default-image
বিজ্ঞাপন

ফেরদৌসী মজুমদার, অভিনয়শিল্পী
গত বছর করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন অভিনেত্রী ফেরদৌসী মজুমদার। প্রায় তিন সপ্তাহ তাঁকে চিকিৎসা নিতে হয়েছিল। চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে আইসোলেশনে ছিলেন। নিয়মিত খাবার এবং ওষুধের পাশাপাশি মনকে প্রফুল্ল রাখতে নিয়মিত গান শুনেছেন এই অভিনেত্রী। শক্তিবর্ধক খাবার দুধ, ডিম, ফল খেতে হয়েছে একটু বেশি করে।

default-image

তিনি জানান, এখন তিনি পুরোপুরি সুস্থ। তবে দুর্বলতা কাটতে বেশ সময় লেগেছিল তাঁর। তিনি বলেন, ‘এ সময়টায় মনোবল ধরে রাখা খুব জরুরি। নেতিবাচক কোনো খবর শোনা বা দেখা থেকে বিরত থাকতাম। এ সময় নিজে রান্না করেছি, ফোনে মেয়েকে রান্না শিখিয়েছি। তবে এখন খুব খারাপ লাগছে। এই মহামারিতে আমরা বড় বড় ভালো ভালো সব মানুষকে হারিয়েছি। আনিসুজ্জামান, জামিলুর রেজা চৌধুরী, আবুল হাসনাত, শামসুজ্জামান খান, কবরীদের হারিয়ে মনে হয়েছে, আর কত!’

default-image

রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, সংগীতশিল্পী
গত বছরের জুন মাসে করোনামুক্ত হয়েছিলেন রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। তিনি জানালেন, বাড়িতে সময় কাটাতে কাটাতে এখন ক্লান্ত। অনেকটাই অবসাদ পেয়ে বসেছে। আগে যেভাবে নানা কাজে দৌড়ে বেড়াতেন, এখন সেই শক্তিটা পান না। নিজের উপলব্ধির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘করোনা মহামারির আগে আমরা জীবন নিয়ে এতটাই ছুটেছি, বলা যেতে পারে পাগলের মতো, তাই হঠাৎ করে প্রকৃতি যেন বলে উঠল, এবার থামো। এভাবে দৌড়াতে নেই। মাঝেমধ্যে থামতেও হয়।’ তিনি বলেন, ‘আমি খুবই ভাগ্যবান যে, আক্রান্ত হওয়ার খবর জানার পর আমার পরিবার, বন্ধুবান্ধবেরা সার্বক্ষণিক আমার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন, সাহস দিয়েছিলেন। তারা আমাকে নিয়ে ভেবেছেন, এটা অনেক বড় একটা আশীর্বাদ বলে আমি মনে করি।’

বিজ্ঞাপন
default-image

ফেরদৌস ওয়াহিদ, কণ্ঠশিল্পী
গত বছরের সেপ্টেম্বরের ১ তারিখ ১১ দিন হাসপাতালে কাটিয়ে বাড়ি ফেরেন কণ্ঠশিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদ। এর মধ্যে কেমন ছিলেন তিনি? জানালেন, ডাক্তার তাঁকে বলেই দিয়েছিলেন, বছরখানেক একটু ক্লান্ত লাগবে। এখন তাই কাজ করতে গেলে সে রকমই লাগে তাঁর। আগে টানা ১০ মিনিট হাঁটলে যে ক্লান্তি আসত, এখন ৫ মিনিটেই ক্লান্ত হয়ে যান। চিকিৎসকেরা ফুসফুসের একটা ব্যায়াম দিয়েছেন, সেটা সব সময় করাও হয় না। এই শিল্পী বলেন, ‘জীবনে মাঝেমধ্যে একাকী লাগে। করোনা শুরুর আগে থেকে গ্রামেই থাকি। একাকিত্বের এই জীবনে কাল্পনিক অনেক চিন্তা আসে, যা আগে কখনো আসেনি। এখন উপলব্ধি করি—এ জীবনের শুরু কী, শেষ কী। এটা শুধুই একাকিত্বের জন্য। গ্রামে না এলে, করোনার প্রকোপ শুরু না হলে এটা হয়তো ভাবতাম না। জন্ম থেকে মৃত্যু—আমি কী করব, কী করলাম, আমার লক্ষ্যটা কী, পৃথিবীতে এসেছি কেন—এসব প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খায়।

default-image

জুয়েল আইচ, জাদুশিল্পী
গত বছরের নভেম্বর মাসে বেশ কিছুদিন হাসপাতালে ছিলেন জাদুশিল্পী জুয়েল আইচ। বেশ কিছুদিন করোনার সঙ্গে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়েছে তাঁকে। এখন ঘরের ভেতরেও মাস্ক পরে থাকেন তিনি। সুস্থ হয়ে ফেরার পর শুরুতে শারীরিকভাবে বেশ দুর্বল ছিলেন। তিনি জানান, স্মৃতি বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবে তিনি আশাবাদী, এ রকমটা থাকবে না।

জুয়েল আইচ মনে করেন, জীবনের প্রতিটি ধাক্কা ভিন্ন ভিন্ন উপলব্ধির জন্ম দেয়। করোনায়ও তেমনটা হয়েছে তাঁর। তিনি বলেন, ‘আমাদের জীবনটাকে যদি লম্বা ট্রেনজার্নি হিসেবে নিই, তাহলে আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে যেকোনো স্টেশনে নেমে যাওয়ার। কোনটা যে আমার শেষ স্টেশন হবে, তা আমি জানি না।’

আমি আমার মেয়েকে এত ভালোবাসি, জানতাম না। হাসপাতালে, যখন কথা বলতে কষ্ট হচ্ছিল, মেয়ের জন্য তখন পাগল হয়ে গিয়েছিলাম। নতুন করে জানলাম, আমার স্ত্রী আমাকে কত ভালোবাসে। জীবন বাজি রেখে সে আমাকে ফিরিয়ে এনেছে। পরস্পরের জন্য ভালোবাসাটা একেবারে কষ্টিপাথরে যাচাই হয়ে গেল।

default-image

আজিজুল হাকিম, অভিনেতা
করোনা থেকে সেরে ওঠার পর এখনো ভীতির মধ্যে আছেন অভিনেতা আজিজুল হাকিম। এখন তিনি বেশ ভালো বোধ করছেন। এখনো মাঝেমধ্যে শারীরিক কিছু সমস্যার মুখোমুখি হন। তিনি বলেন, ‘সবার উচিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না যাওয়া। লকডাউনে এখন আক্রান্তের সংখ্যা কম। কিন্তু লকডাউন উঠে গেলে এবং সবাই স্বাভাবিক চলাফেরা শুরু করলে সেটা বেড়ে যেতে পারে। পরিবারকে ভালোবেসে একান্ত প্রয়োজনে নিরাপত্তা নিয়ে বাইরে বের হন।’

বিজ্ঞাপন
টেলিভিশন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন