অন্য পরিচালকের পরিচালনায় অভিনয় করে তাঁরাও দর্শক মনে জায়গা করে নেন অভিনেতা হিসেবে
অন্য পরিচালকের পরিচালনায় অভিনয় করে তাঁরাও দর্শক মনে জায়গা করে নেন অভিনেতা হিসেবে

গানের শিল্পীদের দিয়ে অভিনয় করিয়ে থাকেন পরিচালকেরা। খেলাধুলা, এমনকি রাজনৈতিক অঙ্গনের মানুষদেরও গল্পের প্রয়োজনে এনে দাঁড় করান ক্যামেরার সামনে। পরিচালকের মুনশিয়ানায় সাদামাটা একটি চরিত্রও মানুষের কাছে বাহবা পায়। যে পরিচালকেরা গল্পের প্রয়োজনে নানা ক্ষেত্রের তারকা, এমনকি সাধারণ মানুষকে ক্যামেরার সামনে দাঁড় করান, প্রায়ই সেই পরিচালকদেরও দেখা যায় অভিনয়ে। অন্য পরিচালকের পরিচালনায় অভিনয় করে তাঁরাও দর্শক মনে জায়গা করে নেন অভিনেতা হিসেবে।

সাম্প্রতিক সময়ে মুক্তি পাওয়া ‘নবাব এলএলবি’ ছবিতে রাজনৈতিক নেতার চরিত্রে অভিনয় করেন পরিচালক সুমন আনোয়ার। এই চরিত্রে তাঁর অভিনয় মুগ্ধ করেছে দর্শকদের। সামনে আসছে তাঁর অভিনীত ‘হাওয়া’ ছবিটি। বর্তমানে ইউটিউবে প্রচারিত নাটক ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’–এ ‘বোরহান’ চরিত্রে অভিনয় করে পরিচালক শরাফ আহমেদ জীবনের নামটাই যেন পাল্টে গেছে। যেখানেই যান, সবাই তাঁকে এই নামে ডাকেন। নেটিজেন বা বন্ধুদের আড্ডায় জীবন এখন সবার প্রিয় ‘বোরহান ভাই’। একই সময়ে ‘হিট’ নাটকে অভিনয় করে পরিচালক ইশতিয়াক রোমেলও এখন আলোচিত।

বিজ্ঞাপন
default-image

পরিচালকদের মধ্যে অনিমেষ আইচ, শাফায়েত মনসুর রানা, আশফাক নিপুণ, ইফতেখার আহমেদ ফাহমীদেরও অভিনয়ে দেখা যায়। আর জ্যেষ্ঠ পরিচালকদের মধ্যে কাজী হায়াৎ, সালাউদ্দিন লাভলুকেও বিরতি দিয়ে অভিনয় করতে দেখা যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সহযোদ্ধা পরিচালকের অনুরোধ রক্ষার্থে অভিনয় করেন তাঁরা। আর অন্য পরিচালকদের পরিচালনায় কাজ করতে ভালোও লাগে তাঁদের।

বেশ কয়েকটি নাটকে অভিনয় করেছেন পরিচালক অনিমেষ আইচ। অভিনয় করেছেন চলচ্চিত্রেও। তবে যতবারই অভিনয় করেছেন, যেন অনুরোধেই ঢেঁকি গিলতে হয়েছে, জানালেন এই পরিচালক। তিনি বলেন, ‘অভিনয়ে আমার একদমই আগ্রহ থাকে না। বলা যায়, ধরে বেঁধে করানো হয়েছে। অভিনয় যখন করি, তখন আবার মনে হয়, এটা তো আমাদের সেক্টরের কাজ। আমার কাছে মনে হয়, অভিনয় চাপমুক্ত কাজ, কিন্তু অনেক বড় একটা পেশা। তবে পরিচালনায় টেনশন শতভাগ। নিজেকে পরিচালক এবং লেখক হিসেবে পরিচয় দিতেই আরাম বোধ করি। কেউ যখন আবার বলেন, আপনার অমুক ছবিটা দেখেছি, তমুক নাটকটা দেখেছি...তখন মনে মনে বলি, ও আচ্ছা।’

default-image

মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘ছবিয়াল’ দলের অন্যতম সদস্য পরিচালক শরাফ আহমেদ জীবন। ‘চৌধুরী সাহেবের ফ্রি অফার’সহ বেশ কিছু নাটক ও বিজ্ঞাপনচিত্র বানিয়েছেন তিনি। নির্মাণের পাশাপাশি কালেভাদ্রে নাটকে দেখা যায় তাঁকে। যাঁর নির্দেশনায় অভিনয় করেন শিল্পীরা, সেই পরিচালক যখন অন্য পরিচালকের নির্দেশনায় কাজ করেন, কেমন লাগে? শরাফ আহমেদ বলেন, ‘অভিনয় যখন করি, বেশ উপেভাগ করি। যাঁদের সঙ্গে কাজ করে ভালো লাগবে না বুঝি, তাঁদের সঙ্গে কাজই করি না।’

‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ শরাফ আহমেদের প্রথম কোনো ধারাবাহিক নাটক। এরপর আর অভিনয় করবেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নিয়মিত অভিনয় করব কি না, বলা মুশকিল। কারণ, আমি নিজের কোনো ফিকশন বা বিজ্ঞাপনচিত্রে অভিনয় করিনি। কেউ আমাকে ডেকেছে, গল্প শুনেছি, ভালো লেগেছে বলেই কাজ করেছি। ব্যাটেবলে মিললে কাজ করতেও পারি।’

বিজ্ঞাপন
default-image

পরিচালক সালাউদ্দিন লাভলুকেও হঠাৎ হঠাৎ অভিনয়ে দেখা যায়। অথচ মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা লাভলু ভাবেননি যে তিনি পরিচালক হবেন এবং অভিনয় করবেন। তিনি বলেন, ‘ভাবছিলাম, পড়াশোনা শেষে চাকরি করব। মঞ্চ ও টেলিভিশনে কাজ করব, পরিচালনা করব, অভিনয়ে আসব—স্বপ্নেও ভাবিনি। উচ্চমাধ্যমিক শেষে ঢাকায় এসে আরণ্যকে যোগ দেওয়ার পর চিন্তাধারা সব বদলে যায়। মামুন ভাইয়ের (মামুনুর রশীদ) সঙ্গে পরিচয়ের পর আমার জীবনের দর্শন তৈরি হলো, বেঁচে থাকার অর্থ তৈরি হলো। শিখলাম, নাটক শুধু বিনোদন নয়, নাটক দিয়ে দেশ-জাতি-সমাজকে বদলে দেওয়া যায়।’

পরিচালক সুমন আনোয়ার অভিনীত ‘হাওয়া’ ছবিটি আছে মুক্তির অপেক্ষায়। হাতে গোনা কয়েকটি ছবি আর নাটকেও দেখা গেছে এই পরিচালককে। তিনি বলেন, ‘একজন পরিচালক হিসেবে আমি গল্প বলার চেষ্টা করি। নিজের গল্পে কখনোই পরিচালক হিসেবে কাজ করিনি। কাছের বন্ধুবান্ধব, ছোট ভাই, কাছের যাঁরা, অনুরোধ করলে ফেরাতে পারি না। তখন অভিনয় করতেই হয়। আমার ভালো লাগে কাজ করতে। সব কাজের সার্থকতা তখন, যখন কাজটি মানুষের কাছে প্রশংসিত হয়।’

টেলিভিশন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন