default-image

১৯৭১ সালের মে-জুন মাস। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আক্রমণের মুখে একটি অবরুদ্ধ বাড়িতে আশ্রয় নেয় কয়েকজন মানুষ। তাদের ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন। একজন হিন্দু, একজন বৌদ্ধ এবং একটি মুসলিম পরিবার। এখান থেকেই শুরু হয় টেলিফিল্ম ‘অগ্নিফসল’।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ‘ঘুড্ডি’-খ্যাত নির্মাতা সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকী নির্মাণ করলেন বিশেষ টেলিছবি, শিরোনাম ‘অগ্নিফসল’। ঈদের চতুর্থ দিন বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে টেলিছবিটি চ্যানেল আইতে প্রচারিত হবে। যেখানে আফজাল হোসেন ও মৌসুমী মৌ অভিনয় করেছেন বাবা ও মেয়ের চরিত্রে।

default-image

দীর্ঘদিন পর চলতি বছরের শুরুতে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বানানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকী। প্রাথমিক কাজও শুরু করেছেন। তার আগে টেলিফিল্ম ‘অগ্নিফসল’ নির্মাণ করে চমকে দিলেন তিনি। নাটকটির শুটিংয়ের সময় আফজাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘তিনি পুনে ফিল্ম ইনস্টিটিউটের গোল্ড ম্যাডেলিস্ট। তিনি যখন কাজ করেন, আমার মনে হয়, আমার উচিত তাঁর সঙ্গে থাকা, আমি এভাবেই দেখি বিষয়টা।’ আফজাল হোসেন মনে করেন, সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকী যখন কোনো কাজ করেন, তখন গল্পটা কী, সেটা ভাবার দরকার হয় না। যা-ই করেন, সেটার সঙ্গে থাকতে পারলে ভালো লাগে। আফজাল বলেন, ‘সেই প্রথম থেকে জাকী ভাই যখন বাচ্চাদের তথ্যচিত্র বানাতেন, তখনো তাঁর সঙ্গে থাকতাম। এরপর থেকে যখনই তিনি কোনো ছবি বানিয়েছেন, আমি ছিলাম। এই নাটক লেখার পর “করতে চাই, করতে চাই” বলে আমার সঙ্গে তাঁর ভাবনা শেয়ার করেছিলেন। তিনি যখন বলেন, আমি কোনো কিছু ভাবি না। তাঁর সঙ্গে কাজ করা মানেই আমার কাছে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ।’

default-image

তরুণ অভিনেত্রী, উপস্থাপক মৌসুমী মৌ দারুণ অনুপ্রাণিত সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকীর নির্দেশনায় কাজ করে। তিনি নিবিড়ভাবে অনুসরণ করছেন অভিনয় নির্দেশনার। কারণ, এর মধ্যে মৌ কাজ করেছেন এই নির্মাতার বিশেষ টেলিছবি ‘অগ্নিফসল’-এ। যার মাধ্যমে এই নতুন অভিনেত্রী সুযোগ পেলেন আরেক সফল নির্মাতা-অভিনেতা আফজাল হোসেনের সঙ্গে অভিনয় করার। মৌসুমী মৌ বলেন, ‘আমি মূলত একজন উপস্থাপক। এর আগে অভিনয়ের অনেক প্রস্তাব পেলেও নানা কারণে করা হয়নি। কিন্তু সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকী স্যারের কাছ থেকে অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়ে অন্য কিছু আর ভাবিনি। তাঁর মতো একজন মানুষের সঙ্গে কাজ করা আমার কাছে স্বপ্নের মতো। কেমন করেছি জানি না, তবে আমার সর্বোচ্চটুকু দিয়ে চেষ্টা করেছি।’

মৌসুমী মৌ আরও বলেন, ‘এই টেলিছবি করতে গিয়ে জাকী স্যার এবং আফজাল স্যার দুজন জীবন্ত কিংবদন্তির সান্নিধ্য পেয়েছি। আফজাল স্যার আমার বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছেন। পুরোটা সময় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন কীভাবে কী করব। আর জাকী স্যারের কথা বলে শেষ করা যাবে না। তাঁর কাছে আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। তিনি আমাকে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছেন। তাঁকে আমার কাছে একজন পূর্ণাঙ্গ শিক্ষক মনে হয়েছে। তাঁর পরিচালনায় অভিনয় করা আমার জীবনের অনেক বড় অর্জন।’

default-image

টেলিছবিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আরও অভিনয় করেছেন ইয়াশ রোহান, ফারহানা মিঠু, তৌফিকুল ইসলাম ইমন, পৌশাল প্রমুখ। লাকী আখান্দের সুর ও সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকীর লেখা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত ‘ওই চেয়ে দেখ পূর্বাকাশ ফিকে হলো’ গানটি এই টেলিছবিতে ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন
টেলিভিশন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন