বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

তার প্রশ্নের জবাবে দেখালাম চিরকুট। উনি অভয় দিলেন, ‘নূর ভাইয়ের বাসায় চলে যাও।’ ওনার কাছ থেকেই জানলাম, নূর ভাইয়ের সঙ্গে মতি ভাই কথা বলে রেখেছেন। সন্ধ্যায় বাসায় ফোন করতেই নূর ভাইকে পেলাম। নূর ভাই স্নেহের সুরে বললেন, ‘চলে এসো।’

default-image

মনে পড়ছে, আমার সঙ্গে ভোরের কাগজ–এর ফটোসাংবাদিক ইউসুফ সা’দ গিয়েছিল। কিন্তু আজ তাকে আমেরিকায় ফোন করার পর সে জানাল তার মনে নেই।
কথামতো রাতে হাজির হলাম ইস্কাটন প্লাজায় ‘বাকের ভাই’য়ের ফ্ল্যাটে। ড্রয়িংরুমে জমিয়ে বসলাম। নূর ভাইয়ের স্ত্রী, মা আর সন্তানেরা সবাই টেলিভিশন সেটের সামনে। কিন্তু শেষ দৃশ্যের আগেই উঠে চলে গেলেন নূর ভাইয়ের শিক্ষিকা মা। ‘ছেলের ফাঁসি’ তিনি দেখতে চান না। নূর ভাইয়ের ছেলে সুদীপ্ত বোঝানোর চেষ্টা করল, ‘দাদি, বাবার কিছুই হবে না।’ নিজের ঘরে চলে গেলেন নূর ভাইয়ের চিকিৎসক স্ত্রীও।

নাটক শেষ হতেই নূর ভাইয়ের বাসার ফোন, কথা বলবেন সংগীতশিল্পী রওশন আরা মুস্তাফিজ। তাঁর পাশের ফ্ল্যাটের এক কিশোর খুব কান্নাকাটি করছে, বাকের ভাইয়ের কেন ফাঁসি হলো? মা-বাবা বোঝাতে না পেরে শেষে এসে রওশন আরা মুস্তাফিজকে ধরেছেন। তাই তিনি ফোনে কথা বলিয়ে দিলেন আসাদুজ্জামান নূরের সঙ্গে, না নাটকের বাকের ভাই—বাস্তবের আসাদুজ্জামান নূর—বহাল তবিয়তেই আছেন। নিচে নেমে দেখি মিছিল নিয়ে হাজির রামপুরার একদল তরুণ। হাতে লেখা প্ল্যাকার্ড, ‘বাকের ভাইয়ের ফাঁসি মানি না।’

শেষ দৃশ্যের আগেই উঠে চলে গেলেন নূর ভাইয়ের শিক্ষিকা মা। ‘ছেলের ফাঁসি’ তিনি দেখতে চান না। নূর ভাইয়ের ছেলে সুদীপ্ত বোঝানোর চেষ্টা করল, ‘দাদি, বাবার কিছুই হবে না।’ নিজের ঘরে চলে গেলেন নূর ভাইয়ের চিকিৎসক স্ত্রীও।
default-image

সেই ফিচারটিতে এ সবকিছুই লিখেছিলাম। যার কথা আজ নূর ভাইয়ের জন্মদিনের সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছেন প্রথম আলো সম্পাদক স্বয়ং। সেদিন ওই ফিচারটি ভোরের কাগজ–এর প্রথম পৃষ্ঠায় ছাপা হবে কি না, তা নিয়ে বার্তাকক্ষে তুমুল তর্কও হয়েছিল।

যখন নিশ্চিত হয়েছিলাম প্রথম পাতাতেই ফিচারটি ছাপা হবে, নিজের আবেগ আর ধরে রাখতে পারিনি, একটু বেশি রাত হয়ে গেলেও নূর ভাইয়ের বাসায় ফোন করলাম। ইচ্ছা খবরটা জানিয়ে দিই। কিন্তু ফোন ধরলেন নূর ভাইয়ের স্ত্রী, ‘নূর তো নেই ,একটু আগেই এয়ারপোর্ট গেছে, মুম্বাই যাবে।’ আমি আবার লিখলাম ‘বাকের ভাই মুম্বাইতে’, ছাপা হলো ভোরের কাগজ–এর প্রথম পৃষ্ঠার প্রথম কলামের ‘এক স্লিপে’। আহা! এক স্লিপ নিয়েও কত স্মৃতি!

নিজের আবেগ আর ধরে রাখতে পারিনি, একটু বেশি রাত হয়ে গেলেও নূর ভাইয়ের বাসায় ফোন করলাম। ইচ্ছা খবরটা জানিয়ে দিই। কিন্তু ফোন ধরলেন নূর ভাইয়ের স্ত্রী, ‘নূর তো নেই ,একটু আগেই এয়ারপোর্ট গেছে, মুম্বাই যাবে।’
default-image

আজ সেটিই উসকে দিয়েছেন প্রথম আলোর বর্তমান আর ভোরের কাগজ–এর সাবেক সম্পাদক মতিউর রহমান। প্রিয় মতি ভাইয়ের সঙ্গে বংশাল, বাংলামোটরেও আছে শত স্মৃতি, নিশ্চয়ই লিখব সেসব দিনের কথাও। ভালো থাকুন, মতি ভাই।

টেলিভিশন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন