default-image

সম্প্রতি ক্যানসার ধরা পড়েছে নাট্যকার আজম খানের। চিকিৎসকদের কাছ থেকে সম্প্রতি দুঃসংবাদটি পেয়েছেন তিনি। তারপরও মনোবল ভাঙেনি তাঁর। বরং ঘরে বসে অসমাপ্ত কাজগুলোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন তিনি। শেষ করতে চান দুই হাজার পর্বের ধারাবাহিক নাটকটি।

গত মাসে গ্রামের বাড়ি ফেনীতে গিয়েছিলেন তিনি। সে সময় হাতে প্রচণ্ড ঠান্ডা লাগে। একসময় রীতিমতো গলা থেকে হাত পর্যন্ত অবশ হয়ে যায়। প্রথমে ভেবেছিলেন হয়তো বেশি শীতের কারণে হয়েছে। তখন শীত পড়েছিল বেশি। পরে বুঝতে পারেন কোনো জটিল সমস্যার দিকে যেতে পারে। দ্রুত ঢাকায় এসে একটি হাসপাতালে চিকিৎসা করান। তাঁর শারীরিক অবস্থা দেখে চিকিৎসকেরা সন্দেহ করেন। সেদিনই তাঁকে শরীর থেকে নমুনা নিয়ে বায়োপসি করানো হয়। তিন দিন পরে চিকিৎসকেরা তাকে জানান তাঁর শরীরে ক্যানসার বাসা বেঁধেছে। আজম খানের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানালেন, প্রথম দিকে ক্যানসারের কথা তাঁর বিশ্বাসই হয়নি। দ্বিতীয়বার তিনি স্বাস্থ্যের পর্যালোচনা করতে দিয়েছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেই ফলাফল পেয়েছেন গত বুধবার। ফলাফল একই, ক্যানসার। তিনি বলেন, ‘রিভিউতে ক্যানসার ধরা পড়বে এটা আগে থেকেই জানতাম। কারণ, আমি শারীরিকভাবে খুব দুর্বল। ক্যানসারটি সম্পর্ককে ডাক্তারদের কাছে শুনে ইন্টারনেটে খোঁজখবর নিয়েছি। এই ক্যানসারের কী লক্ষণ প্রকাশ পায়, সেগুলো জেনেছি। সবই লক্ষণই আমার সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। কিছুটা পরিবর্তন আছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন ক্যানসার এখন দ্বিতীয় স্তরে রয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

উপসর্গ সম্পর্কে আজম জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল। ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না। অল্পতেই মেজাজ গরম হয়ে যাচ্ছে। কোনো কিছু ঠিকমতো মনে রাখতে পারছেন না।

default-image

চেষ্টা করেছিলেন লেখালেখি করার। কিছু লিখলেও তাঁর মনে থাকছে না। চিকিৎসকদের কাছেও আজম শুনেছেন এগুলো তাঁর ক্যানসারের লক্ষণ। এই ক্যানসারের নাম গ্ল্যান্ট ক্যানসার। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, গলার নিচে যে অঙ্গগুলো তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে কাজ করে, সেই অঙ্গগুলোর ভেতরে টিউমারে পচন ধরেছে। আজম জানান, এখনো তিনি কোনো চিকিৎসা শুরু করেননি। ভিসা প্রস্তুত করছেন। খুব শিগগির তিনি ভারতে চিকিৎসা নিতেন যাবেন। চিকিৎসার খরচ কতটা মেটাতে পারবেন সেটা নিয়ে চিন্তিত। জানালেন, তিনি সুস্থ হয়ে আবারও নিয়মিত লেখায় ফিরতে চান। তাঁর হাতে রয়েছে একাধিক নাটক ও দুটি ছবির চিত্রনাট্য লেখার কাজ। তিনি বলেন, ‘এখন আর লেখালেখি করতে পারি না। লিখতে বসলেই মনে হয়ে কোমর ভেঙে যাচ্ছে। এখন আরও ৫টি নাটকের চিত্রনাট্য নির্মাতারা চেয়েছিলেন, সেগুলো আর লিখতে পারব কি না, জানি না। লিখতেই পারছি না।’

আগামী ঈদে তাঁর লেখা ৩৬টি নাটক প্রচারের অপেক্ষায় আছে। তাঁর হাতে আগের সাত পর্বের খণ্ড ও একক মিলিয়ে বেশ কটি নাটকের পাণ্ডুলিপি তৈরি করা আছে। সেগুলো একটি পেনড্রাইভে রেখেছেন। আগ্রহী নির্মাতা ও প্রযোজক চাইলে গল্পগুলো নিয়ে নাটক বানাতে পারবেন। আজম খানের শেষ ইচ্ছা হাজার রকমের মানুষের চরিত্র নিয়ে ‘মানুষের রচনা’ নামে একটি ধারাবাহিক নাটক লেখার কাজ শেষ করবেন। নাটকটি পরিচালনা করবেন শেখ রুনা। তিনি জানান, নাটকটি একটি লাইনআপ করা ছিল। সেটা তিনি নিজে বসে থেকে টাইপ করাচ্ছেন। নাটকটির প্রথম গল্প একজন শিশুর তার বাবাকে নিয়ে রচনা লেখেন।

default-image

তিনি বলেন, ‘আগামীকাল ক্যানসারের রিভিউয়ের পরে নিয়মিত চিকিৎসা নেব। চিকিৎসায় যত দিন সুস্থ থাকি তত দিন “মানুষের রচনা” লেখার চেষ্টা করব। মানুষের রচনা নাটকটি আমি শেষ করতে চান।’ তিনি শতাধিক একক ও ধারাবাহিক নাটক লিখেছেন। এখন বাসাতেই তাঁর সময় কাটে। তিনি টেলিভিশন নাট্যকার সংঘের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

বিজ্ঞাপন
টেলিভিশন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন