অষ্টাদশ শতাব্দীর ঢাকাকে টিভির পর্দায় দেখা যাবে এই নাটকে।
অষ্টাদশ শতাব্দীর ঢাকাকে টিভির পর্দায় দেখা যাবে এই নাটকে।কোলাজ

মেঘনা নদী হয়ে একটি বজরা নৌকা সশস্ত্র প্রহরীসহ এসে ভেড়ে চাঁদপুরের ঘাটে। সেখানে যাত্রাবিরতি। গন্তব্য ঢাকার জিনজিরা প্রাসাদ। বজরার যাত্রী নিহত নবাব সিরাজউদ্দৌলার স্ত্রী লুত্ফা, মেয়ে উম্মে জোহরা, খালা ঘসেটি বেগম ও মা আমেনা বেগম। বিরতি শেষে পাল তুলে বজরা রওনা দেয় ঢাকায়, একসময়কার সুবে বাংলার রাজধানীতে। পর্দায় এভাবেই শুরু হবে অষ্টাদশ শতাব্দীর জৌলুশময় ঢাকার গল্প জিন্দাবাহার।

বিজ্ঞাপন
আমি পড়াশোনা করে কল্পনার জগতে বিচরণ করে নাটকের জন্য চিত্রনাট্য লিখলাম। একসময় ঢাকা যখন রাজধানী ছিল, তখন এটা ছিল ইংল্যান্ডের মতো একটি গ্ল্যামারাস শহর। আর্মেনিয়ান, ব্রিটিশ, ফরাসি, পর্তুগিজরা এখানে আসতেন, কারণ এটা ছিল সোনার খনি
মামুনুর রশীদ

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মুর্শিদাবাদ জয়ের পর সরব হতে থাকে ঢাকার ইংরেজ কুঠি। জেগে ওঠে পরিত্যক্ত ঢাকা। বিখ্যাত মসলিনের কারিগরদের তখন উজ্জ্বল সময়। একদিকে তখন নবাব পরিবারের সদস্যরা জিনজিরা প্রাসাদে কাটাচ্ছিলেন নির্মম নির্বাসন, অন্যদিকে ইংরেজ সাহেবদের প্রাসাদে জ্বলছিল ঝলমলে বাতি। অষ্টাদশ শতাব্দীর ঢাকাকে টিভির পর্দায় দেখাতে নাট্যকার ও কলাকুশলীদের মধ্যে চলছে তোড়জোর। এসব গল্পে নাটকের চিত্রনাট্য লিখেছেন নাট্যজন মামুনুর রশীদ। তিনি বলেন, ‘প্রথমা প্রকাশিত আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়ার লেখা ‘নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা’ বইটি পড়ে মাথায় একটা চমৎকার আইডিয়া আসে। মনে হলো সিরাজউদ্দৌলার পতনের পরের ঢাকা কেমন ছিল, তা নিয়ে তেমন কাজ হয়নি। মুনতাসীর মামুন ঢাকা নিয়ে কিছু কাজ করেছেন। আমি পড়াশোনা করে কল্পনার জগতে বিচরণ করে নাটকের জন্য চিত্রনাট্য লিখলাম। একসময় ঢাকা যখন রাজধানী ছিল, তখন এটা ছিল ইংল্যান্ডের মতো একটি গ্ল্যামারাস শহর। আর্মেনিয়ান, ব্রিটিশ, ফরাসি, পর্তুগিজরা এখানে আসতেন, কারণ এটা ছিল সোনার খনি। নাটকে আমি ওই সময়ই ধরার চেষ্টা করেছি।’

default-image

১৭৫৮ সালের ঢাকার অনেক কিছুই এখনকার মানুষের অজানা। তখনকার অনেক অজানা চরিত্র, নায়েবে নাজিম, নগর কোতোয়াল, কুঠিপ্রধান ক্যাপ্টেন সুইন্টিন, দিল্লি থেকে আসা আমির–উমরাওদের বংশধর, মসলিন প্রস্তুতকারী, ঢাকার সর্দার এবং ব্যবসায়ী চরিত্রগুলোকে নিয়ে নির্মিতব্য এক দীর্ঘ ধারাবাহিক হতে যাচ্ছে জিন্দাবাহার। শুরুতে ৫২ পর্বের পরিকল্পনা থাকলেও সেটা দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। লেখক, পরিচালক ও অভিনেতা মামুনুর রশীদ জানান, নাটকটির কাজ কিছুদূর এগোলেই এই গল্পে তিনি শুরু করবেন সিনেমার চিত্রনাট্য। তিনি বলেন, ‘সিরাজউদ্দৌলার পক্ষে যুদ্ধ করা ফরাসি সৈনিকদের কিছু চিঠি আমার হাতে এসেছে। এ নিয়ে পড়াশোনা করতে গিয়ে এত তথ্য পেয়েছি, সেসব নিয়ে নানা রকম ফিকশনের সুযোগ আছে।’

বিজ্ঞাপন
default-image

নাটকটিতে অভিনয় করবেন লুত্ফর রহমান জর্জ, আজাদ আবুল কালাম, আহমেদ রুবেল, অনন্ত হীরা, শতাব্দী ওয়াদুদ, শাহ আলম দুলাল, সমু চৌধুরী, শামীম ভিস্তি, শ্যামল জাকারিয়া, আলিফ চৌধুরী, ইউসুফ রাসেল, শাকিল, রোজী সিদ্দিকী, নাজনীন চুমকি, মুনিরা বেগম মেমী, শর্মীমালা, নাইরুজ সিফাত, নিকিতা নন্দিনী। নাটকে যুক্ত হওয়ার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ঘসেটি বেগম চরিত্রের অভিনয়শিল্পী নাজনীন চুমকি বলেন, ক্যামেরার সামনে না দাঁড়ানো পর্যন্ত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা মুশকিল। তবে ঐতিহাসিক একটি চরিত্রের ভূমিকায় কাজের সুযোগ পাওয়া যেকোনো শিল্পীর জন্য আনন্দের।

নাট্যকার-প্রযোজকসহ একত্র হয়েছিলেন অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীরা। এরই মধ্যে হয়েছে তিনটি কর্মশালা। আগামী মাসের মাঝামাঝি শুরু হবে শুটিং। শিল্পনির্দেশনায় থাকবেন মীর আহসান, পোশাক পরিকল্পনায় এনাম তারা এবং সংগীতে নীল কামরুল। নাটকটি প্রযোজনা, পরিচালনা করছেন ফজলে আজিম। বিটিভিতে দেখানো হবে নাটকটি।

মন্তব্য পড়ুন 0