজি চাল, ডাল, তেল, সাবান, লবণ, সেমাই, দুধ, চিনি ও মাস্ক।