ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি সংস্কৃতি সংসদের সভাপতি ছিলাম। কালি ও কলম সম্পাদক আবুল হাসনাত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক। পরের কমিটিতে তিনিই হন সভাপতি আর ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহ্‌ফুজ আনাম সাধারণ সম্পাদক। খুবই সক্রিয় সংগঠন ছিল। প্রতিটি ছাত্রসংগঠনের একটা সাংস্কৃতিক শক্তি ছিল।

default-image

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক আন্দোলনটা আমাদের রাজনৈতিক আন্দোলনের পরিপূরক শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। খেলাধুলার চর্চাও বেশি ছিল। জাতীয় পর্যায়েও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলোয়াড়েরা খেলতেন। ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, হকিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলোয়াড়েরা থাকত। আমি মনে করি যে ওই সময় যে ছাত্রসংগঠন করেছি, সেই সংগঠনের মাধ্যমে আমার রাজনৈতিক চেতনা, বুদ্ধিবৃত্তিক চেতনা, সাংস্কৃতিক চেতনা তৈরি হয়েছে। এগুলো তৈরিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ সাহায্য সহায়তা করেছে। আমাদের শিক্ষকেরাও খুব সহযোগিতা করতেন, উৎসাহ দিতেন।

আমি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেছি, তবে মূলত আমার ভূমিকা ছিল সংগঠকের। তখন অভিনয় করার দিকে মন ছিল না, অন্যদিকে ছিল। ওই সময়টা আমাকে তৈরি করে দিয়েছে।

default-image

নীলফামারীর প্রথম জীবনটা যেমন আমাকে একভাবে তৈরি করে দিয়েছে, তেমনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৬-৭১-এর মার্চ পর্যন্ত সময়টাও আমি অনেক কিছু শিখেছি। সেই সময়ের অনেক ছাত্রনেতা যেমন তোফায়েল আহমেদ, আবদুর রাজ্জাক, মতিয়া চৌধুরী, সাইফুদ্দীন আহমেদ মানিক, রাশেদ খান মেনন, হায়দার আকবর খান রনো, আমির হোসেন আমু, আবদুল কুদ্দুস মাখন প্রমুখ অনেকের সঙ্গে ওঠাবসার সুযোগ হয়েছে। আয়েশা খানম, মালেকা বেগম, রাফিয়া আক্তার ডলি নামী ছাত্রনেতা। শেখ কামালকেও দেখেছি।

default-image

ঢাকায় এসেছিলাম ছাত্ররাজনীতি করতে। আমি তখন ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংস্কৃতিক সম্পাদকও নির্বাচিত হই। ইকবাল হলে ভিপি নির্বাচনও করেছিলাম।

default-image

অভিনয় নিয়ে অবশ্য ছাত্রজীবনে কিছুই ভাবিনি। কিন্তু এই ধরনের কাজকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকতে ভালো লাগত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম দুই বছর আইন বিষয়ে পড়েছি। এরপর রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ভর্তি হই। প্রথম পার্ট পরীক্ষার পর মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। সেকেন্ড পার্ট আর দেওয়া হয়নি। ফিরে এসে আর পরীক্ষা দেওয়ার চেষ্টাই করিনি। সংসারযুদ্ধে নেমে পড়লাম।

টেলিভিশন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন