সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি হয়েছে।
সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি হয়েছে।ছবি:কোলাজ

অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি হয়েছে। মেয়ের ডাকে সাড়া দিয়ে চোখ মেলে তাকিয়েছেন তিনি। তাঁর শরীরে সংক্রমণের মাত্রা কমেছে। জ্বর আসেনি নতুন করে। কমেনি রক্তে হিমোগ্লোবিন ও প্লাটিলেটসের মাত্রাও। তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে কিছুটা আশার আলো দেখছেন চিকিত্‍‌সকেরা। সূত্র: আনন্দবাজার ও এইসময়।
বেলভিউ নার্সিংহোমের পক্ষে চিকিৎসক অরিন্দম কর জানিয়েছেন, সৌমিত্রের শারীরিক পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। আগের চেয়ে ভালোভাবে সাড়া দিচ্ছে তাঁর ইন্দ্রিয়গুলো। ১০ থেকে ১১-এর মধ্যে রয়েছে সচেতনতা (গ্লাসগো কোমা স্কেলের সূচকে)। নিজেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে চোখ খুলছেন। তাঁর এক দিন পরপর ডায়ালাইসিস চলছে।

default-image

বৃহস্পতিবার সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ এই অভিনেতার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। সব ঠিক থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাঁর অ্যান্টিবায়োটিক এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ বন্ধ করা হবে। হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ডের প্রধান চিকিৎসক অরিন্দম কর জানিয়েছেন, অভিনেতার শ্বাসনালিতে স্থায়ী ট্র্যাকিওস্টোমি করা হবে কি না এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা প্লাজমা ফেরেসিসের জন্য উপযুক্ত কি না, সে বিষয়ে শুক্রবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে আচ্ছন্ন অবস্থা পুরোপুরি না কাটা পর্যন্ত নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না চিকিৎসকেরা।

বিজ্ঞাপন

সৌমিত্রের রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইউরিয়ার মাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে এ মুহূর্তে । ওই চিকিৎসক ভারতীয় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আশা করি, খুব শিগগির তাঁর কিডনির কার্যক্ষমতা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। সে ক্ষেত্রে আর ডায়ালাইসিস করার প্রয়োজন পড়বে না। সংক্রমণও আগের চেয়ে অনেকটা সেরে গেছে।

default-image

আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া বন্ধ করে দেব।’
চিকিৎসকদের মতে, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় সাত দিন ধরে যে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গিয়েছেন, এখন তা থেকে অনেকটাই বেরিয়ে এসেছেন তিনি।
সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এমনিতে প্রোস্টেট ক্যানসার, সিওপিডি, প্রেশার, ডায়াবেটিকে ভুগছিলেন। গত বছর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছিলেন তিনি। সে সময় সুস্থ হয়ে আবার কাজে ফেরেন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর নিজের একটি বায়োপিকের শুটিংয়ের জন্য সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় টালিগঞ্জের ভারত লক্ষ্মী স্টুডিওতে যান। সেখানে তাঁর শুটিংয়ের জন্য উপস্থিত ছিলেন কলাকুশলীসহ ২৫ থেকে ৩০ জন কর্মী।

এখানেই শুটিংয়ের সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর শুটিং শেষে তাঁকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। ১ অক্টোবর থেকে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের জ্বর হয়। গত ৫ অক্টোবর তাঁর করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। ৬ অক্টোবর তাঁকে বেলভিউ নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়।

default-image

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের বয়স এখন ৮৫ বছর। ১৯৩৫ সালের ১৯ জানুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে। পড়াশোনা করেন হাওড়া জেলা স্কুল, স্কটিশ চার্চ কলেজ, কলকাতার সিটি কলেজ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। বাংলা চলচ্চিত্রের এই দিকপাল ২০১২ সালে পেয়েছেন ভারতের চলচ্চিত্র অঙ্গনের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার। এ ছাড়া আরও পেয়েছেন দেশ-বিদেশের বহু পুরস্কার। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ফ্রান্সের ‘লেজিয়ঁ দ্য নর’ পুরস্কার (২০১৮)। পেয়েছেন ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্মান পদ্মভূষণসহ (২০০৪) ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র, সংগীত নাটক একাডেমি, ফিল্ম ফেয়ার পুরস্কারসহ নানা পুরস্কার।

default-image
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0