default-image

‘ক্যারাম’ নাটকের শফিকুল চরিত্রে অভিনয়ের জন্য চূড়ান্ত করা হয় বাপ্পী আশরাফকে। পরে তিনি জানতে পারেন, চরিত্রটি করছেন মোশাররফ করিম নামের এক তরুণ অভিনেতা। শুনে নাটকটি থেকে সরে দাঁড়ান বাপ্পী। অন্যদিকে ‘ক্যারাম’ নাটকটিতে শফিকুল চরিত্রে অভিনয়ই করতে চাননি মোশাররফ করিম।

বিজ্ঞাপন
default-image

নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নাটকে অভিনয় করেছেন বাপ্পী আশরাফ। সেই সূত্রেই তিনি জানতে পারেন ‘ক্যারাম’ নাটকের কথা। একসময় নাটকের প্রধান চরিত্রের জন্য নির্বাচিত হন তিনি। কিছুদিন পর হঠাৎ শুনতে পান, শফিকুল নয়, তপন চরিত্রে কাজ করতে হবে তাঁকে। মন খারাপ করে নাটকটি থেকে সরে দাঁড়ান বাপ্পী। তিনি জানান, তিনি শফিকুল চরিত্রের জন্যই প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তপন চরিত্রটি তিনি করতে চাননি। পরে অভিনেতা কচি খন্দকার ও নির্মাতা আশুতোষ সুজন তাঁকে কাজটি করার আহ্বান জানান। বাপ্পী বলেন, ‘মোশাররফ ভাই তখন ছবিয়াল টিমে প্রথমবার কাজ করেন। আমরা একসঙ্গে কুমিল্লায় শুটিংয়ে যাই। তখন মোশাররফ ভাই অনেক নার্ভাস ছিলেন। কি হবে না হবে, সেটা নিয়েই ভাবছিলেন। পরে চরিত্রে ঢুকতেই মোশাররফ ভাইয়ের এক দিন লেগে গেল। তারপর টানা ১২ দিন আমরা কুমিল্লায় শুটিং করি।’ ‘ক্যারাম’ নাটকের পুরো শুটিং শেষ হতে প্রায় ২০ দিন লাগে। এই সময়ে তাঁরা সবাই নিজের সেরা অভিনয় দিয়ে নাটকটিতে অভিনয় করেন। আজ থেকে ১৫ বছর আগে, আজকের এই দিনে এনটিভিতে প্রচারিত হয় সেটি। ‘ক্যারাম’ প্রচারের পর রাতারাতি জনপ্রিয়তা পেয়ে যান মোশাররফ করিম ও বাপ্পী আশরাফ। এই দুই অভিনেতার টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়ায় ‘ক্যারাম’।

default-image

প্রথম দিকে ‘ক্যারাম’ নাটকটি করতেই চাননি অভিনেতা মোশাররফ করিম। এ সময় তাঁর অন্য একটি নাটকের শুটিং ছিল, সেটার কাজে যাওয়ার কথা ছিল দেশের বাইরে। সেই ঘটনা মনে করে মোশাররফ জানান, সেই নাটকের শুটিংয়ের জন্য প্রথমবারের মতো থাইল্যান্ডে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। এটাই তাঁর কাছে জরুরি ছিল। ‘ক্যারাম’–এ অভিনয়ের কোনো ইচ্ছাই তাঁর ছিল না। ‘ক্যারাম’ নাটকের সেই ঘটনা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আমার স্ত্রী জুঁই “ক্যারাম”–এর চিত্রনাট্য পড়েছিল। তার কাছে গল্পটি ব্যতিক্রম মনে হয়। তখন জুঁই আমাকে বলে, “তুমি ‘ক্যারাম’ নাটকটি করো। নাটকটি মনে হচ্ছে ভালো হবে।” তখন আমিও মত পরিবর্তন করি। একটা নাটক যে জীবনের বাঁক বদলে দিতে পারে, সেটা “ক্যারাম” দিয়ে বুঝলাম।’ পরে রাতারাতি যেন মোশাররফ করিমের ক্যারিয়ার বদলে যায়। বাড়তে থাকে কাজের ব্যস্ততা। এখনো তিনি মনে করেন, নাটকটি তাঁর ক্যারিয়ারের বাঁক বদলে দেয়।

‘ক্যারাম’ জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর তৈরি হয় নাটকটির সিকুয়েল। নাটকে অভিনেত্রী ছিলেন নুসরাত ইমরোজ তিশা। নাটকটি প্রচারের ১৫ বছর হলো আজ। বাপ্পী আশরাফ জানান, বাংলাদেশে সেই সময় ‘ক্যারাম’ নাটকের লাখ লাখ সিডি বিক্রি হয়। সবার মধ্যে ‘ক্যারাম’ ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করে। পরে নিয়মিত নাটকে অভিনয় করতে করতে একসময় অনিয়মিত হয়ে পড়েন তিনি। বাপ্পী বলেন, ‘তখন আমি যে নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করতাম, তাদের বেশির ভাগই নাটক বানানো কমিয়ে দিল। তখন আমি ব্যবসার দিকে বেশি মনোযোগ দিলাম। এখন ব্যবসা নিয়ে আছি। সময়-সুযোগ হলে আবার অভিনয় করব। কিন্তু নাটকে এখন আর আগের মতো পরিবেশ নেই। বাজেটের কারণে কাজ পাওয়া যায় না। অনেক নির্মাতাই আমাকে চেনে না। যাঁরা চেনেন, তাঁরা “ক্যারাম”–এর জন্যই চেনেন।’

বিজ্ঞাপন
টেলিভিশন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন