তৌসিফ মাহবুব
তৌসিফ মাহবুব ছবি সংগৃহীত

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া নিয়ে লুকোচুরি খেলছেন অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব। গত ১ নভেম্বর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ট্যাটাস দেন, স্ত্রীসহ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। সেদিন রাতে এই অভিনেতা প্রথম আলোকে জানান, তিনিও করোনায় আক্রান্ত। পরীক্ষা করাননি, তবে বাসায় আইসোলেশনে আছেন। পরে জানা যায়, সেদিন তিনি শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন। গতকাল তিনি দাবি করেন, তাঁর করোনা নেগেটিভ।

default-image


১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা ৪৩ মিনিটে তৌসিফ ফেসবুকে লিখেছিলেন, ‘প্রতিটি স্বামীকে এই দিনটি দেখতে হবে। করোনায় শুধু বউ না, শ্বশুরবাড়িতে সবাই আক্রান্ত, আমিও। দোয়া করবেন, প্লিজ।’ স্ট্যাটাসের সঙ্গে জুড়ে দেন তাঁদের একটি পুরাতন ছবি। সেই ছবি নিয়ে এই অভিনেতা লিখেছেন, ‘ছবিটি পুরাতন, কিন্তু বউটা এইবার অনেক অসুস্থ।’ তাঁদের শারীরিক অবস্থা জানতে তৌসিফকে দুবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এই অভিনেতার সঙ্গে সবচেয়ে বেশি কাজ করেন সাফা কবির। ব্যক্তিগত জীবনে তাঁরা খুবই কাছের বন্ধু।

default-image
বিজ্ঞাপন

সাফার কাছে তৌসিফের অসুস্থতার খবর জানতে চাইলে তিনি জানান, সর্বশেষ একসঙ্গে তাঁরা একটি নাটকের শুটিংয়ে অংশ নিয়েছিলেন। পরে সেই নাটকের শুটিং সেটে তিনি জানতে পারেন তৌসিফ মাহবুবের শ্বশুর–শাশুড়িসহ পরিবারের সবাই করোনায় আক্রান্ত। পরে পরিচালক রিফাত মজুমদারের সঙ্গে পরামর্শ করে শুটিং স্থগিত করেন তৌসিফ ও সাফা। এই পক্ষগুলোর ভাষ্য অনুসারে, ২৪ নভেম্বর থেকেই তৌসিফ আইসোলেশনে চলে যান।
সে রাতে তৌসিফের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, করোনার কোনো উপসর্গ তাঁর নেই, তিনি ভালো আছেন। তবে বাসায় আইসোলেশনে আছেন। তবে তাঁর স্ত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। ২৩ নভেম্বর তাঁর শ্বশুরবাড়ির সবাই করোনায় আক্রান্ত হন। পরদিন তাঁর স্ত্রীর করোনা পজিটিভ রিপোর্ট পান। পুরো সময়টায় তিনি শ্বশুরবাড়িতে থেকে স্ত্রীর সেবা করেছেন। এসব কারণেই তাঁর ধারণা হয়, তিনিও করোনায় আক্রান্ত।

default-image

১ ডিসেম্বর হঠাৎ তৌসিফের শুটিংয়ের কিছু ছবি ফেসবুকে ঘুরতে থাকে। ছবিতে দেখা যায়, পাগল বেশে রেললাইন ধরে হাঁটছেন এই অভিনেতা। পরে শুটিং ইউনিট সূত্র জানায়, তৌসিফ মাহবুব ১ ডিসেম্বর শুটিংয়ে অংশ নিয়েছিলেন। একটি অসমাপ্ত নাটকে তাঁর একক কিছু দৃশ্য বাকি ছিল। সেই দৃশ্যগুলো তিনি শেষ করেছেন। যদিও এ সময় তিনি সবার থেকে যথেষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করেছেন। মুখেও ছিল মাস্ক। অল্প সময় শুটিং করে দ্রুত বাসায় ফেরেন তৌসিফ।
তৌসিফের শুটিং লোকেশন ছিল কারওয়ান বাজার রেললাইন। পরে অবশ্য তাঁদের বিপাকে পড়তে হয়। সংবাদকর্মীদের অনেকে তাঁকে শুটিং স্পটে দেখে ফেলেন। করোনায় আক্রান্ত একজন মানুষ কীভাবে শুটিংয়ে অংশ নেন, এ রকম প্রশ্ন উঠলে বিব্রত হন পরিচালক ও অভিনেতা দুজনই। তখন দ্রুত তাঁরা লোকেশন বদলে ফেলেন।

বিজ্ঞাপন
default-image

এ নিয়ে কথা বলতে তৌসিফের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি প্রথম আলোকে জানান, নিরাপত্তা মেনেই শুটিং করেছেন তিনি। করোনা পরীক্ষা করিয়েছেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার করোনা নেগেটিভ। করোনাভাইরাসের কোনো লক্ষণ নেই।’ করোনা পরীক্ষা করিয়েছেন কি না, আবারও জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখনো পরীক্ষা করাইনি, তবে আজই করাব, সন্ধ্যায় রিপোর্ট পাব। ইনশা আল্লাহ নেগেটিভ আসবে।’
টেস্ট না করিয়ে কেন শুটিংয়ে গেলেন? এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘করোনার কোনো লক্ষণ দেখা দেয় কি না, এ জন্য আট দিন টানা শুটিং করিনি। পরে দেখলাম আমার করোনার কোনো লক্ষণ নেই। গত রাত থেকে আমার স্ত্রীও অনেকটাই সুস্থ। বলতে গেলে স্ত্রীর অনুরোধেই আজ থেকে (২ নভেম্বর) শুটিংয়ে এসেছি। আমার স্ত্রী আমার কাজকে সম্মান করেন। তিনি চাচ্ছিলেন আমার যেহেতু লক্ষণ নেই। তাই আমি যেন বসে না থেকে নিরাপত্তা নিয়ে কাজে ফিরি।’ করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পেয়েছেন কি না, জানতে চেয়ে গতকাল রাত আটটার দিকে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।

default-image
মন্তব্য করুন