default-image

‌‘দখিন হাওয়ায় আগুন! আমরা কয়েকজন ছাদে আটকা পড়ে আছি। প্লিজ প্রে ফর আস... প্লিজ।’ ফেসবুকে এভাবেই একটি পোস্ট দিয়েছেন অভিনয়শিল্পী মেহের আফরোজ শাওন। ঘণ্টাখানেক পর ফেসবুকেই তিনি জানান, আগুন নেভানো গেছে। কালো ধোঁয়ায় ভবনের সিঁড়ি ও বাসাগুলো ভরে উঠেছিল বলে ছাদে অবস্থান করছিলেন তাঁরা। মুঠোফোনে তিনি জানান, সকাল আটটায় ধানমন্ডির দখিন হাওয়ায় আগুন লাগে। তবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছিল, সেটা জানাতে পারেননি তিনি। শাওন জানান, দখিন হাওয়ার ছয়তলায় থাকেন তিনি। আগুন লাগে তিনতলায়। আগুন লাগার কিছুক্ষণ পর ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসে। তাদের ৪০-৫০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
প্রথম আলোকে শাওন বললেন, ‘রোজার সময় সাধারণত এত সকালে ঘুম থেকে ওঠা হয় না। কলিংবেল বেজেই যাচ্ছিল। আট-দশবারের বেশি হবে। দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলতেই শুনি, বাড়িতে আগুন। তাড়াতাড়ি এসে নিষাদ ও নিনিতকে ঘুম থেকে তুলে ঘর থেকে বের করি। তারপর নিচে নামতে গিয়ে দেখি কালো ধোঁয়া। ধোঁয়ার কারণে নিচে যাওয়া সম্ভব হচ্ছিল না।’

default-image

শাওন এ–ও বলেন, ‘ধোঁয়ায় অবস্থাটা এমন হয়েছিল যে, দম আটকে আসছিল। নিনিত বলছিল, মা আমরা নিশ্বাস নিতে পারছি না। এরপর আমরা ছাদে চলে যাই। ছাদে যাওয়ার পর সিঁড়ির দিকে তাকাতেই দেখি, সিঁড়ির দরজা দিয়ে একদম কুঁচকুঁচে কালো ধোঁয়া। এর মধ্যে ভাবতে থাকলাম, আগুন যদি ছড়িয়ে যায়, তাহলে তো ওপরেও আসবে। ছাদ তো আরও বিপজ্জনক। এখন নিচের নামার সুযোগ নেই। আগুন বাড়ছে না কমছে, সেটা ছাদ থেকে বুঝতে পারছি না। ততক্ষণে পাশের বাড়ির লোকজনকে ডেকে একটা সিঁড়িও এনে রাখি। পাশের বাড়ির সঙ্গে আমাদের বাড়ির দূরত্ব ছয় ফুটের মতো। জানি না দরকার পড়লে কী করতে হতো। ভাগ্য ভালো, ওসবে যেতে হয়নি।’
দখিন হাওয়ার তিনতলার যে ফ্ল্যাটে আগুন লেগেছে, সেটা ফ্ল্যাটের বাসিন্দারাও টের পাননি। টের পান চারতলার বাসিন্দারা। বাড়িতে ফায়ার এক্সটিংগুইশার ছিল। ফায়ার সার্ভিসও দ্রুত চলে এসেছিল। সব মিলিয়ে ৪০-৪৫ মিনিট সময় লেগেছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে।
ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন শাওন। তিনি বলেন, ‘গত এক–দেড় বছরে বাংলাদেশে আগুনের যে কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে, সবই ছিল ভয়াবহ। আগুনে মানুষের কোনো ক্ষতি হয়নি। বাড়ির সোফাগুলো পুড়ে গেছে। সিঁড়িগুলো কালো হয়ে গেছে। ঘরের মেঝেতে বসানো টাইলস ফেটে উঠে এসেছে!’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0