সম্প্রতি একটি নতুন নাটকের জন্য কাজ করেছেন বাংলাদেশের অভিনেতা শাহেদ শরীফ খান। শেষ করেছেন কলকাতার একটি সিনেমার কাজ। নাটকের কাজ, নতুন সিনেমাসহ নানা বিষয় নিয়ে কথা বললেন এই অভিনেতা।
default-image

‘ড্রিম’ থেকে কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

কলকাতার এই কাজটি অনলাইনের জন্য করেছিলাম। ভারতের বেশ কিছু প্রদেশের শিল্পীরা এখানে কাজ করেছেন। থমকে যাওয়া দিনে আমরা স্বপ্ন দেখা থামাব না। এটাই ছিল ফিল্মটির কনসেপ্ট। প্রচারের পর অনেকেই বেশ ভালো বলেছে।

৯০–এর দশকে যখন আপনারা শুরু করেছিলেন, তখন থেকে এখন পর্যন্ত আপনার অঙ্গনে কী কী পরিবর্তন দেখছেন?

সময়ের সঙ্গে সবকিছুরই পরিবর্তন হয়। ভালো–খারাপ সব সময়ই ছিল। এমন না যে, আমাদের সেই সময়ে খারাপ কাজ হয়নি। সময়টাকে কে কীভাবে নিচ্ছে, এটাই আসল কথা। এখনো ভালো কাজ হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

একসময় দেশের অভিনেতাদের মধ্যে মানসম্মত কাজের প্রতিযোগিতা হতো। সেটা কি এখন দেখতে পান?

প্রতিযোগিতার সেই বিষয়টি এখনো আছে। যারা ভালো কাজ করে, তারা টিকে থাকবে। এটাই স্বাভাবিক। তাদের ওপরেই মিডিয়া নির্ভর করবে।

default-image

শোনা যায়, মিডিয়া এখন হাতে গোনা কয়েকজনের ওপর নির্ভরশীল?

হাতে গোনা কয়েকজনের ওপর কীভাবে নির্ভরশীল হয়, সেটা আমি জানি না। তবে যারা ভালো করছে তাদের ওপর এমন নির্ভরশীলতা সব সময়ই ছিল।

বিজ্ঞাপন

কাদের নিয়ে নাটক বানানো হবে, সেটা এখন টেলিভিশনের কর্তারা ঠিক করে দিচ্ছেন। এ প্রক্রিয়া নিয়ে আপনার অবস্থান কী?

এই বিষয়টি সম্পর্কে আমি আসলে জানি না। চ্যানেল থেকে যদি এ ধরনের কাজ করেই থাকে, তাহলে অনেক ভালো ভালো শিল্পী হারিয়ে যাবে। কারণ এতে সবাই যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পাবে না।

এই মুহূর্তে ভালো একটি কাজ করা কীভাবে সম্ভব?

সবার আগে যোগ্য লোক বাছাই করতে হবে। তাঁর হাতে ছেড়ে দিতে হবে নাটকের কাজ। চ্যানেল যদি অভিনয়শিল্পী বাছাইয়ের দায়িত্ব নেয়, তাহলে নির্মাতার কাজ বাধাগ্রস্ত হয়। অভিনেতা যদি সেটে ডিরেকশন দেয়, তাহলেও কাজ বাধাগ্রস্ত হয়। লেখক, পরিচালক, ক্যামেরাম্যান সবাইকে কাজের স্বাধীনতা দিতে হবে। সবাই নিজের সেরাটা দিয়ে কাজটুকু করলেই ভালো কাজ হবে। লাইট-ক্যামেরা ক্রু, প্রোডাকশন টিম কাউকেই ছোট করে দেখা যাবে না।

default-image

দেশ–বিদেশের ওটিটি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে আমাদের টিভি নাটককে কতটা প্রতিযোগিতা করতে হবে?

বিভিন্ন ওটিটি প্ল্যাটফর্মে আমরা যখন ভালো কাজ দেখব, তখন আমাদের মধ্য বিশ্বমানের কাজ করার প্রতিযোগিতা তৈরি হবে। কমপিটিশন ছাড়া টিকে থাকা কঠিন। এখন নিজেদের যোগ্য প্রমাণ করতে হবে। একজন একই কাজের জন্য ১০ লাখ টাকা পাচ্ছে, অন্যজন যোগ্যতা না থাকায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা পাচ্ছে। এই ব্যবধান ঘোচাতে সবার মধ্য প্রতিযোগিতা থাকতে হবে।

বিজ্ঞাপন

অনেকেই তারকা হওয়ার মোহ নিয়ে মিডিয়ায় আসে। আপনাদের নাট্যচর্চার ধারাবাহিকতা কী বলে?

অভিনয় করতে চাইলে অভিনয় শিখে আসা জরুরী। বড় তারকা হব, খ্যাতি হবে, বিখ্যাত হব— এসব মোহ নিয়ে মিডিয়ায় আসা মানে, জীবন ধ্বংস করা। এভাবে ১০ জনের ১ একজন হয়তো সফল হয়। কিন্তু বাকি ৯ জনের জীবন শেষ হয়ে যায়। নাটক কেন করে, এই প্রশ্নের উত্তরই অনেকে দিতে পারবে না।

২৩ বছর ক্যারিয়ারে আপনার অতৃপ্তি কী?

একটা সময় মনে হতো, কবে আমি অনেক বড় তারকা হব। কবে অনেক টাকা জমাব। এখন এসব কিছুই টানে না। এখন শুধু মনে হয়, যে কাজটা করব, সেটা যেন মানুষের মনে থাকে। আমি মারা যাওয়ার পরও যেন মানুষ আমাকে মনে রাখে। তারা বলে, শাহেদ নামে একজন পারফরমার ছিল।

একজন অভিনেতার সার্থকতা কোথায়?

গোলাম মোস্তাফা, হুমায়ুন ফরিদী, সদরুল পাশা, মাখনা ভাই নামে একজন অভিনেতা ছিলেন, তাঁরা সবাই আমার প্রিয় অভিনেতা। তাঁরা আজ নেই, কিন্তু আমি এখনো তাঁদের নাম বলছি। একজন অভিনেতা তার কাজের মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকে। এটাই তার সার্থকতা।

মন্তব্য পড়ুন 0