আজমেরী হক বাঁধন
আজমেরী হক বাঁধনছবি:সংগৃহীত

৩৭ বছরে পা দেওয়া বাঁধন জানালেন, এটি তাঁর ‘তৃতীয় জন্মদিন’। মাত্রই তিনি হামাগুড়ি শেষে ওঠে দাঁড়িয়েছেন। হাঁটা শিখছেন। শিগগিরই দৌড়াবেন। তারপর হয়তো উড়বেন। এরপর আর থামবেন না। জন্মদিনের বিকেলে যোগাযোগ করা হলে এভাবেই বললেন লাক্স তারকাখ্যাত আজমেরী হক বাঁধন।

default-image

তৃতীয় জন্মদিনের রহস্য কী? ‘আমার বয়স ৩৭ ঠিক। এর মধ্যে ৩৪ বছর ধরে অন্যের জন্য বেঁচেছি। পরিবার, সমাজ, পুরুষতন্ত্র যা চেয়েছে, তা–ই করেছি। তিন বছর আগে আমি বিষাক্ত বৈবাহিক সম্পর্ক থেকে সরে এসেছি। আইনগতভাবে আমার সন্তানের দায়িত্ব নেওয়ার অধিকার পেয়েছি। শরীরের অতিরিক্ত মেদের মতো পুরুষতন্ত্র ঝরিয়ে ফেলেছি। মন আর মস্তিষ্ক থেকে পুরুষতন্ত্র ঝেঁটিয়ে বিদায় করেছি। আমার চিন্তায়, জীবনযাপনে পরিবর্তন এনেছি। তিন বছর আগে “বিয়ে টিকিয়ে রাখার খেলা”য়  আমি হেরেছি। সেই হার আমার জীবনের সবচেয়ে বড় জয়। হারের মধ্য দিয়ে নতুন করে জন্ম নিয়েছি। তাই এটা আমার তৃতীয় জন্মদিন,’ বললেন বাঁধন।

বিজ্ঞাপন

জন্মদিনে আজমেরী হক বাঁধনের সঙ্গে যখন আলাপ চলছে, তিনি তখন শুটিংয়ে। জানালেন, গতকাল রাত ১০টায় মেয়ে সায়রা জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।

default-image

পরিচালক পিপলু আর খান রাত ১২টা বাজার আগেই জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান। দুদিন ধরে এই পরিচালকের একটি বিজ্ঞাপনচিত্রের শুটিং করছেন। জন্মদিনে ভোর চারটায় তাঁকে দোহারের নবাবগঞ্জের একটি শুটিংবাড়িতে যেতে হয়েছে। এরপর বাকি দৃশ্যের শুটিংয়ে তাঁকে যেতে হয় জিন্দা পার্কে। জন্মদিনের প্রথম প্রহরে এক ফেসবুক পোস্টে নিজেই নীরবে জানান দিয়েছেন, ‘আজ আমার ৩৭তম জন্মদিন!’

default-image

সাধারণত কোনো ‘নায়িকা’ বয়স প্রকাশ করতে চান না। ‘বয়স কেন লুকাব? এটাও একধরনের পুরুষতান্ত্রিক ষড়যন্ত্র’, বললেন বাঁধন। তিনি বলেন, ‘বয়স লুকিয়ে রাখতে হবে। কম কম বলতে হবে। বিয়ে গোপন করতে হবে। বাচ্চা হলে জানানো যাবে না। কেন? আমার সব সত্যি নিয়েই আমি। আমার চুল পাকবে, মুখে বয়সের বলিরেখা পড়বে, চোখে লেগে থাকবে অভিজ্ঞতার ছাপ। আমি কোনো কিছুই লুকাতে রাজি না। আমি যা, আমি তা–ই।’

বিচ্ছেদের পর মেয়ে সায়রাকে নিয়েই আছেন বাঁধন। বিনোদন অঙ্গনের অনেকের প্রশ্ন, বাঁধন কী এভাবেই একা থাকবেন? তিনি কি নতুন করে সংসারের স্বপ্ন দেখছেন না? কী ভাবছেন বাঁধন?

default-image

জানা গেল, বাঁধন ও তাঁর মেয়ে এই মুহূর্তে নিজেদের সম্পর্কের ভাগ অন্য কাউকে দিতে চান না। তা ছাড়া বাঁধন এখন নিজেকেও সামলে নিয়েছেন। নিজেই এখন নিজের জন্য যথেষ্ট। ইমোশনালি কারও ওপর নির্ভরশীল নন। তবে অনেকে বাঁধনের ওপর ইমোশনালি নির্ভরশীল বলে জানালেন। তিনি বললেন, ‘মজার ব্যাপার হচ্ছে, আমার প্রতি যাদের আবেগ কাজ করে, তাদের বেশির ভাগই নারী। তবে হ্যাঁ, জীবনে কিছু ভালো বন্ধুর প্রয়োজন। আমার তেমন বন্ধু আছে। তবে আগের বিয়ের অভিজ্ঞতা এতটাই ভয়ংকর যে বিয়ের কথা ভাবলেই ভয় হয়।’

বিজ্ঞাপন

যদি কখনো বিয়ে করেন তাহলে কেমন বর চান? উত্তরে একটি শর্তই শুধু দিলেন, জীবনসঙ্গীকে হতে হবে সত্যিকারের নারীবাদী। ইদানীং পড়াশোনার দিকেও বেশি মনোযোগী হয়েছেন বাঁধন। প্যারেন্টিং, নারীবাদ, পুরুষতন্ত্র, মানুষের সাইকোলজিসহ আরও নানা বিষয়ে তাঁর আগ্রহ। যতই পড়েন, ততই তাঁর মনে হয় তিনি কতই–না বোকা, নির্বোধ আর অশিক্ষিত।

default-image

সে যা-ই হোক, জন্মদিনের পুরোটা দিন বাঁধনের কেটে গেছে শুটিংয়ে। শুটিং শেষে রাতে ঘরে ফিরে দেখেন, মেয়ে সায়রা হাতের আঙুলগুলোর মধ্যে একটা সাদা গোলাপ নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। বহুদিন ধরে মেয়ে তার একটা সাদা গোলাপগাছে পানি দিয়েছে, যত্ন করেছে। সাদা গোলাপকে সে মনে মনে রেখে দিয়েছে মায়ের জন্য। গোলাপটা সে ছিঁড়েছে জন্মদিনে মাকে উপহার দেবে বলে।

default-image
মন্তব্য পড়ুন 0