>আবার স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে শুটিং সেট। প্রায় আড়াই মাস বিরতি দিয়ে জুন মাসে শুটিং শুরু হয়েছে বিভিন্ন নাটকের। তবে নতুন স্বাভাবিক (নিউ নরমাল) সময়ে বদলে গেছে শুটিং সেটের চিরচেনা অনেক রীতি, অনেক অভ্যাস। লিখেছেন মনজুরুল আলম
default-image

নেই মেকআপ রুমের আড্ডা

শুটিং করতে এসে মেকআপ রুমে নির্মাতা, প্রযোজক, তারকাদের আড্ডা হয়নি—এমন নজির পাওয়া যাবে না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে চলত সেই আড্ডা। কেউ দৃশ্য ধারণে গেলে আবারও এসে যোগ দিতেন আড্ডায়। আড্ডায় স্থান পেত পেশাগত, পারিবারিক সুখ-দুঃখের কথা, শুটিংয়ের একাল-সেকাল, ব্যক্তি থেকে জাতীয় আর আন্তর্জাতিক প্রসঙ্গ। সাজঘর মুখর থাকত কথায় আর হাসিঠাট্টায়। কিন্তু এখন সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে গিয়ে এই আড্ডায় ভাটা পড়েছে। অনেক শুটিং হাউসে নেই রূপসজ্জাকার। এখন সব তারকাই সুরক্ষার কথা ভেবে শুটিংয়ের বিরতিতে আলাদা রুমে একা সময় কাটাচ্ছেন।

সম্প্রতি শুটিংয়ে ফেরেন অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব। যদিও দুজন কর্মীর শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ায় শুটিং বন্ধ হয়ে যায় দুই দিনের মধ্যেই। সেই নাটকের শুটিং–সংশ্লিষ্ট সবাই চলে যান কোয়ারেন্টিনে। কিন্তু সংক্রমণ ছড়ায়নি শিল্পীদের মধ্যে। অপূর্ব মনে করেন, সেটে সঙ্গনিরোধ করে একা এক রুমে থাকায় নিরাপদে আছেন তাঁরা। এই অভিনেতা বলেন, ‘এখন তো মেকআপ রুমে আড্ডার প্রশ্নই আসে না। শুটিংয়ে যতক্ষণ ছিলাম, চিন্তায় থাকতে হয়েছে। সবার স্বাস্থ্যের কথা ভেবেই শুটিংয়ে বেশির ভাগ সময় একা থাকার চেষ্টা করেছিলাম।’

হচ্ছে না সবাই মিলে খাওয়া

করোনাকালের আগে মধ্যাহ্নভোজ পর্ব ছিল শুটিংয়ের অন্যতম আনন্দের মুহূর্ত। অনেকে বাড়ি থেকে বেশি করে নিয়ে আসতেন মজার সব খাবার। অনেক তারকার আবার পছন্দের ছিল শুটিং সেটের খাবার। শুটিংয়ে যেসব খাবার সরবরাহ করা হয়, তার মধ্যে কালা ভুনা, মাছভর্তা, মাছভাজি, মুরগিভাজিসহ অনেক খাবার তারকাদের কাছে বেশি প্রিয়। সেসব খাবার সবাই মিলে একসঙ্গে বসে খাওয়ার রেওয়াজ ছিল। কোনো শিল্পীর দৃশ্য ধারণ আগে শেষ হলেও তিনি মধ্যাহ্নবিরতির জন্য অপেক্ষা করতেন, সবাই মিলে একসঙ্গে খাবেন বলে। কিন্তু এখন আর আগের মতো একসঙ্গে খাওয়ার জন্য টেবিল সাজানো হয় না।

খাবার টেবিলে এখন সাজানো থাকে স্যানিটাইজার, মাস্ক, আদা-লেবু, গরম পানি। শুটিং সেটে সবাই মিলে একসঙ্গে খাওয়ার মুহূর্তকে মিস করেন অভিনেত্রী সাবিলা নূর। তিনি বললেন, ‘এখন সবাই একসঙ্গে বসি না। যার যার খাবার বাসা থেকে নিয়ে যাই। একা খেতে হয়। সবাই একসঙ্গে বসে খাওয়া আর গল্প করা মিস করি। তা ছাড়া আর তো উপায় নেই। এখন কারও সঙ্গে মিশতেই ভয় লাগে।’

বদলে গেল সৌজন্য সাক্ষাৎ পর্ব

ব্যস্ত শিল্পীরা আজ এই শুটিং সেটে, তো কাল ওই সেটে। অনেক সহকর্মীর সঙ্গে শুটিং ব্যস্ততায় আলাদা করে দেখা হয়ে উঠত না। তাঁদের দেখা হতো শুটিংয়েই। মেকআপ রুম বা সেটে দেখা হলেই উচ্ছ্বাসে-আনন্দে জড়িয়ে ধরতেন একে অপরকে। হাত মেলাতেন, কোলাকুলি করতেন, বড়রা আদর করে হাত বুলিয়ে দিতেন ছোটদের মাথায়। কিন্তু এখন স্পর্শতেই বিপদ। তাই শিল্পীদের সেই সৌজন্য সাক্ষাৎ চলছে দূর থেকে। অভিনেতা মোশাররফ করিম বলেন, ‘আগের মতো সেই করমর্দন বা কোলাকুলি হয় না। কিন্তু দূর থেকেই আত্মিক সম্পর্কটা বজায় রাখার চেষ্টা করছি।’

default-image

মহড়ায় বেড়েছে দূরত্ব

কোনো দৃশ্য শুরুর আগে তারকারাই বলে উঠতেন একটা মহড়া দিই। একদম চিত্রনাট্য অনুযায়ী বা মনের মতো না হলে বারবার চলত সেই মহড়া। এখন বেশির ভাগ শুটিং সেটে স্বাস্থ্য সচেতনতার কারণে করা হচ্ছে না কোনো মহড়া। কিছু সেটে মহড়া হলেও মাঝখানে থাকছে দূরত্ব। অভিনেতা জাহিদ হাসান বলেন, ‘ভালো অভিনয়ের জন্য অবশ্যই মহড়া প্রয়োজন। কিন্তু করোনার এই পরিস্থিতির জন্য কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তারপরও প্রাথমিকভাবে দূরে দূরে দাঁড়িয়ে মহড়া করার চেষ্টা করছি। ফাইনালি যখন শটে যাব, তখন মূল দৃশ্যটা করি।’

বাড়তি প্রস্তুতি

বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে তারকাদের। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় মেকআপ আর কস্টিউমের পাশাপাশি এখন বারবার দেখতে হয় স্যানিটাইজার, মাস্ক, চশমা ঠিকঠাক আছে কিনা। কারণ, শুটিং সেটে নিরাপদ থাকতে সব শিল্পীর লাগেজেই যুক্ত হয়েছে এই নতুন অনুষঙ্গগুলো।

কয়েক দিন আগে একটি নাটকে অভিনয় করেন তাহসান খান। বাসা থেকে বের হয়ে শুটিং সেটে আসা পর্যন্ত বেশ চিন্তায় ছিলেন তিনি। তাহসান বলেন, ‘যতটা একা থাকা যায়, সেই চেষ্টা করেছি। শুটিংয়ের জন্য যা যা প্রয়োজন, সব বাসা থেকে নিয়ে গিয়েছিলাম। বাসা থেকে বের হওয়ার সময় বেশ কয়েকবার ভেবেছি কিছু মিস হলো কি না। সময় নিয়ে নিতে হয়েছে শুটিংয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি।’

বিজ্ঞাপন
টেলিভিশন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন