default-image

৭২ দিন শুটিং বন্ধ থাকার পর ১ জুন শুরু হয়েছে শুটিং। ছোট পর্দার ১৪টি সংগঠন বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়ে গত ২৮ মে এই সিদ্ধান্ত নেয়। করোনার কারণে শুটিং নিয়ে অনেকের দ্বিমত থাকলেও বেশ কিছু নির্মাতা, শিল্পী, কলাকুশলী গত ১ মে থেকে সংগঠনের সব শর্ত মেনে শুটিং করছেন। তবে শুটিং সেটে সংগঠনের পক্ষ থেকে মনিটরিং সেল থাকার কথা থাকলেও তা ছিল না।

দুই মাসের বেশি সময় পর শুটিং শুরুর ঘোষণা এলে শুটিং হাউস মালিকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে। তারপরেও তাঁরা অনেকেই শঙ্কিত, শুটিং করবেন কি না সেটা নিয়ে। যদিও নিরাপত্তার জন্য সব ব্যবস্থা করে রেখেছেন। শুটিং বাড়ির মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁরা নিরাপত্তার জন্য পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংখ্যা বাড়াচ্ছেন। শুটিংয়ে সার্বক্ষণিক স্যানিটাইজার, স্যাভলন ও সাবানের ব্যবস্থা থাকবে। পা ধুয়েই সবাই শুটিং বাড়িতে প্রবেশ করবেন।
গতকাল আরটিভিতে প্রচারিত ‘চিটিং মাস্টার’ ধারাবাহিকের শুটিং শুরু হয়েছে আপনঘর-১ শুটিং হাউসে। অভিনয়শিল্পী ছিলেন আনিসুর রহমান মিলন, ডা. এজাজ, মনিরা মিঠু, আবদুল্লাহ রানা, চৈতি প্রমুখ। অভিনেতা আনিসুর রহমান মিলন বলেন, ‘শুটিং সেটে লোক কম। সবাই মাস্ক-গ্লাভস পরে কাজ করছেন। অনেক দিন বাসায় বসে ছিলাম, সেই সুযোগ এখন কমছে। তা ছাড়া আতঙ্কের জায়গাটা কাটিয়ে উঠতে হবে। নিজে কতটুকু নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করছি, সেটাই মুখ্য। আমি মেকআপ, খাবার, পানি, স্যানিটাইজার—সবই বাসা থেকে নিয়ে এসেছি।’
ঢাকার উত্তরায় ‘আপনঘর-১’ নামে একটি শুটিং বাড়িতে নিয়ম মেনেই শুটিং শুরু হয়েছে। নির্মাতা ছিলেন আবদুল কুদ্দুস মাতব্বর। অভিনয় করেছেন মনিরা মিঠু, আব্দুল্লাহ রানা ও রেজমিন সেতু। শুটিং সেটে নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী এবং অন্যান্য কলাকুশলী ছিলেন মাত্র ৭ জন।
এসএসসির ফলাফলের পর কেউ যেন আত্মহত্যা না করে, সে বার্তা নিয়ে এই শুটিং বাড়িতে তৈরি হচ্ছে তথ্যচিত্র। শুটিং সেট থেকে অভিনেত্রী মনিরা মিঠু বলেন, ‘শুটিং সেটে লোক কম থাকবে শর্তেই রাজি হয়েছি। নিরাপত্তার সব ব্যবস্থাই সঙ্গে আছে। মেকআপ, খাবার, স্যানিটাইজার বাসা থেকে নিয়ে এসেছি। সব সময় দূরত্ব বজায় রাখছি। এখন মৃত্যুভয় তো সব জায়গায়ই আছে। বাড়িতেও কি আমরা নিরাপদ? আমার ছেলে দুই মাস ধরেই রিকশা নিয়ে অফিসে যাচ্ছে। এখন কি মা হিসেবে বাড়ি ফিরলে তাকে বন্দী করে রাখব? সম্ভব নয়। বাসায় যেভাবে সচেতন থাকি, এখানেও সেই পরিবেশে সচেতন হয়ে কাজ করছি।’ নির্মাতা আবদুল কুদ্দুস মাতব্বর বলেন, ‘আমরা খুবই নিরাপত্তা নিয়ে শুটিং করছি। আমাদের টিম একদমই স্বল্প পরিসরে। পুরো বাসা আগে থেকেই স্প্রে করা ছিল। আমি আবার প্রডাকশন বয় দিয়ে স্প্রে করিয়েছি। হ্যান্ড গ্লাভস, মাস্ক, স্যানিটাইজার ব্যবহার করছি। সব সতর্কতা মেনে কাজ করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখনো সংগঠনের মনিটরিং সেল থেকে কোনো সদস্য আসেনি।’

default-image


শুটিং শুরুর আগে আন্তসংগঠনের নেতারা জানিয়েছিলেন, তাঁদের নির্দেশনা মেনে শুটিং হচ্ছে কি না সেটা দেখভালের জন্য একটি মনিটরিং সেল থাকবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিরেক্টরস গিল্ডের একজন নেতা বলেন, ‘গতকাল পর্যন্ত কোনো মনিটরিং টিম গঠিত হয়নি।’ এ ব্যাপারে জানতে ডিরেক্টরস গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক এস এ হক অলিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আগে আমাদের পরিকল্পনা ছিল, মনিটরিং সেল গঠন করা হবে। পরে সিদ্ধান্ত হয়েছে, যারা মনিটরিং টিমে থাকবে, তাদেরও নিরাপত্তা দরকার। তা ছাড়া করোনায় প্রতিদিন শুটিং সেটে মুভ করাটা মুশকিল। এ জন্য আমরা পরবর্তী নোটিসে জানিয়েছি, আন্তসংগঠন থেকে কোনো মনিটরিং সেল থাকছে না। তবে কোনো প্রয়োজনে আমাদের ইনফর্ম করলে সহযোগিতার চেষ্টা করব।’
শুটিং বাড়ির মালিকদের সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আলীম হোসেন বলেন, ‘আমাদের বাড়ি বুকিং শুরু হচ্ছে। আশা করছি, খুব শিগগির যথারীতি শুটিং শুরু হবে। আমরা আগেই বলে দিচ্ছি নির্মাতাদের টিম ছোট করার জন্য। বাসায় বিভিন্ন স্থানে বসা ও চলাফেরা থেকে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া আছে কাজ শেষে হাউসের সোফাসেট, অভিনয়ের রুম, বেডশিট যে স্থানে শুটিং করে, সেসব স্থান স্প্রে এবং পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে।’
শুটিংয়ের গ্রাম পুবাইলে খবর নিয়ে জানা যায়, সেখানে গতকাল থেকে ইউটিউবের জন্য বেশ কজন নির্মাতা কাজ শুরু করেছেন। ২ জুন থেকে হারুনের বাড়ি নামের শুটিং হাউসে পুরোদমে ছয় দিন শুটিং হয়। বিলবিলাই, শাহিনের বাড়িসহ অন্য বাড়ির মালিকদের কাছে প্রতিদিনই শুটিং বাড়ি বুকিংয়ের জন্য ফোন আসছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0