default-image

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে অভিনেতা মীর সাব্বিরের ছবিসংবলিত একটি সাদাকালো পোস্টার। যেমনটি দেখা যায় জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে। সেটা বলে দিচ্ছে, মেম্বার হিসেবে নির্বাচন করছেন তিনি। তাঁর প্রতীক পায়রা। তবে এর সবই ‘আপকামিং মেম্বার’ নামে একটি নাটকে।

নাটকের গল্পে তাঁকে নিয়ে কৌতূহলী হয়ে ওঠেন গ্রামের সবাই। তাঁর সমর্থনে বেরিয়েছে মিছিল। সেটার ভেতরে ঢুকে পড়ে গ্রামের শিশু-কিশোরেরা। বাড়ির প্রবেশমুখে এসে দাঁড়ান কৌতূহলী নারীরা। মীর সাব্বির সবার কাছে গিয়ে পায়রা প্রতীকে ভোট চাইতে থাকেন। নির্বাচনকেন্দ্রিক এ গল্প নিয়ে নাটকের শুটিংয়ে অনেক লোকের দরকার। কিন্তু নাটকের বাজেট সেই পরিমাণ লোক নেওয়ার মতো নয়। উপায় না দেখে মিছিলের জন্য শুটিংয়ের লাইনম্যান, প্রোডাকশন বয়সহ সব কলাকুশলীকে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়। লোক বাড়াতে জোরে জোরে স্লোগান দিতে থাকেন সবাই। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিরুলিয়া গ্রামের শিশু-কিশোরেরা মিছিলে এসে ভিড় করে। দুই দিন ধরে চলে নাটকটির শুটিং। অভিনেতা মীর সাব্বির জানান, স্লোগান ও বক্তব্য দিয়ে প্রায় একটি দিন কেটেছে তাঁর। শুটিংয়ে একই বক্তব্য বারবার দিতে হয়েছে। চিত্রনাট্যে বক্তব্যের অংশটুকু তাঁরই লেখা। এ জন্য অবশ্য কোনো পারিশ্রমিক দেওয়া হবে না তাঁকে।

বিজ্ঞাপন
default-image

সাব্বির বলেন, ‘বক্তব্য সবাই দিতে পারে, কিন্তু কথা বলে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা খুবই কঠিন কাজ। এটা জেনে-বুঝে দিতে হয়। প্রাসঙ্গিক না হলে কেউ কথা শোনে না, বিশ্বাসও করতে চায় না। আমার বক্তৃতা শুনে প্রথম দিকে অনেকেই সত্য মনে করে দাঁড়িয়ে গিয়েছিল। অনেকেই ভিডিও করছিল।’

শৈশবে নিজ এলাকায় নির্বাচনের স্মৃতি মনে করে শিউরে ওঠেন মীর সাব্বির। তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র থাকাকালে তাঁর এলাকা বরগুনায় ছিল উপজেলা নির্বাচন। এক প্রার্থীর মিছিলের পিছু নিয়েছিলেন তিনি। স্লোগান দিতে দিতে মিছিলের সঙ্গে এগিয়েও গিয়েছিলেন। মিছিলে ছিল হাজার হাজার মানুষ। একসময় তিনি বুঝতে পারেন, গ্রাম থেকে অনেক দূরে চলে এসেছেন, যেখান থেকে একা ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়। তখন তিনি কান্না শুরু করে দেন। পরে এক লোক তাঁকে কাঁধে নিয়ে মিছিল করতে থাকেন। এদিকে তাঁর বাড়ির লোকজন মনে করেন সাব্বির হারিয়ে গেছেন। আশপাশের গ্রামে তাঁকে খোঁজা শুরু হয়। কিন্তু কোথাও নেই তিনি। সেই মিছিল শেষে ছয় ঘণ্টা পরে তিনি বাড়িতে এসে হাজির হন। তিনি বলেন, ‘সেদিন বাড়ির সবাই মনে করেছিল আমি হারিয়ে গেছি। তখন অনেক বাচ্চা হারিয়ে যেত। পরিবারের সবাই আমার জন্য চিন্তার মধ্যে ছিল। সেদিন আমি নিজেই অনেক ভয় পেয়েছিলাম।’ বাস্তবে নির্বাচনের ইচ্ছা আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটা সময়ই বলে দেবে।’

default-image

ভিন্ন ধরনের চরিত্রের প্রতি সব সময় একটা আলাদা টান অনুভব করেন এই অভিনেতা। ‘আপকামিং মেম্বার’ সে রকম এক নাটক। নাটকটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন রাহুল রাজু। এতে আরও অভিনয় করেছেন স্বাগতা, শিখা মৌ, শিশির প্রমুখ। নাটকের গল্পে দেখা যাবে, নির্বাচনে সৎ ও অসৎ মানুষের প্রতিযোগিতা। মীর সাব্বির গ্রামের সৎ মানুষ। তিনি মনে করেন, এ কারণেই গ্রামের মানুষ তাঁকে ভোট দেবেন। কিন্তু বিরূপ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে। হাস্যরসের আড়ালে নাটকটিতে সামাজিক বার্তা দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই এ ধারাবাহিক নাটক দেখানো শুরু হবে টেলিভিশন ও ইউটিউব চ্যানেলে।

default-image
বিজ্ঞাপন
টেলিভিশন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন