কেউ দেশে, কেউ বিদেশে, কেউ চিকিৎসা নিচ্ছেন বাড়িতে, কেউ হাসপাতালে। কোলাজ
কেউ দেশে, কেউ বিদেশে, কেউ চিকিৎসা নিচ্ছেন বাড়িতে, কেউ হাসপাতালে। কোলাজ

করোনাভাইরাসের সঙ্গে লড়ছেন বিনোদন অঙ্গনের অনেক তারকা। তাঁদের কেউ দেশে, কেউ বিদেশে। কেউ চিকিৎসা নিচ্ছেন বাড়িতে, কেউ হাসপাতালে। জানা গেল ভিন্ন ভিন্ন অঙ্গনের কয়েকজন তারকার সর্বশেষ অবস্থা।

ফারুক সুস্থ, মেয়ে অসুস্থ

নায়ক ও সাংসদ আকবর হোসেন পাঠান ফারুকের শারীরিক অবস্থা ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে। এ সময় হঠাৎ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন তাঁর মেয়ে ফারিয়া তাবাসসুম। বাবার সংস্পর্শেই তিনি আক্রান্ত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সিঙ্গাপুরে প্রায় দেড় মাস চিকিৎসা শেষে অক্টোবরের শেষে ঢাকায় ফেরেন বরেণ্য অভিনয়শিল্পী ফারুক। দেশে ফেরার ১১ দিনের মাথায় করোনায় আক্রান্ত হন তিনি। ১৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় তাঁকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ফারুকের স্ত্রী ফারহানা পাঠান জানান, করোনায় আক্রান্ত, সেটা নিশ্চিত হওয়ার আগের কয়েক দিন তাঁর জ্বর ও কাশি ছিল। ৬ নভেম্বর ফারুকের কোভিড-১৯ টেস্ট করা হয়। ফল আসে নেগেটিভ। এর মধ্যে ৯ নভেম্বর তিনি সংসদ অধিবেশনে যোগ দেন। পরদিন জ্বরে আক্রান্ত হন। আবার কোভিড-১৯ টেস্ট করা হলে ফলাফল পজিটিভ বলে জানা যায়। চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর স্ত্রী ফারহানা পাঠান বলেন, ‘দ্বিতীয় দফায় কোভিড-১৯ পজিটিভ হলেও ফারুকের শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে। চিকিৎসকেরা যে আন্তরিকতা দেখিয়েছেন, তাতে আমরা মুগ্ধ। এর মধ্যে আবার টেস্ট করানো হবে। নেগেটিভ এলেই তাঁকে বাসায় নেওয়া যাবে।’

বিজ্ঞাপন
default-image

যুক্তরাষ্ট্রে একটু একটু করে সেরে উঠছেন বেবী নাজনীন

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন। আগের চেয়ে এখন কিছুটা ভালো আছেন তিনি। চিকিৎসকের বরাত দিয়ে তাঁর ভাই এনাম সরকার জানান, তাঁর শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে কিছুটা ভালো। তাঁকে ১৪ দিন হাসপাতালে থাকতে হবে। ১০৫ ডিগ্রি জ্বর নিয়ে ১৮ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির একটি হাসপাতালে ভর্তি হন বেবী নাজনীন। শুরুতে চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন শিল্পীর করোনা উপসর্গ নেই। নিশ্চিত হওয়ার জন্য তাঁর নমুনা পরীক্ষা করা হলে ২১ নভেম্বর জানা যায় তিনি কোভিড-১৯ আক্রান্ত।

ফোনে কথা বলছেন আজিজুল হাকিম

পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত অভিনেতা আজিজুল হাকিম। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানালেন তাঁর স্ত্রী জিনাত হাকিম। তিনি জানান, চাইলে যেকোনো সময় তাঁকে বাসায় নেওয়া যাবে। পরিচিত বেশ কয়েকজন নির্মাতার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন আজিজুল হাকিম, খোঁজখবর নিয়েছেন অনেকের। দুদিন হলো এই অভিনেতার শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক হয়েছে। তবে শরীরে দুর্বলতা রয়েছে।

default-image

চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে হঠাৎ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হন অভিনেতা আজিজুল হাকিম। ৯ নভেম্বর নমুনা পরীক্ষা করিয়ে জানতে পারেন তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। প্রথম দিকে তাঁর শারীরিক অবস্থা কিছুটা নাজুক ছিল।

default-image

ঘরে চিকিৎসা নিচ্ছেন রিজিয়া পারভীন

কদিন আগে হঠাৎ খাবারে রুচি হারান সংগীতশিল্পী রিজিয়া পারভীন। এমনকি কোনো স্বাদ বা ঘ্রাণ পাচ্ছিলেন না তিনি। কোভিড-১৯ সন্দেহে পরীক্ষা করান। রিপোর্ট হাতে পেয়ে জানতে পারেন তাঁর কোভিড-১৯ পজিটিভ। এরপর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের বাসায় আইসোলেশনে চলে যান এই সংগীতশিল্পী।

সম্প্রতি তাঁর শারীরিক অবস্থার অনেকটা উন্নতি হয়েছে। গত সোমবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক থেকে এই শিল্পী প্রথম আলোকে বলেন, ‘জটিল কোনো উপসর্গ ছিল না, শ্বাসকষ্ট হয়নি। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে বাসায় ট্রিটমেন্ট করাচ্ছি, ওষুধ চলছে। নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিচ্ছি। এখন খাওয়া-দাওয়া স্বাভাবিক। আগের চেয়ে আমার এখন ভালোও লাগছে। ৪-৫ দিন পর আবার টেস্ট করাব।’ রিজিয়া জানান, ডিসেম্বর মাসে ঢাকায় ফিরবেন তিনি।

পুরোপুরি সুস্থ হতে সময় লাগবে জুয়েল আইচের

করোনায় আক্রান্ত হয়ে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন জাদুশিল্পী জুয়েল আইচ। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। সপ্তাহখানেক পর তাঁকে কেবিনে আনা হয়। এরপর একাধিকবার কোভিড-১৯ পরীক্ষা করানো হয়। সর্বশেষ দুটি পরীক্ষায় তাঁর কোভিড-১৯ নেগেটিভ আসে। কিন্তু শারীরিকভাবে এখনো পুরোপুরি সুস্থ নন তিনি, জানালেন তাঁর স্ত্রী বিপাশা আইচ।

default-image

তিনি বলেন, ‘মাঝে পছন্দের কিছু খাবার খেতে পারলেও এখন আবার তাঁর খেতে কষ্ট হচ্ছে। চিকিৎসকেরা আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। জুয়েলের শরীরে অন্য জটিলতা থাকায় তাঁর পুরোপুরি সুস্থ হতে আরও সময় লাগবে।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন