বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

২০ বছরের বেশি সময় ধরে শিল্পনির্দেশক হিসেবে কাজ করেন জিয়াউর রহমান। তিনি বলেন, ‘এমনও দিন গেছে, পরিচালকের প্রপস হিসেবে চেয়ার, চুরুট, রেডিও, তালা পছন্দ না হওয়ায় সারা দিন শুটিং স্থগিত ছিল। এখন নাটকের বাজেট কমে যাওয়ার কারণে নির্মাতারা আগেই বলে দেন, হুবহু প্রপস দরকার নাই, কাছাকাছি কিছু একটা হলেই হবে। যদিও এখনো অনেক নির্মাতা ছাড় দেন না।’

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) চার নম্বর ফ্লোরের স্টোররুমে প্রপস রাখতেন সাহেব আলী। ভবনটি ভেঙে ফেলা হলে তিনি প্রপস নিয়ে চলে যান রাজধানীর মগবাজারে। তাঁর কাছে আছে পুরোনো দিনের ঐতিহ্যবাহী পোশাক, থালাবাসন, বয়স্ক মানুষের লাঠি, টেলিভিশন, রেডিও ইত্যাদি। তিনি বলেন, এখন পুলিশের পোশাক, জমিদারদের পোশাক, যুদ্ধের বর্ম বেশি চলে। কারণ, এগুলোর বিকল্প পাওয়া যায় না। আবার অনেকে ভাড়া নিয়ে ফেরত দেন না। এভাবে প্রপস হারিয়েও যাচ্ছে। ব্যবসা আগের মতো না চলায় প্রপস কেনাও হয় কম।

default-image

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী একজন শিল্পনির্দেশক বলেন, আগে নাটকে শিল্পনির্দেশকের জন্য আলাদা বাজেট থাকত। চিত্রনাট্যে আলাদা করে প্রপসের তালিকা লেখা থাকত। এখন একটু সময় নিয়ে খুঁজতে হয় এমন প্রপসই কেউ রাখতে চান না। এখন নাটকের চিত্রনাট্যে গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রপস রাখলেই ছেঁটে ফেলা হয়। তবে তারকাভেদে প্রপসের ওপর গুরুত্ব দেন নির্মাতারা। এখন সবাই শুধু চকচকে ফ্রেম চান। কালেভদ্রে রবীন্দ্রনাথের, নজরুলের এবং মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষাকেন্দ্রিক নাটক নির্মাণ করা হয়। সেসব নাটকেও দেখা গেছে, কালো জুতার জায়গায় কালো স্যান্ডেল দিয়ে চালানো হয়েছে। চিত্রনাট্যকারেরাও এসব আর লেখেনও না। কিন্তু পুরোনো অনেক প্রপস সংগ্রহ করে রাখা জরুরি হয়ে পড়েছে।’

ধারাবাহিক নাটক ডিগবাজির নির্মাতা সুজিত বিশ্বাস বলেন, ‘নাটক থেকে প্রপসের ব্যবহার উঠে যেতে বসেছে। এর কারণ, আমরা বাজেট কম পাই। ধারাবাহিকের বাজেট তলানিতে ঠেকেছে। তা ছাড়া অনেক সময় চিত্রনাট্য ছাড়া শুটিং করতে হয়। এ জন্য আগে থেকে প্রপস কী, সেটা জানতে পারি না। নিরুপায় হয়ে আমাদের ধারাবাহিক থেকে প্রপস বাদ দিতে হয়। তারপরেও চেষ্টা করি প্রপস ব্যবহার করতে। ’ তিনি আরও জানান, ‘এখন সবাই ওয়েব মাধ্যমে কাজ করার জন্য নাটককে গুরুত্ব দিতে শুরু করেছেন। কারণ নাটকে ভালো না করলে ওয়েবে কাজ পাওয়া যাবে না।’

default-image

তবে নাটকের তুলনায় ওয়েবের কনটেন্টে প্রপসের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এই কেন্দ্রিক প্রপসের চাহিদাও বাড়ছে। নাটক, সিনেমা কিংবা ওয়েব সিরিজে একজন অভিনয়শিল্পী যতটা গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ তাঁর ব্যবহৃত জিনিসপত্র। তিনি যে পাইপ দিয়ে সিগারেট খাচ্ছেন, যে জুতা পরেছেন, হাতে যে ফাইলটা নিয়ে হাঁটছেন, চোখে যে চশমা ব্যবহার করছেন, সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন নির্মাতা অমিতাভ রেজা। তাঁর নিজের একটি ‘প্রপস শপ’ নামে প্রপস হাউস আছে। তিনি বলেন, ‘এখন নাটকে প্রপসের ব্যবহার নেই বললেই চলে। প্রপস ছাড়া অনেকেই শুটিং করেন। এর যে আলাদা একটি গুরুত্ব আছে, এটা নির্মাতা, চিত্রনাট্যকার বুঝতে চান না। কিন্তু ওয়েব সিরিজ, ফিল্ম, বিজ্ঞাপনে দিন দিন প্রপসের চাহিদা বাড়ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সঙ্গে আমাদের প্রতিযোগিতা বাড়ছে। আগে আমাদের সেভাবে আর্ট ডিরেক্টর ছিল না। এখন অনেক আর্ট ডিরেক্টর নিয়মিত কাজ করছেন। কাজের পরিবেশটাও বদলে যাচ্ছে।’

টেলিভিশন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন