জনপ্রিয়তা পাচ্ছে দেশি ধারাবাহিক
জনপ্রিয়তা পাচ্ছে দেশি ধারাবাহিককোলাজ: আমিনুল ইসলাম

বিটিভির যুগে ধারাবাহিক নাটক জনপ্রিয় ছিল। তখন একটিই চ্যানেল ছিল, নাটকের ছিল শক্তিশালী গল্প, নির্মাতারা ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ আর মানসম্পন্ন কাজের ছিল প্রতিযোগিতা। অনেকগুলো চ্যানেল আসার পর অনেক হিসাব-নিকাশ বদলে যায়। শুরু হয় খণ্ড নাটকের একচ্ছত্র আধিপত্য। দীর্ঘ মেয়াদে গল্প বলার ধারাবাহিকতা পরেও কিছুদিনের জন্য ফিরেছিল ‘ফোর টোয়েন্টি’ ও ‘হাউসফুল’-এর মতো নাটকগুলোর হাত ধরে। এরপর আবার খরা। সে খরায় অনুপ্রবেশ করে বাংলায় ডাবিং করা ‘সুলতান সুলেমান’, ‘ফাতমাগুল’-এর মতো বিদেশি ধারাবাহিক।

default-image

প্রায় প্রতিটি চ্যানেল চালু করে নিজস্ব ডাবিং ধারাবাহিক। সেগুলোর মধ্যে ছিল ‘ইউনুস’, ‘জান্নাত’, ‘পালক আকাশে ওড়ে’, ‘ছিবি মারুফ চান’, ‘আলিফ লায়লা’ এবং ‘দিরিলিস’ ও ‘হারকিউলিস’। এ নিয়ে প্রতিবাদও করেছিলেন নাটকের মানুষেরা। এমনকি দেশের দর্শক বিদেশি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ‘গেম অব থ্রোনস’-এর মতো ধারাবাহিকও উপভোগ করেছেন।

বিজ্ঞাপন
default-image

সম্প্রতি আবারও দেশি ধারাবাহিকের জোয়ার শুরু হয়েছে। বিভিন্ন চ্যানেল প্রচার করছে মৌলিক গল্পের দীর্ঘ ধারাবাহিক নাটক। এখন সেসব নাটকের পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় থাকেন দর্শক। চরিত্রগুলোর দ্বন্দ্বে জড়িয়ে যান নিজেরাও। ইউটিউবে নাটকের বিভিন্ন সিকোয়েন্স ধরে মন্তব্য করেন, প্রতিক্রিয়া জানান। ধরা যাক আশিস রায় পরিচালিত দীপ্ত টিভির ‘মান অভিমান’ নাটকের কথা। পাঁচ শতাধিক পর্বের প্রায় সব কটি পর্ব টেলিভিশনে প্রচারের পর তুলে দেওয়া হয় ইউটিউবে। একটি পর্বে এক দর্শক মন্তব্য করেছেন, ‘মাহিকে নিয়ে রানুর বাড়াবাড়ি একদম ভালো লাগছে না।’ দেশি গল্পের ধারাবাহিক আবার কীভাবে জনপ্রিয় হচ্ছে? জানতে চাইলে মাছরাঙা টেলিভিশনের প্রোগ্রাম ইনচার্জ এ এম আরিফুর রহমান বলেন, ‘ডাবিং করা একটি বিদেশি ধারাবাহিক মানুষের আকাঙ্ক্ষা অনেক বাড়িয়ে দিয়েছিল। পরে সব চ্যানেল চেষ্টা করেও ওই মানের বিদেশি ধারাবাহিক চালাতে পারেনি। ফলে তারা একরকম বাধ্য হয়েই দেশি গল্পের ধারাবাহিকে ফিরেছে। দেখা গেছে, চেষ্টা করলে দেশি গল্প দিয়েও ব্যবসা করা যায়।’

default-image

জনপ্রিয় আরেক ধারাবাহিক মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত এনটিভির ‘ফ্যামিলি ক্রাইসিস’। এ নাটকের ঝুমুরের জন্য দর্শকদের মমতা অতুলনীয়। উল্লেখ করা যায় চ্যানেল নাইন ও বাংলাভিশনে (পরে ইউটিউবে) প্রচারিত কাজল আরেফিনের ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ নাটকের কথা। কয়েক দিন আগে জানা যায়, ধারাবাহিকটি থেকে বাদ যাচ্ছে দুটি চরিত্র। এমন খবরে ফেসবুকে এক দর্শক মন্তব্য লিখেছেন, ‘কোনো সিরিজ যদি জনপ্রিয় হয়, সেটা থেকে বেছে বেছে দর্শকপ্রিয় ক্যারেক্টারটা বাদ দেওয়া নির্মাতাদের পুরোনো অভ্যাস। ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’–এও এর ব্যতিক্রম হয়নি...।’ একসময় জনপ্রিয় ধারাবাহিকের চরিত্রগুলো নিয়ে ঘরে ঘরে যে আলাপগুলো হতো, এখন সেসব হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। নির্মাতারা একে দেখছেন ইতিবাচক দৃষ্টিতে। নির্মাতা মাতিয়া বানু শুকু মনে করেন, মৌলিক গল্পের কারণে এটি সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, ‘দর্শক সব সময় মৌলিক গল্প খোঁজেন। নিজের জীবনের সঙ্গে সেসব গল্পের মিল খোঁজেন। এসব কারণে দীর্ঘ ধারাবাহিকগুলো তাঁদের ধরে রাখতে পারে।’ তবে এ ধরনের নির্মাণের চ্যালেঞ্জ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এসব ধারাবাহিকে শিল্পীদের ধরে রাখা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। বড় তারকারা দীর্ঘদিন একটি ধারাবাহিকে সময় দিতে পারেন না। এ ক্ষেত্রে নতুনদের জায়গা করে দিলে তারা কাজের সুযোগও পাবে, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বীও হতে পারবে।’

বিজ্ঞাপন
default-image

ইতিমধ্যে তিন শতাধিক পর্ব প্রচারিত হয়েছে সঞ্জিত সরকার পরিচালিত আরটিভির ‘চিটিং মাস্টার’ নাটকটির। এ রকম দীর্ঘ ধারাবাহিকের তালিকায় আছে মাছরাঙায় কায়সার আহমেদের ‘চাঁন বিরিয়ানি’, বৈশাখী টিভির হাসান জাহাঙ্গীরের ‘চাপাবাজ’, এটিএন বাংলায় সৈয়দ শাকিলের ‘সোনার শেকল’, চ্যানেল আইয়ে সালাহউদ্দীন লাভলু পরিচালিত ‘প্রিয় দিন প্রিয় রাত’সহ বহু ধারাবাহিক। কোনো কোনো চ্যানেলে প্রতিদিন প্রচারিত হয় দুটি ধারাবাহিক।

মন্তব্য পড়ুন 0