বিজ্ঞাপন
default-image

মাসে প্রায় ৩০ দিন শুটিং করতে হতো এই অভিনেতাকে। কিছু খণ্ড নাটক এবং সাতটির মতো ধারাবাহিক নাটক নিয়ে ছিল ব্যস্ততা। সেসব কাজে প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ছুটতে হতো তাঁকে। বাসায় ফিরতেন গভীর রাতে। কিন্তু দিন শেষে সৃষ্টিশীল কাজের আনন্দবঞ্চিত রওনকের তৈরি হতো বেদনা। তিনি মনে করেন, একজন সৃষ্টিশীল মানুষ হিসেবে তাঁর কিছু দায়বদ্ধতা আছে। মাসের পর মাস তিনি মানহীন সব গল্পে ইচ্ছার বিরুদ্ধে অভিনয় করে গেছেন। সম্প্রতি নিজেই সেসব স্বীকার করেছেন। সেসব নাটক গ্রহণ করেননি দর্শকেরাও। এ নিয়ে কাউকে কিছু বলতেও পারছিলেন না। রওনক বলেন, ‘অভিনয় আমার পেশা। অভিনয়ের পারিশ্রমিকে আমার সংসার চলে। বলা যায়, নিয়মিত কাজ করি টাকার জন্য। হিসাব করে দেখলাম, টাকা পেলেও কপালে কুঁচকানো একটা দাগ থাকে। প্রতিদিন একের পর এক ১৫–২০টি দৃশ্যে অভিনয় করে করে আমি ক্লান্ত। এখন সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যে গল্প আমাকে আনন্দ দেবে, কেবল সেটিই আমি করব।’

default-image

সম্প্রতি ‘স্ফুলিঙ্গ’, ‘অপারেশন সুন্দরবন’, ‘পাতালঘর’, ‘নকশি কাঁথার জমিন’, ‘একটি না বলা গল্প’ সিনেমাগুলোর শুটিং শেষ করেছেন। এসব ছবিতে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা তাঁকে বদলে দিয়েছে। রওনক জানান, শুটিংয়ের যে পরিবেশ, প্রস্তুতি থাকা দরকার, তার কিছুই এখন নাটকে পাওয়া যায় না। একটি দৃশ্য শেষ করে আরেকটি দৃশ্যের আগে কোনো বিরতি পাওয়া যায় না। যা অভিনয় করছেন, সেটাকেই নির্মাতারা সঠিক বলে মেনে নিচ্ছেন। কেউ বলছেন না, এটা হয়নি। এই চর্চার মধ্যে অভিনয় নষ্ট হয়ে যায়। তিনি বলেন, ‘নাটকে অভিনয় দিয়েই পর্দার জীবন শুরু করেছি। সেই নাটকে অভিনয়ের পরিবেশ দিন দিন শেষ হয়ে যাচ্ছে। এটা খুবই কষ্ট দেয়। ভালো চিত্রনাট্য নেই। দুই–তিনজন বাদে বেশির ভাগ নতুন আর্টিস্ট। তারা সহশিল্পী হিসেবে ভালো না করলেও নির্মাতা সেটাই মেনে নিচ্ছেন। কারণ, সবাই এতই ব্যস্ত যে ভালো কাজের জন্য আমরা সময় দিতে পারছি না। এখন চলছে অহেতুক দর্শককে হাসানোর চেষ্টা, উচ্চশব্দে সংলাপ বলা, সংলাপে যার যা ইচ্ছা বলছেন—এসব অভিনয় নয়। আমি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে মানসিকভাবে শান্তি পেয়েছি। সিদ্ধান্ত নিয়েছি, নাটকে ভালো গল্প হলে কাজ করব, না হলে লেখালেখি বা নির্মাণ নিয়ে ব্যস্ত থাকব।’

default-image

রওনক জানালেন, টাকা আয় করার জন্য অভিনয় ছাড়া আরও অনেক কিছুই করার আছে তাঁর। সেখান থেকে অভিনয়ের চেয়ে অনেক বেশি টাকা আয় করা সম্ভব। তবে কেন মানহীন বা নিম্নমানের একটা কাজে তিনি নিজেকে বিক্রি করবেন! এসব কাজে দেশের সংস্কৃতি অবক্ষয়ের দিকে যাচ্ছে। রওনক বলেন, ‘অভিনয়ে পরিশ্রম ও সময় দিতে হয়। তাহলে এত এত নাটক করে লাভ কী হচ্ছে আমার? অভিনয়ের চেয়ে কম সময় দিয়ে অন্য পেশায় আরও বেশি আয় করা সম্ভব। এত দিন না বুঝে কাজ করেছি। এখন এই করোনার মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে চাই না। সামনে দুটি ভালো ছবির কথা রয়েছে, সেগুলো নিয়েই ব্যস্ত থাকতে চাই।’

ঈদুল ফিতরে রওনক অভিনীত সাতটি নাটক দেখানো হয়েছে। গড়পড়তা সেসব কাজ নিয়ে তিনি আগে থেকেই আশাবাদী ছিলেন না। চলতি মাসের শেষে তাঁর পরিচালনায় একটি ধারাবাহিক নাটকের কাজ শুরু হবে। ‘বিবাহ হবে’ নামের ওই নাটকে অভিনয় করছেন মোশাররফ করিম, আহসান হাবীব নাসিম, নাদিয়া আহমেদ, অর্পণা ঘোষ প্রমুখ।

টেলিভিশন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন