আফসানা মিমি
আফসানা মিমিসংগৃহীত

নিজে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। কিন্তু বাবার জন্য বেশি চিন্তিত ছিলেন অভিনেত্রী আফসানা মিমি। বয়স্ক বাবার কথা চিন্তা করেই ঘর ছেড়ে হাসপাতালে গেছেন মিমি। কিছুটা কাশি ও হালকা জ্বর বোধ করায় গত ২৪ মার্চ তিনি করোনার নমুনা পরীক্ষা করান। ২৫ মার্চ জানতে পারেন, তিনি করোনায় আক্রান্ত।

করোনা শনাক্ত হওয়ার পর থেকে নিজের রুমে আইসোলশনে ছিলেন মিমি। মাঝে কাশি ও শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে যেত। তবে স্বাভাবিকভাবেই ঘরবন্দী হয়ে সব কাজ করছিলেন। ৩১ মার্চ তাঁর শারীরিক অবস্থার কিছুটা অবনতি হয়। পরিবারের সবার কথা ভেবে তিনি সিদ্ধান্ত নেন, হাসপাতালে ভর্তি হবেন। এক সহর্কমীকে খুদে বার্তায় আফসানা মিমি লিখেছেন, ‘আমার বাবার বয়স ৮৪ বছর। বাবা আমার জন্য আর কত দিন ঘরবন্দী থাকবেন। এই বয়সে বাবার একটু হাঁটাচলা করা দরকার। আমার কারণে সেটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। এই মুহূর্তে ঝুঁকি নিতে চাই না। পরিবারের সবার কথা ভেবে আমি নিজেই আজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। পরিবারের সবাই ভালো থাকলে আমিও সুস্থ হয়ে উঠব।’ তাঁর পক্ষ থেকে এই বিবৃতি সবাইকে জানিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এই শিল্পী।

বিজ্ঞাপন
default-image

আফসানা মিমি হাসপাতাল থেকে জানান, যখন তিনি কোনো বিপদে পড়েছেন, তখনই সবার ভালোবাসা পেয়েছেন। এভাবে তিনি সারা জীবন সবার ভালোবাসা পেতে চান। হাসপাতালের কথা শুনলেই সবাই মনে করেন, মারাত্মক কিছু হয়েছে। অনেকেই ভয় পেয়ে যান। এ জন্য তিনি সুহৃদ নাট্যকার ও নির্মাতা নজরুল সৈয়দের মাধ্যমে সবাইকে জানিয়েছেন, হাসপাতালে তিনি ভালো আছেন। নজরুল সৈয়দ ২৫ বছর ধরে আফসানা মিমির সঙ্গে কাজ করেন। তাঁর লেখা ‘বন্ধন’, ‘কাছের মানুষ’, ‘ডলস হাউস’, ‘সাড়ে তিন তলা’, ‘সাতটি তারার তিমির’সহ অনেক নাটক পরিচালনা করেছেন মিমি। নজরুল ১ এপ্রিল রাত ১০টায় প্রথম আলোকে জানান, আফসানা মিমি নিয়মিত নাটক নির্মাণ করছিলেন। একই সঙ্গে শিল্পকলার পরিচালক হিসেবে সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সভা করেছেন, মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন। এসবের কোনো এক অসতর্ক মুহূর্তে সংক্রমিত হতে পারেন তিনি। নজরুল সৈয়দ বলেন, আফসানা মিমি এখন ভালো আছেন। তাঁর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। তাঁর চিকিৎসা চলছে। সুস্থ হলেই তিনি বাসায় ফিরবেন। নিয়মিত আবারও শুটিং ও শিল্পকলার কাজে সশরীর উপস্থিত হবেন।

default-image

বিনোদনজগতে মিমির পথচলা ৩০ বছরের বেশি। অভিনয়ে তাঁর অভিষেক হয়েছিল মঞ্চের মাধ্যমে। ১৯৮৬ সালে ব্যতিক্রম নাট্যগোষ্ঠীর হয়ে প্রথম মঞ্চে ওঠেন তিনি। প্রয়াত নাট্য ব্যক্তিত্ব আবদুল্লাহ আল–মামুনের ‘জিরো পয়েন্ট’ নাটকের মাধ্যমে ছোট পর্দায় প্রথম অভিনয় করেন। ১৯৯২ সালে আজিজুর রহমানের ‘দিল’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তাঁর। এরপর অনেকগুলো আলোচিত ছবিতে অভিনয় করে প্রশংসিত হয়েছেন তিনি। মিমি ধারাবাহিক নাটক ‘বন্ধন’ দিয়ে পরিচালনা শুরু করেন। একুশে টিভিতে প্রচারিত ‘বন্ধন’ ধারাবাহিকটি বেশ জনপ্রিয়তা পায়।

বিজ্ঞাপন
টেলিভিশন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন