বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

টানা চার বছর ধরে অভিনয়শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক। সাংগঠনিক কাজে সহকর্মীরা কতটা খুশি?

সবাই সামনে বলে খুশি কিন্তু পেছনে কী বলে জানি না। আর যেকোনো সমালোচনা সব সময়ই আমি পজিটিভভাবে নিই। আজ অনেক সিনিয়র, জুনিয়র অভিনয়শিল্পীরা ফোন দিচ্ছেন, ফেসবুকে স্মরণ করছেন—এগুলো এটাই মনে করিয়ে দেয়, হয়তো আমার কাজে তাঁরা সন্তুষ্ট। এই আচরণ আমাকে আরও দায়িত্বশীল করে তোলে।

দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক মাস পর থেকেই শুরু হয় করোনা। এই করোনার মধ্যেই আপনাদের সময় শেষ—সময়গুলো কেমন ছিল?

আমরা দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাস পরেই করোনা শুরু হয়। তখন শুটিং বন্ধ থাকলেও আমাদের সাংগঠনিক কাজ বন্ধ ছিল না। ঘরে বসেই কাজ করেছি। করোনার মধ্যে যাঁরা সংকটে ছিলেন, তাঁদের ফোন দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছি। অর্থ সংগ্রহ করেছি। সবার কথা শুনেছি। কোনো অভিনয়শিল্পী বলতে পারবেন না আমরা কারও সংকটে পাশে দাঁড়াইনি। আমরা চেয়েছি এক হয়ে প্রতিকূল পরিবেশটা মোকাবিলা করতে।

default-image

চার বছর দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সহকর্মীদের কাছ থেকে কোন ধরনের অভিযোগগুলো বেশি পেয়েছেন?

বড় ধরনের তেমন কোনো অভিযোগ সেভাবে পাইনি। কেউ কেউ মনে করতে পারেন তাঁদের সমস্যা দেখিনি। অনেক সময় কিছু শিল্পী বিয়ে, ডিভোর্স অন্যান্য ব্যক্তিগত সমস্যার কথা আমাদের জানান। কিন্তু আমরা সাংগঠনিকভাবে অভিনয়শিল্পীদের ব্যক্তিগত বিয়ে, বিচ্ছেদের মধ্যে জড়াই না। তাঁরা হয়তো নিরুপায় হয়েই আমাদের সমস্যাগুলো জানান। কিন্তু সংগঠনের পক্ষ থেকে এ ধরনের সমস্যা সমাধান করতে গেলে অবস্থা অনেক সময় আরও জটিল হয়ে যায়।

প্রায়ই অভিযোগ থাকে অভিনয়শিল্পীরা দেরি করে শুটিংয়ে আসেন। অনেক সময় আগেই চলে যান। ইচ্ছেমতো সিডিউল বাতিল করার মতো ঘটনাও ঘটে। আপনারা চেষ্টা করেছিলেন শিল্পীদের নিয়মের মধ্যে আনার। কখনো কি মনে হয়েছে শিল্পীদের নিয়মের মধ্যে আনাটা কঠিন?

কঠিন নয়। আমাদের ৯৫ ভাগ শিল্পীই নিয়মের মধ্যে থেকে কাজ করেন। কিন্তু ৫ ভাগ অভিনয়শিল্পী নিয়মের মধ্যে আসেন না। নির্মাতা, চিত্রনাট্যকার, অভিনয়শিল্পী—সবাই শক্তভাবে এলে নিয়ম মানা সহজ। কারণ, কিছু আর্টিস্ট ও কিছু নির্মাতা শুটিং করতে দেরি করেন। অনেকের চিত্রনাট্য হাতে থাকে না। তবে আমরা চেষ্টা করছি সবাই মিলে শৃঙ্খলার মধ্যে কাজ করতে।

এই যে ৫ ভাগ শিল্পী দেরি করেন, এই দায়টা কার?

এই দায় সংগঠনের। ৫ ভাগ শিল্পীর উপলব্ধি করাতে হবে, সচেতনতা তৈরি করে বোঝাতে হবে, ৫ ভাগ অভিনয়শিল্পীর জন্য ৯৫ ভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তবে এটা নিয়ে জোর করা যাবে না। কারণ আগেই বলেছি, পরিবেশের কারণেও দেরি হয়। শুধু অভিনয়শিল্পীর একার দোষ নয়।

default-image

অভিনয় এবং সাংগঠনিক কাজের পাশাপাশি আপনি ব্যবসাও করেন—কোনটাতে আপনি বেশি মনোযোগ দিতে পারেন?

আমার কাছে সব কটিই গুরুত্বপূর্ণ। একসময় চেয়েছিলাম অভিনয় ছাড়া কিছুই করব না। পরে মনে হয়েছে, এখানে আমার ভবিষ্যৎ কী? আমি কতটা নিরাপদে বাঁচতে পারব? তখনই আমি অভিনয়ের পাশাপাশি অন্য পেশায় যুক্ত হয়েছি। আবার অভিনয়শিল্পীদের ক্যারিয়ারে নিরাপত্তার দরকার আছে। তরুণদের ক্যারিয়ারের এই নিরাপত্তা দেওয়ার জন্যই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে আপনার কোনো অতৃপ্তি আছে?

শুধু অভিনয় নিয়ে থাকতে পারলে তৃপ্তি পেতাম। আমার আরও ভালো কাজ করা প্রয়োজন। ভালো কাজের অতৃপ্তি রয়ে গেছে।

কেন অভিনেতা হতে চেয়েছিলেন?

বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। শুধু গান করতাম, পরে মঞ্চনাটকে জড়িত হয়ে অভিনয় ভালো লাগতে শুরু করে। পরে মনে হয়েছে অভিনেতাই হব।

আপনাদের মেয়াদ শেষ, আগামী নির্বাচনে কি অংশ নিচ্ছেন?

গত জুনেই আমাদের মেয়াদ শেষ হয়েছে। মহামারির কারণে সংগঠন থেকে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে কিছু সময় বাড়িয়ে নিয়েছি। আগামী ২৭ নভেম্বর আমাদের সাধারণ সভা। তখন পরবর্তী নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হবে। নির্বাচনে অংশ নেব কি না, এখনো বলতে পারছি না।

default-image
টেলিভিশন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন