আশিস খন্দকার
আশিস খন্দকারসংগৃহীত
অভিনেতা, নাট্যকার, নির্দেশক এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা আশিস খন্দকার। ঈদে প্রচারিত নাটক এবং স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের জন্য বেশ প্রশংসা পাচ্ছেন এই অভিনেতা। বর্তমান নাটক, দেশের মিডিয়া অঙ্গনসহ নানা প্রসঙ্গে কথা বললেন তিনি।
বিজ্ঞাপন

অভিনয়ের বেশ প্রশংসা পেলে কেমন লাগে?

আমার ৩০ বছরের ক্যারিয়ার। এই সময়ে কাজ করার অভিজ্ঞতার সঙ্গে পূর্ব-পশ্চিম দুই গাঙেই মেলার সৌভাগ্য হয়েছে। এখান থেকে আমার উত্থান-পতন কিছু ঘটেনি। তবে পারফর্মিং আর্ট বোঝার বা তুলনা করার মতো একটা দর্শক বা ভোক্তা জনগোষ্ঠী তৈরি হয়েছে। তাদের কাছে অভিনয় ভালো লাগছে জেনে ভালো লাগছে।

আমাদের খুব বেশি প্রশংসনীয় নাটক বা সিনেমা তৈরি না হওয়ার দায়টা কাদের?

কোথাও না কোথাও একটা ‘কমিউনিকেশন গ্যাপ’ হচ্ছে। যাঁরা এর সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের মধ্যে বোঝাপড়া জরুরি। আমাদের আর্ট বাজার তৈরি করতে হবে। কিন্তু বাজার শব্দটা শুনলেই অনেকে নাক সিটকায়। আর্ট বাজার যখন তৈরি হবে, তখন ক্ল্যাসিক মিউজিকও বাজারজাত করা যাবে। সেখান থেকে রাষ্ট্রের একটা আয় আসবে। রাষ্ট্র আদিম অডিটরিয়াম বানায়, কিন্তু কারখানা বানায় না। ইন্ডাস্ট্রির প্রয়োজনীয় শ্রমিক, কনটেন্ট তৈরির জন্য বিশাল কারখানা তৈরি করা দরকার। অনেক দেশ আন্তর্জাতিক বাজার হিসেবে আমাদের দেশকে ব্যবহার করছে, কিন্তু আমরা পারছি না। নানা অসংগতি দূর করতে হবে।

default-image

‘আর্ট’ বাজার কীভাবে তৈরি করা যেতে পারে?

রাষ্ট্র বিনোদন মার্কেট থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারে, দেশের আন্তর্জাতিক সুনাম বাড়তে পারে। অভিনয় আমার কাছে ট্রেড। এখান থেকে কোটি কোটি টাকা আসতে পারে। সেটা রাষ্ট্রকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখাতে হবে। আমার মনে হয়, ব্যবসা ছড়িয়ে গেলে রাষ্ট্রের যে লাভ, এটা বোঝানোর মতো কেউ নেই। এখানে একটা ডিপ্লোম্যাটিক চেয়ার দরকার। গবেষণা দরকার। বিনোদনকে আন্তর্জাতিক ব্যবসা হিসেবে নিতে হবে।

অনেক তরুণের ভেতর সহজে অভিনেতা হওয়ার প্রবণতা রয়েছে...

অভিনয় আমার কাছে একটা ম্যানুফ্যাকচারিং ফর্ম। এটা ইমোশনাল ফর্ম না। জীবনের কিছু অভিজ্ঞতা নিয়ে এসে অভিনেতা হয়ে যাওয়ার চিন্তা বালখিল্য। তথাকথিত স্টার হওয়ার ব্যাপারটা মামুলি। অভিনয় একটা ট্রেড, এটা অভিনেতারা বুঝছেন না। কারণ, অভিনেতার সামনে কোনো মার্কেট নেই, সে কারণে অভিনেতার কোনো ড্রিম নেই।

default-image

আপনি শৈশবে ‘পথের পাঁচালী’র অপুর সঙ্গে মিল খুঁজে পেতেন, এখন কার সঙ্গে মিল খুঁজে পান?

এখন আমি বহুরূপী হয়ে গেছি। অভিনয়, শিক্ষকতাসহ পেশায় আমি বহুবিধ। আমি সবকিছু বিচক্ষণতার সঙ্গে চেষ্টা করি। অভিনেতা হিসেবে আমি ভালো কি মন্দ, সেই বিচার করি না। আমার কিছু ক্রাইটেরিয়া আছে। দেখুন, হাজার হাজার বছর ধরে একই সিস্টেমে বাংলা থিয়েটার করে যাচ্ছে। একই সিস্টেমে ছবি করে যাচ্ছে। এখানে কোনো সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট না থাকায় প্রচুর ব্যয় হয়ে যাওয়ায় হা–হুতাশ করছে। আমাদের রিলেশন প্রডিউসিং জায়গাতে একটি লিবারেল জায়গা তৈরি হওয়া উচিত। রুটিরুজির জন্য আমি মনে করি না সিন্ডিকেট তৈরি করে এই ফিল্ডে কিছু করা যাবে। এটা তো আলু–পটোলের বাজার না, সিন্ডিকেট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে কমিয়ে দিলাম। আমাদের উচিত বড় স্কেলে রুজির প্র্যাকটিস করা।

আমাদের মিডিয়ার ক্রাইসিস দেখছেন? সে ক্ষেত্রে আমাদের নির্মাতাদের কী করার আছে?

আন্তর্জাতিক ট্রাফিকটা ওপেন করতে চেষ্টা করতে হবে। আমাদের ছবির কন্টেন্ট সমকালীন হতে হবে। আমাদের দেখার চোখ পাল্টে যাচ্ছে। আমার গল্পটাকে সব মহাদেশের মানুষের সঙ্গে মিলিয়ে দিতে হবে। সবাই গল্পে নিজেদের খুঁজে পাবে।

বিজ্ঞাপন
default-image

‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’ ছবিতে তরুণদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা হয়েছে আপনার, এই প্রজন্মের অভিনেতাদের কোনো ক্রাইসিস দেখেন কি না?

আমি টাইমলেস। সবার সঙ্গে কাজ করি। আমি তাঁদের হেল্প করি। এই–সেই বলে ড্রামা করার মতো মানুষ না আমি। ভালো অভিনয় করলে তাঁদেরকে আরও ভালো করতে হচ্ছে। আমার সঙ্গে ভালো অভিনয় করে পার পাবেন না কেউ।

কোনো চরিত্রের জন্য অপেক্ষা করছেন?

না। আমি অভিনয়টাই করে যেতে চাই। অভিনয়ে দেশ–কালকে ছাড়িয়ে যেতে চাই, এটাই আমার স্বপ্ন। অভিনয়ের সময় আমার সামনে কোনো কাউন্টার অভিনেতা থাকেন না। আমি কারও অভিনয় কপি করি না। একজন রবাট ডি নিরো বা নাসির উদ্দিন শাহ আমার কাউন্টার নন, তাঁরা আমার অনুপ্রেরণা।

উচ্চ পারিশ্রমিকের কারণে অনেক নির্মাতা আপনাকে নাটকে নিতে পারেন না?

এগুলো আমার নামে ভুল প্রপাগান্ডা। আমার সঙ্গে এগুলো কেন হয় জানি না। আমার সঙ্গে কথা না বলে দশ মাইল দূর থেকে তাঁরা এগুলো বলেন।

আপনার অভিনয়ের পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান কার?

আমার মায়ের।

টেলিভিশন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন