তিন দিন ধরে উধাও আজমেরি হক বাঁধন। তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না কোথাও। ফোন বন্ধ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নেই কোনো আপডেট। এই তিন দিন তিনি ছিলেন রাঙামাটির থানচি থেকে ২৩ কিলোমিটার ভেতরে, রিমাক্রি। নেটওয়ার্কের বাইরে। সেখানে সাঙ্গু নদে দুদিন নাকি তিনি ‘ডুবে’ ছিলেন। এমনটি জানালেন তিনি নিজেই।

default-image

সেখানে গিয়ে তিনি একটি মিউজিক্যাল ফিল্মের শুটিং করেছেন। ‘জয় হোক’ শিরোনামে নজরুলগীতির ওপর বানানো সাদা–কালো এই ভিডিও চিত্রটি পরিচালনা করেছেন পিপলু আর খান। গানটি নতুন করে গেয়েছেন সুস্মিতা আনিস। সংগীত পরিচালনা করেছে শায়ন চৌধুরী অর্ণব।

default-image
বিজ্ঞাপন

পরিচালনা করেছেন পিপলু আর খান। পিপলু ভাই আমাকে গানটা পাঠালেন। বললেন, ‘তুমি আগে শোনো। শুনে তোমার ভেতরে কী অনুভূতি হয়, সেইটা আমাকে জানাও।’ আমি আসলে আগে সেভাবে মন দিয়ে নজরুলগীতি শুনিনি। এটা আমার ব্যর্থতা। কারণ, নজরুলের গান গভীরভাবে অনুধাবন করার মতো গভীরতা তখন আমার ছিল না। কিন্তু গানটা শুনে আমার সারা গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল। মনে হলো, কেউ একজন আমার ভেতরের যন্ত্রণা, না পাওয়া, বেদনা, ভয়, ক্ষোভ সবকিছুকে প্রবলভাবে নাড়া দিল। যেন কেউ আমার মনের কথাগুলোই তীব্রভাবে গানের কথা আর সুরে বলে দিল। আমি দুর্গম এলাকায় তিন দিন ছিলাম নেটওয়ার্কের বাইরে। আমি সাঁতার পারি না। এই কাজটা করার জন্য আমি দুদিন সাঙ্গু নদে ডুবে ছিলাম। কাজটা করে আমার যে কী ভালো লেগেছে! আমার মনের খোরাক জুগিয়েছে। বাঁধন আরও জানান, এই গানচিত্রে বর্তমান সময়ের উপযোগী করে, নারীদের বঞ্চনার কথা প্রকাশ করা হয়েছে।

default-image

কেন রিমাক্রি জায়গাটাকে বেছে নিলেন এই কাজটার জন্য? এমন প্রশ্নের উত্তরে পরিচালক পিপলু আর খান বলেন, ‘আমি এর আগে কখনো এ ধরনের কাজ করিনি। মাত্র শুটিং করে এলাম। নারীর সঙ্গে তো প্রকৃতির একটা গভীর যোগাযোগ আছে। প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়ার জন্য রিমাক্রি যাওয়া। গাছ, পাথর, পানি, ভোরের কুয়াশা এগুলো সব একসঙ্গে পাওয়া যায় ওখানে। আর সুস্মিতা আনিস, অর্ণব, আমি, মহসিনা আখতার, বাঁধন—আমাদের এই দলের কম্বিনেশনটাও কিন্তু দারুণ। এটাকে আমি মিউজিক ভিডিও না বলে ৪ মিনিটের একটা মিউজিক্যাল ফিল্ম বলতে চাই। দেখা যাক, সম্পাদনা শেষে কী দাঁড়ায়।’

default-image

এই গানে বাঁধনের কস্টিউম ডিজাইন করেছেন মঞ্চের চেনা নাম মহসিনা আখতার। ২৬ মার্চ ইউটিউবে প্রকাশিত হবে গানটি।

টেলিভিশন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন