default-image

প্রবীণ অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় অত্যন্ত গভীর সংকটে। তাঁর চেতনা স্তর এক ধাক্কায় নেমে গেছে ৫-এ। গ্লাসগো কোমা স্কেলে একজন সুস্থ মানুষের এই চেতনা স্তর থাকে ১৫। কিন্তু মস্তিষ্কে করোনা প্রভাবের জন্য তাঁর এই চেতনা স্তর গত ২০ অক্টোবর ৯-এ নেমে যায়। সেই থেকে এই চেতনা স্তর কয়েক দিন ধরে ৯ থেকে ১০-এ ছিল। কিন্তু গতকাল শুক্রবার রাতে সেই চেতনা স্তর ৫-এ নেমে গেছে। এই ঘটনা ঘটার পর সৌমিত্রের চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত ১৬ সদস্যের মেডিকেল টিমের সদস্যরা দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। গতকাল রাতেই চিকিৎসক দলের প্রধান ক্রিটিক্যাল বিশেষজ্ঞ অরিন্দম কর জানিয়েছেন, এই চেতনা স্তর ৩-এ নেমে গেলে চিকিৎসা শাস্ত্রে ব্রেন ডেথ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যদিও এখনো সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় চেতনাহীন অবস্থায় কলকাতার বেলভিউ নার্সিংহোমের ভেন্টিলেশনে রয়েছেন। তাঁর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা কম।
যদিও তাঁকে সুস্থ করার জন্য বৃহস্পতিবার প্লাজমা থেরাপি দেওয়া হয়। এর আগে বুধবার তাঁর দুটি কিডনিরই ডায়ালাইসিস করা হয়।

default-image

তবে কিডনি এখনো পুরোপুরি কাজ করছে না। গতকাল শুক্রবার বিকেলে হঠাৎ করে তাঁর হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়ায় প্রচণ্ডভাবে অসুস্থ বোধ করেন এই প্রবীণ অভিনেতা।

বিজ্ঞাপন

গতকাল জ্বরও দেখা দেয়। কিডনি বন্ধ করে দেয় কাজ করা। গতকাল তাঁর আলট্রাসনোগ্রাফি করা হয়। কিন্তু হৃদযন্ত্র এবং কিডনি সেভাবে সাড়া দেয়নি।

default-image

গতকাল শুক্রবার রাতে অবশ্য চিকিৎসকেরা তাঁর অস্থিরতা কমাতে পারলেও বলেছেন, অত্যন্ত সংকটে রয়েছেন তিনি। আগামী ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা তাঁর জন্য সংকটপূর্ণ সময়। চিকিৎসকেরা তাঁকে সুস্থ করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সৌমিত্রের শ্বাসনালিতে বুধবার সফল অস্ত্রোপচার বা ট্রাকিওস্টমি করার পর বৃহস্পতিবার তাঁকে দেওয়া হয় তৃতীয়বারের মতো প্লাজমা থেরাপি। এ সময় তাঁর জ্বর উঠলেও কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বরং সফলভাবে করা হয়েছে প্লাজমা থেরাপি। এতে করে তাঁর বাহ্যিকভাবে কোনো রক্তক্ষরণের ঘটনাও ঘটেনি। তবে ওই সময় তাঁর রক্তচাপ কিছুটা কমলেও পরে তা ঠিক হয়ে যায়। এদিন তাঁর জ্বরও ওঠে। এদিন প্রবীণ এই অভিনেতার সিটি স্ক্যান করা হয়। সিটি স্ক্যানের রিপোর্ট সন্তোষজনক বলে হাসপাতালের চিকিৎসকেরা রাতেই জানিয়েছেন।
সৌমিত্রের চিকিৎসক দলের প্রধান চিকিৎসক অরিন্দম কর গতকাল গভীর রাতেই জানিয়ে দেন, প্লাজমা থেরাপি দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাঁর হৃৎস্পন্দন অনিয়মিত হয়ে পড়ে। এতে অনেকটাই দুশ্চিন্তায় পড়ে চিকিৎসক দল।

এরপর চিকিৎসকেরা ধীরে ধীরে তাঁকে সুস্থ করে তোলেন। কিন্তু গতকাল শুক্রবার বিকেলে তাঁর হৃৎস্পন্দন হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ায় এবং তাঁর চেতনা স্তর হঠাৎ করে কমে যাওয়ায় চিকিৎসকেরা দুশ্চিন্তায় পড়েন। যদিও এক দিন অন্তর এক দিন প্লাজমা থেরাপি ও কিডনির ডায়ালাইসিস করার সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকেরা। তবে এখনো তাঁর জ্ঞান ফেরেনি। রয়েছেন প্রায় চেতনাহীন অবস্থায়। তাঁর ফুসফুসে আরও বেশি করে অক্সিজেন পৌঁছানোর জন্য গতকাল বাড়ানো হয়েছে অক্সিজেনের মাত্রা।

default-image

আজ ৪১ দিন ধরে কলকাতার বেলভিউ নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। রয়েছেন এখনো ভেন্টিলেশনে। ২৪ অক্টোবর রাত থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থার মূলত অবনতি হতে থাকে। তারপর ধীরে ধীরে তিনি চেতনাহীন হয়ে পড়েন। এখনো তিনি অনেকটাই চেতনাহীন অবস্থায় রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
default-image

১ অক্টোবর থেকে বাড়িতে থাকাকালীন তাঁর শরীরটা ভালো যাচ্ছিল না। শরীরে জ্বর ওঠে। তবে করোনার কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি। এরপরই চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁর করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হলে গত ৫ অক্টোবর তাঁর করোনার পজিটিভ রিপোর্ট আসে। ৬ অক্টোবর মঙ্গলবারই তাঁকে ভর্তি করানো হয় বেলভিউ নার্সিংহোমে। নার্সিংহোমে সর্বশেষ গত ১৪ অক্টোবর তাঁর করোনার নমুনা পরীক্ষায় নেগেটিভ রিপোর্ট আসে। এরপরই সৌমিত্র সুস্থ হতে থাকেন। যদিও তাঁর করোনা ছাড়া অন্যান্য রোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রোস্টেট ক্যানসার, সিওপিডি, প্রেশার, সুগারের মতো রোগ। তার ওপর তিনি ছিলেন করোনা পজিটিভ। কিন্তু দুর্গা অষ্টমীর রাত থেকে তাঁর স্বাস্থ্যের ক্রম অবনতি শুরু হয়।
সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের বয়স এখন ৮৫ বছর। ১৯৩৫ সালের ১৯ জানুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে।

default-image
মন্তব্য পড়ুন 0